Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পোশাক শিল্পের অস্থিরতায় সঙ্কটের মুখে অর্থনীতি

২ ডিসেম্বর : বৈদেশিক আয়ের প্রধানতম খাত তৈরি পোশাক শিল্প নানামুখী সঙ্কটে আবর্তিত। দেশের ৬০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের এ খাত সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের অভাবে বর্তমানে নতুন নতুন ঝুঁকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আর সম্প্রতি তাজরীন ফ্যাশনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল সম্ভাবনার এ খাত বিদেশে প্রচুর সমালোচনায় পড়েছে। এতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একদিকে তার ভাবমর্যাদা হারিয়েছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে ৭০ ভাগ অর্থনীতি সরাসরি জড়িত। যা দেশের রফতানির ৭৮ শতাংশ আয় করছে এবং জিডিপিতে ১০ শতাংশেরও বেশি অবদান রেখে আসছে।
তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লেগে ১২৪ জনের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংস্থা বেশ সরব সমালোচনা করেছে। ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন বলেছে, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সেসব বিখ্যাত ব্র্যান্ড দায়ী, যারা তাজরীনকে কাজ দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ওয়ালমার্ট এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রয়ের সব চুক্তি বাতিল করেছে।
নাসরুল্লাহ নামের এক গার্মেন্ট শ্রমিক জানান, কারখানায় শ্রমিকদের কোনো অধিকার নেই। তাদের কাছ থেকে অমানবিকভাবে কাজ আদায় করা হয়। কিন্তু কোনো ধরনের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। তাইতো বিভিন্ন ইস্যুতে যখন পরিবেশ অশান্ত হয়ে যায়, তখন শ্রমিকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
তিনি আরও জানান, কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নেই, শ্রমিকদের কোনো নিয়োগপত্র দেয়া হয় না, কাজের শর্তগুলো নির্দিষ্ট থাকে না। আর অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবেই কাজ করায় যে কোনো সময় চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের জীবিকার মাধ্যম কারখানাকে আপন ভাবতে পারে না।
সূত্র জানিয়েছে, আশির দশকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটে। কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়ায় এ খাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল মুনাফা করা সম্ভব হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ এ খাত থেকে আসে, সেহেতু এ খাতের সঙ্গে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ওপ্রোতভাবে জড়িত। পোশাক শিল্পে সঙ্কট শুরু হয়ে গেলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
পোশাক খাতের ক্রমাগত অস্থিতিশীলতা রফতানি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৬৬৩ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার রফতানি হয়েছে। আর এ সময়ে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৬৫ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিটওয়্যার এবং ওভেন গার্মেন্ট পণ্যে ২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রফতানি আয় কম হয়েছিল।
গত অর্থবছরের শেষ চার মাসে রফতানি অর্ডার প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এতে ওই অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ৪২৮ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার অর্জন হয়েছিল। এতে লক্ষ্যমাত্রার ২২১ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার রফতানি আয় কম হয়েছিল। এতে ১৫ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধির বিপরীতে মাত্র ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছিল।
সূত্র বলেছে, পোশাক খাত বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে। এ শিল্পের অস্থিতিশীলতায় বিদেশি ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ক’দিন আগেই চীনের বাজার বাংলাদেশে চলে আসার সংবাদ এসেছিল। আর শ্রমিক নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যে ধরনের প্রচারণা পেয়েছে, সেটাকে অনেকটা পরিকল্পিত বলেই মনে করা হয়। আর আমিনুল হত্যায় সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে যে টানাপড়েন চলছে, তার প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি পোশাক খাতকে রক্ষায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে এক টেবিলে বসতে সবাইকে আহ্বান জানান। আর দেশের সম্ভাবনাময় এ খাতের পেছনে অনেকের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
তবে দেশের স্বার্থে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট