Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ফেনসিডিলসহ আটক বিচারক কারাগারে, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

ফেনসিডিলসহ আটক সিনিয়র সহকারী জজ জাভেদ ইমাম টুটুলকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এ অবস্থায় বিচারক জাভেদকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অবশ্য তার পরিবারের দাবি, জাভেদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
জাভেদের গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার এসআই নূর হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতে রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩। বিক্রির জন্য নিজ হেফাজতে ফেনসিডিল রাখায় ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯৯১ ধারায় এ মামলা হয়েছে। মামলার বাদী এসআই নূর হোসেন জানান, শনিবার রাতে নিউ মার্কেটের রাফিন প্লাজার সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে জাভেদ ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাদা রঙের মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ ১১-৭০৯৬) নিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় ঘুরছিলেন। বিষয়টি আমি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। মাইক্রোবাসের গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর আমরা গাড়িটি ঘিরে ফেলি। ওই সময় পথচারীরাও গাড়ির সামনে ভিড় করে। গাড়ির চালকের আসনে বসেছিলেন জাভেদ। গাড়িতে আর কোন লোক ছিল না। আমরা জাভেদকে চ্যালেঞ্জ করে তার দেহ তল্লাশি করি। তার কোমর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করি। এরপর জাভেদ নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, পিস্তলটি আমার নামে লাইসেন্স করা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জাভেদ জানায়, তার গাড়িতে ফেনসিডিল রয়েছে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা সাদা রঙের একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৩শ’ এবং গাড়ির কাভারের নিচ থেকে ৪২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করি। এর দাম ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কালো রঙের একটি ম্যাগাজিন থেকে ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার হেফাজতে ২টি সাদা কাগজের ফর্দ পাওয়া যায়। এ ফর্দ মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাভেদ জানিয়েছেন। এসআই নূর হোসেন জানান, গত ১ বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাভেদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। একারণেই পরিবারের সদস্যদের এড়িয়ে চলছিলেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ চালানে তার ১০০০ বোতল ফেনসিডিল ঢাকায় আনার কথা ছিল। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতা না পাওয়ায় তিনি ৫০০ বোতল ফেনসিডিল নিয়ে ঢাকায় আসেন। ১৫০ বোতল ফেনসিডিল ডিলারদের কাছে দেয়ার পর বাকি ফেনসিডিলগুলো বিক্রির জন্য ডিলার খুঁজছিলেন। গাড়িতে থাকা ফেনসিডিলগুলো বিক্রির জন্য জাভেদ তার মোবাইল ফোন থেকে লিংকন নামে একজনকে বেশ কয়েকবার ফোন দিচ্ছিলেন। কিন্তু লিংকন এসব নেয়ার জন্য সুবিধাজনক জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। লিংকনের হাতে ফেনসিডিল পৌঁছে দিতে জাভেদ বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়েছিলেন। যেসব স্থানে তিনি ফেনসিডিল পৌঁছে দিতে যান সেসব স্থানের মধ্যে রয়েছে- শাহবাগ, চানখাঁরপুল, টিএসসি, টিটি কলেজ এবং ঢাকা কলেজ গেট। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, জাভেদ যেসব ডিলারের কাছে ফেনসিডিল সরবরাহ করতেন তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাভেদের দেয়া তথ্যের সত্যতা মিললে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তার সঙ্গে জড়িত চক্রটি যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোলার সিনিয়র সহকারী জজ জাভেদ ইমামের পিতার নাম খালিদ ইমাম। মা দিলারা ইমাম। স্থায়ী ঠিকানা ঝিনাইদহ সদরের ওয়্যারলেস পাড়ার সিদ্দিকীয়া সড়ক। স্ত্রী ইলা একজন গৃহবধূ। ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর মডেল হাইস্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি ও ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ থেকে ২০০০ সালে তিনি এইচএসসি পাস করেন। ২০০৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন।
গতকাল বিকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাভেদ ইমামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে- একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ গুরুতর অসদাচরণের শামিল। কোন সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বলে গণ্য হওয়ার বিধান আছে।
জাভেদ ইমাম টুটুলের পিতা খালিদ ইমাম জানান, আমি থাকি ঝিনাইদহে। চাকরি সূত্রে টুটুল সস্ত্রীক থাকেন অন্যত্র। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আমি তেমন কিছু বলতে পারবো না। তবে  যতটুকু জানি- সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। আইনজীবীদের একটি মারামারির ঘটনায় যশোরে তার কিছু শত্রু হয়েছিল। কয়েকজন আইনজীবীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এর বাইরে তার কোন শত্রু আছে কিনা আমার জানা নেই। জাভেদের চাচা পারভেজ ইমামও একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন- সে ষড়যন্ত্রের শিকার। কি কারণে এ ষড়যন্ত্র এ মুহূর্তে তা বলতে পারছি না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট