Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাঘের শহরে ধরাশায়ী ক্যারিবীয়রা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডেসিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে ক্যারিবীয়রা। টাইগাররা হয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গলের হুংকার শুনতে পেয়েছিলো তাই সেই হুংকারে উজ্জিবিত হয়ে ব্যাটে বলে ফিল্ডিংয়ে ক্যারিবীয়দের ধরাশায়ী করে ৯ ওভার ৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় লাভ করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করে টাইগারদের জয়ের জন্য ২০০ রানের টার্গেট দেয়। বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই ৪ ডেব্যুট্যান্ট খেলোয়াড় নিয়েই টাইগার বাহিনী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে টাইগারদের তামিম ইকবাল, আনামুল হক ও নাসির হোসেনকে হারাতে হয়। ক্রিস গেইল, স্যামুয়েলস, ডেভন থমাস ও সুনিল নারিনের উইকেট নিয়ে টাইগারদের জয়ের ভীত গড়ে দেয়ায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন সোহাগ গাজী।

টেস্ট ম্যাচ শেষে খুলনার দর্শকরা ছিলেন ওয়ানডে দেখার অপেক্ষায়। টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নামলেও দর্শকদের মধ্যে কোন আক্ষেপ ছিলো না। নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা যখন মিডিয়া প্রান্ত থেকে লেন্ডি সিমন্সের বিরুদ্ধে প্রথম বল করতে দৌড় শুরু করেন তখন গ্যালারী থেকে দর্শকরা মাশরাফিকে করতালি দিয়ে অনুপ্রেরণা জোগান।  প্রথম বলে এক রান করে রানের খাতা খোলেন উদ্বোধনী জুটি ল্যান্ডি সিমন্স। প্রথম ওভারে আসে মাত্র ২ রান। বাকি একরান আসে  ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম বাউন্ডারি আসে চতুর্থ ওভারে মাশরাফির বলে সিমন্সের ব্যাট থেকে। একই ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা হাকান ক্রিস গেইল।

দ্বিতীয় ওভার সম্ভুক গতিতে ব্যাট চালালেও তৃতীয় ওভার থেকেই স্বমূর্তি ধারণ করেন ক্রিজ গেইল। আর তাকে ভালো ভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন লেন্ডি সিমন্স। মাশরাফি আর আবুল হাসানের বলে চার আর ছয়ের ছড়াছড়িতে যখন ফিল্ডাররা অসহায় ঠিক তখনই নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা লেন্ডি সিমন্সকে ১১ তম ওভারে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। সিমন্স দুটি চারের মারে ২৫ বলে সংগ্রহ করেন মাত্র ১৩ রান। সিমন্স ফিরে যাওয়ার  পর পরের ওভারেই বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান সোহাগ গাজী। তার ঘুর্ণিবলে নিজের তৃতীয় ছক্কা হাকাতে গিয়ে লংঅনে বাউন্ডারি লাইনে তামিমের হাতে দলীয় ৪৮ মাথায় তালুবন্দি হন ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। তিনি ৪০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৩৫ রান। গেইল ফিরে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরে টাইগাররা। গেইলের জায়গায় মারলন স্যামুয়েলস মাঠে নেমে ৯ বলেও তার রানের খাতা খুলতে পারেননি। সোহাগ গাজীর বলে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজ ঘরে ফেরেন। দলের অর্ধশতক পূরণ না হতেই নির্ভরযোগ্য তিন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১০০ রানের মাথায় ওয়েস্ট ইন্ডজের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। আব্দুর রাজ্জাকের শট বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে মাশরাফির হাতে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন পোলার্ড। ২৪ বলে ২টি চারের সাহায্যে ১৫ রান করেন তিনি। ড্যারেন ব্রাভো পোলার্ড  জুটি অর্ধশত পূর্ণ করেন। পরের ওভারেই পোলার্ডের পথ ধরেন ড্যারেন ব্রাভো। মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের বলে কাট করতে গিয়ে সোহাগ গাজী ব্রাভোকে রান আউট করেন। ব্রাভো’র সংগ্রহ ৪১ বলে ৩৫ রান। এ রান করতে গিয়ে তিনি দর্শনীয় ৪টি চার ও ২টি ছক্কা হাকান। ১০২ রানের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উইকেট ফেলে ক্যারিবীয়দের ব্যাকপুটে ঠেলে দেয় টাইগাররা। ২৫ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০৯।

২৯ তম ওভারের প্রথম বলে ১২৮ রানে ৬ উইকেটের পতন ঘটে। মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদের বলে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামী ছক্কা হাকাতে গিয়ে লংঅনে বাউন্ডারি লাইনে নাঈম ইসলামের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তার জায়গায় এন্ড্রি রাসেল মাঠে নেমে বাগেরহাটের ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের ঘূর্ণি বলে বোল্ড আউট হন। এর ৯ বল পরে সোহাগ গাজীর বলে আব্দুর রাজ্জাকের হাতে ব্যক্তিগত ১৬ রানে আউট হন ডেভন থমাস। দলের ৮ম উইকেটের পতনে ব্যাকপুটে চলে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

৩৬ তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নেয়। দলীয় ৯ম উইকেটের পতন ঘটে ১৯০ রানের মাথায়। সুনিল নারিনে ও রবি রামপাল জুটি পাওয়ার প্লের ভালোই সুবিধা নিচ্ছিছিলেন। এই জুটি ৬৪ বলে ৫৭ রান নিয়ে দলের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের বলে সুইপ করতে গিয়ে রবি রামপাল উইকেট রক্ষক মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন। ৩৪ বলে তার সংগ্রহ ২৫ রান। এই রান নিতে তিনি ১টি ছয় ও ৩টি চার মেরেছেন। ক্যারিবীয়দের শেষ উইকেটের পতন ঘটে দলীয় ১৯৯ রানে। সোহাগ গাজী এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সুনিল নারিনকে সাজ ঘরে পাঠান। ৩৬ রানে সুনিল নারিন আউট হলেও গতকাল তিনি তার ১৬ তম ওয়ানডে ম্যাচে আগের  সর্বোচ্চ ২৭ রান টপকে নিজের নতুন রেকর্ড গড়েন। সোহাগ গাজী তার ডেব্যু টেস্টে ছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। শুক্রবারও তিনি ওয়ানডে ডেব্যু ম্যাচে ৯.৫ ওভারে ২৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন।

২০০ রানের টার্গেটে নেমে দুর্দান্তভাবে শুরু করেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল ও আনামুল হক। এই জুটি ১০.৩ ওভারে দলের স্কোর বোর্ডে ৫০ রান যুক্ত করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যাপ্টেন ড্যারেন স্যামী একের পর এক বোলার পরিবর্তন করেও হার্ড হিটার তামিম ইকবাল ও আনামুলকে থামাতে পারছিলেন না। তামিম ৪৬ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তিনি যখন সাজ ঘরে ফেরেন তখন তার ঝুলিতে ৫১ বলে ৫৮ রান। এই রান তুলতে তিনি ৮টি দর্শনীয়  চার ও ২টি ছক্কা হাকিয়েছেন। ২২.৪ ওভারে ১১২ রানের মাথায় ড্যারেন স্যামী আনামুনকে কট এন্ড বোল্ড করেন।  ৬২ বলে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৪১ রান। দলীয় ১৫৭ রানের মাথায় রাসেলের বলে পোলাডের হাতে ক্যাচ দিয়ে নাসির হোসেন ২৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম বাংলাদেশ দলের জন্য লাকী গ্রাউন্ড। খেলা বাদে এই গ্রাউন্ডে ২০০৬ সালে ২টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একটি কেনিয়া অপরটি জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। এই দু’টি ম্যাচেই বাংলাদেশ জয় লাভ করে। গতকালকের ম্যাচটি ছিলো এই গ্রাউন্ডের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। এই ম্যাচের জয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ দল এই গ্রাউন্ডে তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখলো।  রোববার এই গ্রাউন্ডে এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ক্রীড়ামোদীদের প্রত্যাশা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯/১০ (সুনিল নারিন ৩৬, ক্রিস গেইল ৩৫, ড্যারেন ব্রাভো ৩৫, রবি রামপাল ২৫, পোলাড ১৫, সিমন্স ১৩, সোহাগ গাজী ৪/২৯, আব্দুর রাজ্জাক ৩/৩৯, মাহমুদুল্লাহ ১/২৯, মাশরাফি ১/৩৯)

 

বাংলাদেশ: ২০১/৩ (তামিম ৫৮, আনামুল ৪১, নাসির হোসেন ২৮, নাঈম ইসলাম ৫০*মুশফিকুর রহীম ১৬ * নারিন ১/৩৯, স্যামী ১/৩৯ ও রাসেল ১/২৮)।

 

ছবি: কাজী শান্ত।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট