Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গ্যাস সঙ্কটে শিল্পখাতে বিপর্যয় : গালগল্প ছেড়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

সরকারের গ্যাস নীতির পরিণতিতে দেশের শিল্পখাত চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গার্মেন্টসহ শিল্পের কোনো খাতেই ক্ষমতা অনুযায়ী উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। দৈনিক আমার দেশ-এর এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সরকার ২৪ ঘণ্টার স্থলে ১২ ঘণ্টা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবে শিল্পখাতে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট। গ্যাস সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। একশ’ভাগ গ্যাসনির্ভর গার্মেন্ট কারখানাগুলোকে দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিদ্যুতের নিয়মিত লোডশেডিং। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে বেশিরভাগ গার্মেন্ট কারখানায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কোনো উত্পাদনই করা যাচ্ছে না। ওদিকে সব প্রস্তুতি নেয়া সত্ত্বেও গ্যাসের সংযোগ না পাওয়ার ফলে ৫২টি গার্মেন্ট কারখানা চার বছর ধরে উত্পাদনে যেতে পারছে না। এসব কারখানায় বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। ওভেন গার্মেন্টসহ টেক্সটাইল খাতের অন্য সব কারখানাও একইভাবে বন্ধ থাকছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের ছয়টি সার কারখানাও বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এগুলোর দৈনিক চাহিদা যেখানে ২৮ থেকে ২৯ কোটি ঘনফুট সেখানে সাড়ে ছয় কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে বেশ কয়েকটি বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রও হয় বন্ধ রয়েছে, নয়তো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সব মিলিয়ে গ্যাস সঙ্কট এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ইকনোমিক আপডেট’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উত্পাদন সামান্য বাড়লেও ব্যাপক হারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত এক বছরে শিল্পখাতে গ্যাসের ঘাটতি বেড়েছে ছয় শতাংশ। এর প্রভাবে বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে না, তেমনি বাড়ছে না উত্পাদনও। ফলে সাত দশমিক দুই শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে ছয় শতাংশে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও আইএমএফ-এর পাশাপাশি সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগও প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে একই পূর্বাভাস দিয়েছে।
আমরা মনে করি, গ্যাস সঙ্কটে শিল্পখাতের এ বিপর্যয় কোনো বিচারেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রফতানি আয়ের প্রধান খাত গার্মেন্টের কথাই ধরা যাক। চাহিদা ও ক্ষমতা অনুযায়ী পণ্যের উত্পাদন করা যাচ্ছে না বলে রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দিতে না পারায় অনেক অর্ডার বাতিলও হয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রফতানি আয়ে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গার্মেন্ট খাতে রফতানি আয় কমেছে আট শতাংশেরও বেশি। একই গ্যাসের কারণে দেশের ভেতরেও গতি হারিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। গত অর্থবছর শেষে এই হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয় দশমিক ৩২ শতাংশে। ওদিকে সংযোগ না পাওয়ায় শুধু আবাসন খাতেই অন্তত ৯০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত আড়াইশ’ শিল্পের হাজার দশেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার এবং প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে কমার পরিবর্তে গ্যাসের সঙ্কট আরও প্রকট হয়েছে বলেই বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এমনকি সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগও একই আশঙ্কা প্রকাশ না করে পারেনি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কিন্তু এখনও সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার কোনো উদ্যোগই লক্ষ্যযোগ্য হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বরং জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের পাশাপাশি আরও একদফা গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছেন। বাগাড়ম্বরেও তারা এগিয়েই থাকছেন। বলে বেড়াচ্ছেন, বর্তমান সরকারের প্রায় চার বছরে গ্যাসের উত্পাদন নাকি চারশ’ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে! কথিত এই বৃদ্ধির কোনো লক্ষণই কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। গেলে শিল্পখাতকে এভাবে বিপর্যয়ের কবলে পড়তে হতো না। বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই যদি গ্যাসের সঙ্কট যদি কাটিয়ে ওঠা না যায় তাহলে সব মিলিয়েই জাতীয় অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। বিদেশে বাজার হারাবে বাংলাদেশী পণ্য, বিদেশিরাও সহজে বাংলাদেশমুখী হতে চাইবেন না। বিনিয়োগ তো করবেনই না, যেমনটি এখনও করছেন না। তেমন অবস্থায় প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনের গালগল্প শোনানোরও সুযোগ থাকবে না। এজন্যই আমরা মনে করি, শিল্প-কারখানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার এবং স্থবিরতা পুরো দেশকে গ্রাস করার আগেই ক্ষমতাসীনদের উচিত গ্যাসের সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেয়া।

দৈনিক আমারদেশ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট