Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাংলাদেশি তরুণদের ভবিষ্যৎ কী?

বাংলাদেশের সামাজিক সংকট এড়াতে হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সম্প্রতি ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস ও বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সভায় এ কথা বলা হয়। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে, তবে উদ্যোগ নেওয়ার মতো উদ্যমী সবল প্রাণও রয়েছে। ভবিষ্যত্ হতাশাজনক বলে সবাই মনে করেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর তথ্যমতে, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০২৫ সাল নাগাদ ১৯ কোটিতে পৌঁছাবে। এই জনসংখ্যার ৪৩ ভাগের বয়সই থাকবে তিরিশের নিচে।

সরকারের পরিকল্পনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম ওই আলোচনা সভায় বলেছিলেন, উত্পাদন, নির্মাণ ও সেবা খাত বৃদ্ধির ফলে ২০১৫ সালের মধ্যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

তবে এ তথ্যকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটির (ব্র্যাক) পরিচালক মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর ১২ লাখ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা মানুষ চাকরির সুযোগ পাবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে মূল ভূমিকা পালন করছে পোশাক শিল্প।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আসছে বলে মাহবুব হোসেন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই বৈচিত্র্য নিয়ে আসছে চামড়া ও ওষুধের শিল্পের মতো কয়েকটি শিল্পে ব্যাপক উন্নতি। এ ছাড়া ইটের উত্পাদন ও সিমেন্ট খাতেও বড় ধরনের সাফল্য আছে। তিনি বলেন, আমাদের মূল কর্মশক্তির এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে চাকরির সন্ধানে রয়েছে। এটিও চাকরির বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তবে মাহবুব হোসেনের মতো সবাই কর্মসংস্থান নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না। এঁদেরই একজন কামাল আনোয়ার। আগামী বছর শিক্ষাজীবন শেষ করতে যাওয়া আনোয়ার তাঁর ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই প্রকৌশলী। একটি প্রতিষ্ঠান তাঁকে চাকরি দেওয়ার আগেই এক মাসের বেতনের পরিমাণ টাকা জমা দিতে বলে। আমার ভাইয়ের কাছে ওই টাকা নেই। আমার পরিবারও টাকার জোগান দিতে পারেনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, তিনি যখন শোনেন অনেক ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করার পরও অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না, তখন বেশ মর্মাহত হন। তিনি বলেন, সরকার যদি এখনই কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না করে, তাহলে তরুণদের চাহিদার ধরন বদলে যেতে পারে। মিসরের তাহরির স্কয়ারের আন্দোলনের মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা বলে বলা হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এদেশের তরুণদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন আসবে না।

তবে এদেশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা মনে করেন তরুণেরা তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে সরকারের প্রতি নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভালো কিছু করবেন। এঁদেরই একজন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অনেক তরুণের চাকরি নেই। তবে তাদের অনেক কিছু করার আছে। তরুণদের ঘুম থেকে জেগে উঠে বলা উচিত, আমি চাকরিপ্রার্থী নই; আমি চাকরি সৃষ্টিকারী।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, গ্লাসগো কোলেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণেরা নিজেরাই এমন দোকান দিতে পারেন।

খালেদ আহমেদ নামের একজন জানান, তিনি চাকরির জন্য অপেক্ষা করেননি। পড়াশোনা শেষ করার পর কিছুদিন একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। তারপর বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ক্যামেরা কিনে বিয়ের ছবি তুলতে শুরু করেন। এখন তিনি ওয়েডিং স্টোরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এখানে সাতজন কাজ করেন। বিবিসি অনলাইন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট