Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আমেরিকার কূটনৈতিক পরাজয়, ইসরায়েলের মরণ কামডের প্রস্তুতি

নিউজডেস্ক, ১ ডিসেম্বর : স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেব স্বীকৃতি লাভে ফিলিস্তিনিদের বিজয়কে আমেরিকার জন্য একটি ‘বিশাল কূটনৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এখন ফিলিস্তিন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে  যুদ্ধ-অপরাধের অভিযোগ জানাতে পারবে। আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে ফিলিস্তিন।

সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত একটি দাবির স্বীকৃতি পেলো। ফলে আগামী বছর জাতিসংঘে তাদের পূর্ণ সদস্যপদের দাবি তোলার পথ সহজ হবে। গত বছর ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার এক প্রচেষ্টা আমেরিকার ভেটোর কারণে বানচাল হয়ে যায়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের এ বিজয়কে আমেরিকার জন্য একটি ‘বিশাল কূটনৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এখন ফিলিস্তিন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে  যুদ্ধ-অপরাধের অভিযোগ জানাতে পারবে।
এদিকে ভোটাভুটিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে পাল্টা কামড় দিচ্ছে ইসরায়েল। দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে তিন হাজার বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ফিলিস্তিনের মর্যাদা বৃদ্ধি প্রশ্নে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পরপরই এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে ফিলিস্তিন। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৮টি দেশ। আর বিপক্ষে মাত্র ৯টি ভোট পড়ে। ৪১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের  সদস্য সংখ্যা ১৯৩ট।

প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম (পূর্ব বাইতুল মোকাদ্দাস) এবং গাজা উপত্যকার সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো।

যে ৯টি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সেসবের মধ্যে রয়েছে আমেরিকা, কানাডা এবং অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইসরাইলের অন্যতম প্রধান সহযোগী দেশ ও এক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী উপনিবেশবাদী শক্তি ব্রিটেন ভোটদানে বিরত ছিল। ইউরোপের বেশিরভাগই দেশই ফিলিস্তিনকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

ফিলিস্তিন স্ব-শাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভোটাভুটি শুরু হওয়ার আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে বলেন:  ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের রুখে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। তিনি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ‘জন্মসনদ’ প্রদান করুন।” তিনি আরো বলেন, যেসব দেশ ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্যের মর্যাদা দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মাহমুদ আব্বাস বলেন,সম্প্রতি গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর হাজার হাজার বার বিমান হামলায় শত শত টন বোমাবর্ষণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলাদারিত্বকে বিশ্ব সমাজের কাছে আবারও স্পষ্ট করেছে।  তাই শিগগিরই এ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে।  তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমকে (বাইতুল মোকাদ্দাস) রাজধানী করে একটি স্বাধীন দেশের চেয়ে কম কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হবে না। ফিলিস্তিনিদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, একমাত্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিন সঙ্কটের ‘দুই রাষ্ট্র-ভিত্তিক’ সমাধান সম্ভব এবং। এ ভোটাভুটিই’শেষ সুযোগ’। মাহমুদ আব্বাসের ভাষণ শেষ হলে উপস্থিত বিশ্ব প্রতিনিধিরা উঠে দাঁড়িয়ে বিপুল করতালির দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এ আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্যপদ পাওয়ার খবর শুনে গাজা ও পশ্চিম তীরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করেন।

গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধে অপদস্থ ইসরাইল বলেছে, জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের সদস্য পদ লাভ ফিলিস্তিনিদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন এই  ঘটনাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।  এর ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আরও বেশি বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।    ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিরা কেবল সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি অর্জন করতে পারে বলে হিলারি মন্তব্য করেন।

মালয়েশিয়া, তুরস্ক, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভ্যাটিকান জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পাওয়ায় ফিলিস্তিনকে স্বাগত জানিয়েছে। ভ্যাটিকান নিজেও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্য।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন বলেছেন, ফিলিস্তিনের এ নতুন মর্যাদাকে ফিলিস্তিনি জাতির অনুকূলে বড় ধরনের পদক্ষেপ । চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাও এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্র এবং এই দেশটির জনগণকে তাদের বৈধ অধিকার দেয়া উচিত।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট