Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপার সমর্থন চায় ঝন্টু

 আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর প্রতিনিধি, ০১ ডিসেম্বর : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (রসিক )আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাড়াঁনো এবং এরশাদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাঙ্গাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো নিয়ে জাপার দূর্গ বলে পরিচিত রংপুরে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের রাজনৈতিক ভবিষত নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু এরশাদের সমর্থন প্রত্যাশী ।
সূত্র জানায়, সাবেক জাপা এমপি বর্তমান আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু  রসিক   নির্বচনে জাতীয় পার্টির সমর্থন চাচ্ছেন । তিনি প্রকাশ্যে বলছেন জাতীয় পার্টির যেহেতু কোন প্রার্থী নেই  তাই মহাজোটের শরীক হিসেবে আমি সমর্থন পাওয়ার আশা করছি । আওয়ামীরীগের একটি অংশ এরই মধ্যে স্থানীয় নেতাদের  সংগে যোগাযোগ করছেন ।  এসব জাপা নেতা এরশাদ ছাড়া কিছুই করতে পারবে না সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঝন্টুর লোকদের । এদিকে ঝন্টু  ঢাকায় এইচ এম এরশাদের  আলাপ করার জন্য  যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে একাধিক সূত্র জানায় । রাজনৈতি নেতৃবৃন্দ সুশীল সমাজ এমনকি সাধারন ভোটাররাও এরশাদের জাতীয় পার্টির উপর আস্থা নেই জানিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির আশংকায় নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তবে জাপার নেতা কর্মীরা মনে করেন মেয়র নির্বাচনে জাপার ৩ প্রার্থী নির্বাচন করার ঘোষনা দেয়ায় দলের ভাবমুর্তি রক্ষা করতেই এরশাদের এ সিদ্ধান্ত সঠিক বলে তারা মনে করেন। তার পরেও জাপা প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘটনাকে নিয়ে চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নানান হিসেব নিকাশ।

জানা গেছে শুক্রবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে আকস্মিক ভাবে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তার মনোনীত প্রার্থী মশিয়ার রহমান রাঙ্গাকে মেয়র পদে দাখিল করা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন । একই সাথে অপর দুই জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আব্দুর রউফ মানিককে দলের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করে ঘোষনা করেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা অংশ গ্রহন করবেনা । এরশাদের এ ঘোষনায় রংপুর সহ সারা দেশে রাজনৈতিক মহল সহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তিমন্ডল বলেন রংপুরে এরশাদের আগের মতো জনপ্রিয়তা আর নেই । দলের প্রার্থী শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত হয়ে এরশাদ তার প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন । তবে মহাজোটের শরীক হিসেবে এরশাদ আওয়ামী লীগের সাথে থাকলে আগামীতে রংপুর অঞ্চলে ভালো করবে । একক ভাবে নয়। জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক শামসুজ্জামান শামু জানান এরশাদের জাপার পালে হাওয়া নেই। দলের অস্তিত্ব বিলিন হবার পথে । দলের প্রার্থী পরাজিত হবে এই আশংকায় মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন আগামী সংসদ নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলে এরশাদের কোন অবস্থানই থাকবেনা।
সিপিবি সভাপতি শাহাদত হোসেন জানান এরশাদ মনোনীত প্রার্থী রাঙ্গার অবস্থা ভালো না এটা এরশাদতার দলের পক্ষ থেকে জরীপ করে নিশ্চিত হয়েছেন । সে কারনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তবে রংপুরে এরশাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে এটা পরিস্কার।
রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু জানান এখন আর সেই দিন নাই ।এরশাদ যাকে হাত তুলে দেবেন তিনি জযী হবেন। রংপুরের মানুষ ভুল বুঝতে শুরু করেছে । আগামীসংসদ নির্বাচনেও জাপার অবস্থান আরো খারাপ হবে বলে তিনি মনে করেন।মানকবাধিকার কর্মী ও লেখক এমএ বাশার বলেন এরশাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বলে তিনি মেয়রপদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কারন তার প্রার্থী শোচনীয় ভাবে পরাজিত হতো । তবে রংপুর মহানগর জাপার সাবেক সদস্য সচিব ইয়াসির আহাম্মেদ বলেন এরশাদের জনপ্রিয়তায় এতটুকু কমেনি। বরং দিন দিন বাড়ছে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় নির্বাচন নয় । তা ছাড়া জাতীয় পার্টির ৩ প্রার্থী হওয়য়া বিশেষ করে রাঙ্গাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিলো । সকলের দাবি ছিলো রাঙ্গার প্রতি দলের দেয়া সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া । সেটা এরশাদকরেছেন । তিনি বলেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা নেতা মানিক জয়ী হবেন । তার সাথে মহানগর জাপার সকল ওয়ার্ডের নেতা কর্মী সহ সাধারন মানুষের সমর্থন আছে। তিনি বলেন যারা বলেন এরশাদের কোন জনপ্রিয়তা নেই তারা হতাশার কারনেই বলেন কারন রংপুর অঞ্চলে জাপা এখনও সর্ববৃহত দল। জাপার দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মানিক ও মোস্তফা বলেন এরশাদ জনপ্রিয় নেতা। তার কোন বিকল্প নেই । তার প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করিয়ে নিয়ে তিনি ভালো কাজ করেছেন।
তবে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা বলেছেন জাপার ৩ প্রার্থী থাকায় তারা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা। একন দুই প্রার্থী আছে । তবে এরশাদ কাউকেই সমর্থন দেয়ায় ভালোইকরেছেন । অনেকেই আবার বলেছেন এরশাদের প্রতি আমাদের আস্থা আর নেই । বার বার তার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে কিছুই পাইনি । সব মিলিয়ে ২০ ডিসেম্বর জানা যাবে কে হবে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট