Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রানওয়ের সংস্কার কাজ শুরু রাতের ফ্লাইট দিনে

০৩ ডিসেম্বর: শুরু হয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের সংস্কার কাজ। মেরামত করা হবে ১০,৫০০ ফুট রানওয়ের। বর্তমান রানওয়ের ওপর দেয়া হবে ২০ সেন্টিমিটার অ্যাসফল্ট কংক্রিট আস্তরণ। এ কাজ শুরুর পর থেকে রাতের সকল ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক। এখন রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে সব রকমের ফ্লাইট ওঠানামা। ফলে সারা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকছে। এ অবস্থা থাকবে আগামী ৬ মাস। ২০১৩ সালের ৩০শে মে কাজ শেষ হবে। তারপর থেকে আবার শুরু হবে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা।
এদিকে রাতে বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়ায় সিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে বিমান সংস্থাগুলোকে। কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রায় ৫ মাস আগেই সব বিমান সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে তারা টেকঅফ ও ল্যান্ডিংয়ের সময় পুনঃনির্ধারণ করে নিতে পারে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট সিডিউল পরিবর্তনও করেছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে বেশির ভাগ বিদেশী বিমান অবতরণ করে মধ্যরাতে বা তারপর। প্রতিদিন রাতে ৪০ থেকে ৪৫টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এমিরেটস, গাল্‌ফ এয়ারের মতো বিদেশী অনেক সংস্থার ফ্লাইট নামতো রাতে ও ভোরে। রানওয়ে সংস্কার কাজ শুরুর কারণে ওই সব বিমানের ফ্লাইট আসছে এখন দিনে। ফলে বিমানবন্দরে চাপ বেড়েছে দিনের বেলা। ওই সময় দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে  যাত্রীদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তি। আগামীতে এ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। খোদ সিভিল এভিয়েশন থেকেই এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। তাদের মতে, টানা ছয় মাস প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকলে যাত্রী দুর্ভোগ এড়ানো যাবে না। গতকাল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সরজমিন বিমানবন্দরে অবস্থান করলে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী ও দর্শনার্থীর বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেবিচকের পরিচালক-সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন, উইং কমান্ডার এসএম নাজমুল আনাম বলেছেন, আমরা সব ধরনেরই প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না। তিনি জানান, ওই সময় জরুরি অবতরণের প্রয়োজনের সুবিধার্থে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রস্তুত করা হয়েছে। যে কোন প্রয়োজনে সেটি ব্যবহার করা হবে।
বেবিচক জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ১৯৯৬ সালে রানওয়ের মেরামত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর পর পর সংস্কারের কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা করা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালে বিমানবন্দরের রানওয়ের আয়ুষ্কাল শেষ হয়। সময়সীমা পার হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর সংস্কার কাজে হাত দিলো সরকার। এ জন্য ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। গত মার্চে দেশের প্রচলিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন-পিপিআর অনুসরণ করে মেসার্স আবদুল মোনেম লিমিটেডকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তারাই রানওয়ে সংস্কার ও শক্তি বাড়ার জন্য এসফল্ট কংক্রিট আস্তরণ বসানোর কাজটি করছে। এ কাজের ডিজাইন, ডকুমেন্টেশন এবং সুপারভিশনের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলে উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়ন। বর্তমানে রানওয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। অনেক জায়গায় আস্তরণ উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। বারবার এসব জোড়াতালি দিয়ে ভরাট করে কোন রকমে উপযোগী রাখা হয়েছিল আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট