Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জানি, কে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল , ইমার্জেন্সিতে কাজ হবে না

বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে সরকার জরুরি অবস্থা জারির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নয়াপল্টনে লাখো জনতার সমাবেশে তিনি বলেছেন, ফিসফাস শোনা যায়- সরকার কার্ফু জারি বা জরুরি অবস্থা দেবে। সরকারের উদ্দেশে পরিষ্কার বলতে চাই, এ দেশের মানুষ ইমার্জেন্সি পছন্দ করে না। ইমার্জেন্সিতে কাজ হবে না, দেশের মানুষ কোন কিছুই মানবে না। এ রকম অবস্থায় তারা জরুরি অবস্থা দিলে সব কিছু ব্রেক করে রাজপথে নেমে আসবে। কারণ জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তেমন কিছু করা হলে সেটা সরকারের জন্যই কাল হবে। তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকজন দেশকে দেউলিয়া করে লুটপাটের অর্থ দেশেও রাখেনি, বিদেশে পাচার করেছে। তবে কে কোথায় কত টাকা পাচার করেছে এবং কে পাচার করতে গিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল, সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। সময় অনুযায়ী তা প্রকাশ করা হবে। বিএনপি নেত্রী বলেন, কোন দল বা পরিবারের কথায় নয়, জনগণের কথায় এ দেশ চলবে। এ দেশে গণতন্ত্র আমরাই এনেছি। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এ দেশের মাটিতে আমরা অন্য কিছু দেখতে চাই না। সরকারকে বলতে চাই- গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে যথাসময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে ১৮ দল আয়োজিত স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ থেকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ৯ই ডিসেম্বর থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। সেই সঙ্গে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি প্রয়োজনে লাগাতার হরতালে যাওয়ার হুমকি দিয়ে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেন। আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মহলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১৮ দলের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যর্থ ও দুর্নীতিবাজ এ সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি, দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাই। সেই সঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা আর কত চোখের পানি ফেলবেন? আর কত নির্যাতন সহ্য করবেন? আসুন এ জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মহাজোট সরকার ৪ বছরে দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। অর্থনৈতিক উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা মেশিন এনে ফেলে রেখেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালু করতে পারছেন না। ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ বিএনপির লোক নয়, তিনিই বলেছেন- দেশে ৩৮টি ব্যাংক আছে কিন্তু বিনিয়োগের জন্য টাকা পাওয়া যায় না। অথচ সরকারের লোকজনকে অনেকগুলো ব্যাংক দেয়া হয়েছে। জনগণের প্রশ্ন, তারা ব্যাংক করার এত টাকা কোথায় পেলেন? একদিন এর হিসাব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ দিন। দেশকে স্বাবলম্বী করে তুলবো। দেশের চেহারা পাল্টে দেবো। সেটা না পারলে যে শাস্তি দেবেন, তা মেনে নেবো। তবে বিএনপি অতীতেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সফল হয়েছে, ভবিষ্যতেও করতে পারবে। বিরোধী নেতা বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ শান্তিতে নেই। হয় খুন করা হচ্ছে, নয় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া। যদি তারা ভাল কাজ করে, সে নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা মেনে নেবো। তবে নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকারের মন্ত্রীদের দুর্নীতির জন্য পদ্মা সেতু হলো না। বিশ্বব্যাংকসহ সব আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিষ্ঠান অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সরকার এখন জনগণের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা সেতুতে দু’টিসহ প্রয়োজনীয় আরও বহু সেতু নির্মাণ করা হবে। আমরা আঞ্চলিকতায় বিশ্বাসী নই, তাই প্রথমে মাওয়া ও পরে দৌলতদিয়া দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার কুইক রেন্টালের নামে কুইক টাকা বানিয়েছে। জনগণ কুইক বিদ্যুৎ না পেলেও তারা কুইক বড়লোক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের পদলেহী হিসেবে কাজ করছে। তারা এখন মিথ্যাবাদী কমিশনে পরিণত হয়েছে। সরকারের লোক হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে, তাদের ধরছে না কিন্তু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখন দুদকের কথা জনগণ বিশ্বাস করে না, কারণ সরকার যা বলে তারা তাই করে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ সমাজ শিক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সরকার অঙ্গীকার করেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সরকার যুবসমাজের হাতে ফেনসিডিল তুলে দিচ্ছে। শোনা যায়, এ সরকারের উঁচু পর্যায়ের কেউ কেউ নাকি ফেনসিডিল খায়।
বিরোধী নেতা বলেন, দলীয় লোক ও অযোগ্যদের ভারে প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়েছে। পুলিশ এখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে মিলে বিরোধী দলের ওপর হামলা করছে। সরকারি দলের কর্মীদের বিচারকরা মুক্তি দেয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জামিনও দেয় না। এ সরকার ২১ জন ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক। দেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, সেভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করুন। সরকারের আদেশ-নির্দেশে অন্যায় বা একতরফা বিচার করবেন না।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস দমন করবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাতে কেন অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে, পুলিশ থাকতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন তাদের বিরোধী দল দমনের নির্দেশ দিয়েছেন তার জবাব দেয়া-নেয়া হবে।
বিরোধী নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেন। সত্য বলার সাহস উনার নেই। সংসদে প্রতিনিয়ত নোংরামি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেন। আমাদের পক্ষে এত নোংরামি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ সরকার নামফলক বসাতে জানে, কাজ করতে পারে না। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ মিথ্যা নামফলক থাকবে না। খালেদা জিয়া বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয় করে দেশের মান উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তাকে হেনস্তা ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেয়ার সব কাজ করেছে। তারা আসলে ভাল কাজ করতেও পারে না, কেউ করলে সহ্যও করতে পারে না। বক্তব্যের শুরুতে তিনি আশুলিয়ায় গার্মেন্ট ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত কামনা ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া ১৮ দলের পক্ষে আগামী মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৬ই ডিসেম্বর সারাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস, ৯ই ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধ, ১১ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি, ২৩শে ডিসেম্বর সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সারাদেশে গণবিক্ষোভ, ২৬শে ডিসেম্বর ঢাকায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ও সারাদেশে ১৮ দলের গণসংযোগ। কর্মসূচি ঘোষণা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে আমরা লাগাতার হরতালে যাব, আপনাদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নিতে হবে।
অন্য নেতারা যা বলেছেন : এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, যৌবনে আমরা জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ও নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এখন যারা যুবক তাদের সমৃদ্ধ দেশের জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ব্যর্থ সরকারকে হটিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন দলের সঙ্গে নয় সম্পর্ক গড়তে হবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে, দেশে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে। তিনিই হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কোকো পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে দুদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ জানে বিদেশ থেকে কোকোর নামে টাকা আনা হচ্ছে। আসলে তা শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, সোনালী ব্যাংক ও হলমার্কের লুটের টাকা। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র ও আইন প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, পুলিশ দিয়ে জামায়াত-শিবির দমন করা যাবে না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে জিয়া পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, রাজপথেই সরকারকে মোকাবিলা করা হবে। তরিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিকভাবে শুধু টাকা বানানোর জন্য চট্টগ্রামে উড়াল সেতু করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে এই কাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হচ্ছিল। ফলে সেখানকার মৃত্যু রাজনৈতিক মৃত্যু, এ মৃত্যুর দায় সরকারের। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকার শুধু মানি লন্ডারিং নয়, দেশটিই লন্ডারিং করে ফেলেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বক্তব্য দেন। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জোটের শরিক দলের নেতা ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, জমিয়তে উলামা ইসলামীর মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনিসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত-শিবিরের শোডাউন: ১৮দলীয় জোটের সমাবেশে বরাবরের মতোই ব্যাপক শোডাউন করেছে জামায়াত-শিবির। সমাবেশ শুরুর আগেই সভাস্থলের পশ্চিমাংশ জুড়ে অবস্থান নেয় তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তাদের উপস্থিতি। পর্যায়ক্রমে সভামঞ্চের পশ্চিম অংশ থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত দখলে নেয় তারা। এছাড়া ফকিরাপুল এলাকায়ও অবস্থান নেয় কিছু নেতাকর্মী। এ সময় তাদের হাতে শোভা পায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ও তাদের মুক্তির স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। মঞ্চের সামনে উড়ানো বেলুনেও নেতাদের ছবি শোভা পায়। এছাড়া মঞ্চে নেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারবিরোধী গণসংগীত পরিবেশন করে শিবিরের সহযোগী সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী। শিবিরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। টার্গেট ছিল ৪০-৪৫ হাজার লোক জড়ো করার। সে টার্গেটের চেয়ে বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন।
রাজধানীতে পথে পথে বাধা: গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি আহূত সমাবেশে আসার পথে বেশ কিছু স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছে পুলিশ। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। রাজধানী শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশ যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়েছে। আগত লোকদের রাজনৈতিক পরিচয় পেলে তাদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সমাবেশের ব্যানার কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, সূত্রাপুর, গাবতলী, কাঁচপুর ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী ও বুড়িগঙ্গা সেতু দিয়ে আসার পথে বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশির কারণে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর: ১৮ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সমাবেশমঞ্চের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। পুরো মঞ্চ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করা হয়। রাজধানীর প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দেয়াল তৈরি করেন।
সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ১৮ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে সাভারের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সন্দেহ হলেই তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশপথ আমিনবাজার, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, রাজফুলবাড়িয়া, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও রেডিও কলোনিতে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহর তল্লাশি চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন যানবাহনকে তার গন্তব্যে যেতে না দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। বিএনপি কর্মী সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ওদিকে মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, নয়াপল্টনের জনসভাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের করিডোর মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। মাওয়া থেকে কম সংখ্যক ফেরি কাওড়াকান্দি ঘাটে আসতে দেখা গেছে। এতে ঢাকামুখী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট