Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিচারক যখন ফেনসিডিল ব্যবসায়ী

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে গোপন খবরের ভিত্তিতে একটি মাইক্রোবাস আটক করে পুলিশ। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল জব্দ করে পুলিশ। তবে মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সিনিয়র সহকারী জজ বলে পরিচয় দিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। অভিযানকারী পুলিশ দল তাকে ভুয়া জজ মনে করে আটকে রেখে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেয়। ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গেলে আটক ব্যক্তি জানান, তার নাম জাবেদ ইমাম। তিনি ভোলা জেলা জজকোর্টের সিনিয়র সহকারী জজ। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিক যাচাই করে আটক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বিব্রতবোধ করেন। পরে তাকে নিয়ে
যাওয়া হয় নিউমার্কেট থানায়। গতকাল শুক্রবার রাতে সিনিয়র সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের পর এমন ঘটনা ঘটে।
থানায় নিয়ে আসার পর ফেনসিডিলগুলো যশোর থেকে ঢাকায় বিভিন্ন পাইকারি ক্রেতার কাছে সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেন ওই সহকারী জজ। খবর পেয়ে রাতেই নিউমার্কেট থানায় ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় গ্রেফতার জাবেদ ইমাম (৩০) নিজেকে ভোলা জেলার সিনিয়র সহকারী জজ জানিয়ে ফেনসিডিল বহনের কথা স্বীকার করেন। জাবেদ জানান, গতকাল ভোরে তিনি যশোরে সুমনের কাছ থেকে ফেনসিডিলগুলো নিয়ে ঢাকায় আসেন। এগুলো ঢাকায় লিঙ্কন নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। ফেনসিডিল বহনকারী মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১১৭০৯৬) তার বাবার নামে এবং পিস্তলটি নিজের নামে লাইসেন্স করা বলে দাবি করেছেন তিনি।
জাবেদের দাবি, তার এক লাখ ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য পূর্বপরিচিত যশোরের সুমনের কাছ থেকে তিনি টাকা ধার চান। টাকা দেওয়ার বিনিময়ে তাকে সুমন ফেনসিডিলি বহন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। প্রস্তাব অনুযায়ী তিনি গতকাল ভোরে যশোর থেকে নিজের গাড়িতে ফেনসিডিল নিয়ে ঢাকায় আসেন। গাড়িটি তিনি নিজেই চালাচ্ছিলেন। যশোর থেকে তাকে বলা হয়েছিল, ঢাকায় পেঁৗছলে তাকে মোবাইলে মেসেজ দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী তিনি মেসেজ পেয়ে মাইক্রোবাসভর্তি ফেনসিডিল নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে যেতে বলা হয়। সেখানে পেঁৗছলে তাকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে টিএসসিতে যেতে বলা হয়। টিএসসিতে গেলে ঝামেলার কথা জানিয়ে তাকে ধানমণ্ডির সিটি কলেজের সামনে যেতে বলা হয়। সিটি কলেজের সামনে পেঁৗছলে লিঙ্কন তাকে ফোন দিয়ে ফেনসিডিল নিয়ে ইডেন কলেজের সামনে যেতে বলে। ইডেন কলেজের সামনে যাওয়ার আগেই তিনি পুলিশের হাতে আটক হন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জাবেদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব কাগজে এক হাজার, ৮শ’ ও ৭শ’ বোতল করে মোট প্রায় ২ হাজার ৪শ’ বোতল ফেনসিডিল বিক্রির তথ্য লেখা রয়েছে। এসব কাগজে পাইকারি মূল্য হিসেবে প্রতি বোতল ফেনসিডিলের দাম ৩৬০ টাকা লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ফেনসিডিল তিনি রাজধানীর বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করেছেন।
স্ত্রীর সন্তান হচ্ছে না জানিয়ে তার চিকিৎসায় টাকার প্রয়োজনে এই প্রথম ফেনসিডিলগুলো বহন করেন বলে দাবি করেন জাবেদ। এর আগে তিনি কারও কাছে ফেনসিডিল বিক্রি করেননি বলেও জানান। ফেনসিডিল ব্যবসায়ী সুমন ও লিঙ্কনের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে জাবেদ বলেন, ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের আইন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করেন। ২০০৮ সালে প্রথম ব্যাচে তিনি জুডিসিয়াল কমিশনের মাধ্যমে সহকারী জজ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। প্রথমে তিনি কুষ্টিয়া জেলা জজকোর্টে দায়িত্ব পেলেও পরে যশোরের জজকোর্টে তাকে বদলি করা হয়। সেখানেই ফেনসিডিল ব্যবসায়ী সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ৯ নভেম্বর তিনি ভোলার সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে বদলি হন। এর আগে কুষ্টিয়ায় থাকতে লিঙ্কনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিঙ্কনের বাড়ি বিক্রমপুর হলেও সে ওই সময় কুষ্টিয়ায় ব্র্যাক অফিসের ম্যানেজার ছিলেন।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, তাদের কাছে গোপন খবর ছিল যশোর থেকে এক ব্যক্তি অস্ত্র ও ফেনসিডিলের চালান নিয়ে রাজধানীর সিটি কলেজ এলাকায় সরবরাহের জন্য সেখানে মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করছে। সে অনুযায়ী ধানমণ্ডি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে গাড়িটি অনুসরণ করে। গাড়িটি ইডেন কলেজের দিকে যেতে থাকলে ঢাকা কলেজের উল্টো পাশে ফিলিং স্টেশনের সামনে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে সিটের ওপর প্লাস্টিকের বস্তায় দুটি কার্টনে ভরা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে জানান, গ্রেফতার জাবেদের কাছ থেকে জব্দ করা পিস্তলটি নিজের নামে লাইসেন্স করা বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ফেনসিডিল বহনকারী মাইক্রোবাসটি তার বাবা ঝিনাইদহ জেলা জজকোর্টের আইনজীবী খালেদ ইমামের নামে। এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একেএম শামসুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ভোলা জেলায় বদলি করা হয়েছে। মাদকসহ গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট