Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রুয়েট ভিসি’র গোপন ক্যাসেট ফাঁস করলো আন্দোলনকারীরা

 রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অপসারণের দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। গতকাল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ভিসি’র রেজাল্ট জালিয়াতির বৈঠকের রেকর্ডও সাংবাদিকদের শোনান। এদিকে, এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য আজ সকাল সাড়ে ১০টায় উভয়পক্ষকেই সিটি মেয়র তার দপ্তরে ডেকেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ড. এনএইচএম কামরুজ্জামান সরকার হিরু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভিসি এই রেজাল্ট জালিয়াতি এবং তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি এবং পরীক্ষা কমিটির প্রধানসহ অন্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। রেজাল্ট জালিয়াতি করার জন্য উপাচার্যের নির্দেশে যে পরীক্ষা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছিল তাতে ভিসির রেজাল্ট জালিয়াতির চেষ্টাকে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, বিভাগের প্রধান এবং অন্য সদস্যরা সমর্থন করেননি।
ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও রুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, রেজাল্ট জালিয়াতির পরীক্ষা কমিটির সভায় ভিসির বক্তব্য ছিল এমন- ‘এই রেজাল্ট যদি একাডেমিক কাউন্সিলে পাঠানো হয় তাহলে তা সেখানে পাস হবে না। তাই এই মিটিংয়ে (পরীক্ষা কমিটির মিটিং) ২.৯৭ রেজাল্টকে ২.৯৯ বা ৩.০০ করে পাঠালে তা ওই মিটিংয়ে পাস হবে। তখন ওই রেজাল্ট জালিয়াতির পরীক্ষা কমিটির ওই মিটিংয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন যে, এই কাজটি আমরা করলে এখানে তো আপনার কোন স্বাক্ষর থাকছে না (কারণ তিনি পরীক্ষা কমিটির কেউ নন) বা এটি যে আপনিই করছেন তার তো কোন প্রমাণ থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে ভিসি বলেন, ‘এটি (রেজাল্ট জালিয়াতি) তো গল্প করার কোন বিষয় নয়; তোমরাও এ বিষয়ে কাউকে বলবে না বা আমিও কাউকে বলব না। যদি কেউ জেনেই যায় তাহলে কয়েক দিন পরে এটা আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যাবে। যদি এটি নিয়ে বেশি সমস্যা হয় (যারা সমস্যা করবে) তাহলে বলব- ‘মামলা করেন’। ‘আর মামলা যেহেতু একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া সেহেতু মামলা হতে হতে সব কিছু ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।’ পরে তিনি সাবেক মহানগর পুলিশ কমিশনার ওবাইদুল্লাহর ভয় দেখিয়ে (রেজাল্ট জালিয়াতির মিটিংয়ের অন্য সদস্যদের) বলেন, ‘আপনারা এ কাজটি করলে যে ক্ষতি হবে তার চেয়ে না করলে আরও বেশি ক্ষতি হবে। কেন না তার হাতে (পুলিশ কমিশনার) অনেক ক্ষমতা।’
এদিকে ভিসি প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে এখনও পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থিত তার বাসভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।
ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভিসির অপসারণের দাবিতে শত বাধা-বিপত্তি এলেও আমরা আমাদের ন্যায্য আন্দোলন চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তিনি অপসারিত হবেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
রুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সিরাজুল করিম চৌধুরী বলেন, আসলে এগুলো কোন বিষয় নয়। আসল কথা হচ্ছে, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ, টেন্ডার, দুর্নীতি করতে দেয়া হয়নি। তাদের আন্দোলন আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না। তাদের আন্দোলনের ব্যাপারে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দ্বিতীয়বারের মতো উভয় পক্ষকে নিয়ে আজ নগর ভবনে বসবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিফাত নামে এক শিক্ষার্থীর (সাবেক পুলিশ কমিশনারের ছেলে) ফলাফল দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার অভিযোগে গত ১৫ই নভেম্বর থেকে ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে ঐক্য পরিষদ। এ ঘটনায় চৌদ্দজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট