Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত

পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচি পালনের অনুমতি না দেয়ায় আগামীকাল সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছিল প্রধান বিরোধী জোটের অন্যতম এই দলটি। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন জামায়াতকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জামায়াতকে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়নি। সমাবেশ করতে না দেয়া দুপুরে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হরতাল আহবানের খবর জানিয়ে তিনি এই হরতাল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতারা কারাগারে রয়েছেন। সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চলতি বছরের শেষের দিকে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় হবে। নেতাদের কারাগারে নেয়ার প্রতিবাদে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। সম্প্রতি কর্মসূচি পালনকালে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বেশ কয়েকস্থানে পুলিশের ওপর হামলা করে সমালোচিত হয়। তবে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তাদের কর্মসূচিতে পুলিশই বাধা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করছে।

এদিকে দুপুরে নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জোট নেতারা আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, বিকালের সমাবেশে বাধা দিলে হরতাল দেয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী হরতাল দিলে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট সমর্থন দিবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

হরতাল ঘোষণা করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা বাস্তবায়নের দিকে নজর না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় লিপ্ত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক দল। আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী।
শফিকুর রহমান বলেন, কিন্তু সরকারের চার বছরের মেয়াদকালে জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, অধিকন্তু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিকভাবে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। সরকারের এসব জুলুম-অত্যাচার মোকাবেলায় ধৈর্যসহকারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। গত ২৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশাব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি তো দেওয়াই হয়নি, উপরন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত কড়া ও রূঢ় ভাষায় বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের কোথাও জামায়াতকে সমাবেশ ও মিছিল করতে দেওয়া হবে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি বলেছেন- জামায়াত সভা ও মিছিলের অনুমতি নেয়নি এবং আবেদনও করেনি। অথচ গত ২৯ নবেম্বরই ঢাকা মহানগর জামায়াতের সব শাখার পক্ষ থেকে সারাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এ সব ঘটনা প্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট