Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আরাফাতের দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহ শেষে আবার দাফন

ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও’র সাবেক নেতা ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। পোলোনিয়াম নামের একটি বিরল  ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য এ দেহাবশেষ থেকে

নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।  অবশ্য এ পরীক্ষায় বেশ কয়েক মাস লেগে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নমুনা সংগ্রহের পর দেহাবশেষ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় আবার সমাহিত করা হয়েছে।

দেহাবশেষ তোলার সময় তিন জন চিকিতসক,তিন জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যমন্ত্রী,বিচার মন্ত্রী,আইনজীবী ও চিকিতসক  সংগঠন দু’টির দুই প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লার স্মৃতিসৌধ থেকে আরাফাতের দেহাবশেষ সরিয়ে একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফিলিস্তিনি চিকিতসকরা তার দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক ঘন্টা সময় লাগে। এখন এ সব নমুনা ফ্রান্স, রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের  বিশেষজ্ঞদের তিনটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে আরাফাতের ঘনিষ্ঠ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কাজ শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনের এটর্নি জেনারেলকে এ কাজে সহায়তা করছেন ফ্রান্সের সরকারি কৌঁসুলিরা। ২০০৪ সালে মারা যাওয়ার আগে আরাফাত কি অবস্থায় ছিলেন তা জানার জন্য এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনের রামাল্লার মুকাতায় পিএলও’র সদর দফতরে আরাফাতের সমাধি সৌধ অবস্থিত। গতকাল (সোমবার) আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের তিনটি দল সেখানে যান।

ফরাসি দলে একজন টক্সিকোলজিস্ট বা বিষতত্ত্ববিদ, একজন প্যাথলজিস্ট বা রোগতত্ত্ববিদ এবং চিকিতসা সংক্রান্ত আইনগত দিক দেখাশোনা করেন এমন এক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের লাওসেনের ‘ইনস্টিটিউট ডি রেডিওফিজিক্স’-এর বিশেষজ্ঞরাও রামাল্লা গেছেন। এ প্রতিষ্ঠান আরাফাতের ব্যবহৃত জিনিসপত্রে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি সংক্রান্ত প্রাথমিক পরীক্ষা করেছে।

এ ছাড়া, সেখানে গেছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ আরাফাতের দেহাবশেষ স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা করার জন্য রাশিয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল।

স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এ তিন দল বিশেষজ্ঞের কাউকেই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার  বা সংবাদ মাধ্যমকে সেখানে থাকার অনুমতি দেয়নি। যদিও এর আগে ওই কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

এ ছাড়া, আরাফাতের বিধবা স্ত্রী সুহার আইনজীবীদেরকেও  দেহাবশেষ তোলার সময় থাকতে দেয়া হয়নি। আরাফাতের দেহাবশেষ তোলার সময় স্বশাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গোণা কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও আরাফাত পরিবারের কেউ সেখানে ছিলেন না।

পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ২০০৪ সালের নভেম্বরে প্যারিসের একটি হাসপাতালে মারা যান। সে সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৫। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা সংক্রান্ত আইনের দোহাই দিয়ে সে সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর কারণ জানাতে অস্বীকার করে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে বলে সে সময় অনেকে অভিযোগ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ইয়াসির আরাফাতকে হত্যার জন্য তেজস্ক্রিয় উপাদান-থ্যালিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে।

কিন্তু,আরাফাতকে পোলোনিয়াম নামের একটি বিরল এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে গত জুলাইয়ে সুইজারল্যান্ডের লাওসেনের ‘ইনস্টিটিউট ডি রেডিওফিজিক্স’ জানিয়েছে। এ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া বোচুড বলেছেন, ইয়াসির আরাফাতের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষা করে তাতে জৈবিক তরল পদার্থের উপস্থিতির পাশাপাশি উচ্চমাত্রার পোলোনিয়াম-২১০ পাওয়া গেছে।

এরপরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দেহাবশেষ কবর থেকে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট