Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিক্ষোভ অবরোধ চলবে, বাধা দিলে হরতাল: খালেদা জিয়া

বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচী থাকবে বিক্ষোভ ও রাজপথ অবরোধ। এতে সরকার বাধা দিলে চলমান আন্দোলন হরতাল পর্যন্ত গড়াবে।

বুধবার নয়াপল্টনে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কর্মসূচী ঘোষণা করেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় জোট ঢাকা মহানগর এই জনসভার আয়োজন করে।

পাঁচ লক্ষাধিক লোকের সভাবেশে বেগম জিয়া বক্তব্য রাখেন। সাভারে নিহত শ্রমিক ও চট্টগ্রামে গার্ডার দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আগামী দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ ভাল নেই। দেশ পরিচালনায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের উচিত ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করা।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বচনে জনগণ যাদেরকে ভাল মনে করবে তাদের ক্ষমতায় বসাবে। জনগণ আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনলে আমাদের আপত্তি থাকবে না।

সরকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্য থেকে জ্বালানী তেল কোন কিছুই নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি। চালের দাম চল্লিশ, ডিমের দাম হালি ৪০টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বেগম জিয়া বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা বললে মানুষ আর কাকে বিশ্বাস করবে। সত্য বলার সাহস প্রধানমন্ত্রীর নেই। দেশের মানুষের আস্থা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।

সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করলেও দুর্নীতি করার জন্য তাদের দপ্তর বিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়। এই সরকারের মন্ত্রী উপদেষ্টাদের দুর্নীতির কারনে পদ্মাসেতু চুক্তি বাতিল করেছে বিশ্বব্যাংক।

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ও ১৮ দল ক্ষমতায় এলে দুটি পদ্মাসেতু হবে। এছাড়া দেশের যেখানে যেখানে সেতু সহ উন্নয়ন করা লাগবে আমরা সব করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, মঈন উদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকার সহ গত ছয় বছরে দেশের কোন উন্নয়ন হয়নি। কুইক রেন্টালের নামে কুইক মানি বানানোর খাত সৃষ্টি করেছে সরকার। আমরা ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুত উতপাদন সহ সব রকম উন্নয়ন করা হবে। কোন দুর্নীতি হবে না।

সরকারের চরম ব্যর্থতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বলছে তারা এই করেছে সেই করেছে আসলে কিছুই করেনি। তারা শুধু আমাদের করা কাজের উপর নাম ফলক লাগিয়েছে। তারা কাজ করতে জানে না, নাম ফলক বসাতে জানে। তাদের ভাল কোন কাজ জনগণ দেখেনি। দুর্নীতি, শেয়ার বাজার লুট, হলমার্ক ও পদ্মাসেতুর মাধ্যমে দেশকে দেউলিয়া বানিয়ে ফেলেছে তারা।

দুদককে মিথ্যাবাদী কমিশন ঘোষণা করে তিনি বলেন, দুদক হচ্ছে সরকারের পদলেহন কারী, তাই এর নাম হওয়া উচিত মিথ্যাবাদী কমিশন। তারা জানে শুধু বিরোধী দলের নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিতে। এখন দেশের মানুষ দূরে থাক বিদেশীরাও দুদকের কথা বিশ্বাস করে না।

সর্বত্র দলীয়করণ চলছে অভিযোগ করে বেগম জিয়া বলেন, অভিজ্ঞ অফিসারদের ওএসডি করে দলীয় ক্যাডারদের সরকার নিয়োগ দিয়েছে। তাদের অযোগ্যতায় প্রশাসন স্থবির হয়ে আছে। পুলিশ বাহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগের সাথে একসাথে রাস্তায় বিরোধী দলকে পেটায়।

খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা করছে। তাদের অপরাধ পোষ্টার লাগানো, মিছিল করা ইত্যাদি। অথচ চট্টগ্রামে এতগুলো লোক মারা গেল কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এফবিসিসিআই এর নেতারা বলছে দেশে বিদ্যুত নাই, গ্যাস নাই তাই বিনিয়োগ কারীরা মেশিন নিয়ে বসে আছে কিন্তু কাজ করতে পারছে না। দেশে ৩৮ টি ব্যাংক থাকার পরও বিনিয়োগ করার জন্য কেউ টাকা দিচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ইউনুস নাকি বিনিয়োগের জন্য বাধা। অথচ ইউনুস ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন। এবং তার পুরষ্কার হিসেবে নোবেল পেয়েছেন। আমি বলব, অর্থমন্ত্রী আপনার এবং সরকারের অযোগ্যতার কারনে দেশে বিনিয়োগ আসছে না।

তিনি বলেন, এই সরকার খুনি এবং ব্যর্থ সরকার। আমরা সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরার জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী দিলে সরকার তাতে বাধা দেয়। তারা জনগণকে বেশী ভয় করে।

বেগম জিয়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার তাদের কোন নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা করতে পারেনি। তারা দেশের মানুষকে ভাত কাপড় দিতে পারেনি, নিরাপত্তা দিতে পারেনি। বিদ্যুত গ্যাসের অভাবে প্রাইভেট সেক্টর ক্ষতির সম্মুখীন, হাউজিং কোম্পানীগুলো কোটি কোটি টাকা পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করতে পারছে না।

তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করার কথা বলে তারা ক্ষমতায় এলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। বাংলাদেশের বৃহত শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের শ্রমিকেরা ফিরে আসছে। আগামীতে ১৮ দল ক্ষমতায় গেলে নতুন করে সম্পর্ক করে বিদেশে শ্রম বাজার সৃষ্টি করা হবে।

সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার যুবকদের হাতে কাজ দিতে পারেনি, দিয়েছে ফেনসিডিল। যাতে তারা অপরাধ করতে ততপর হয়। আমরা যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। মা বোনদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরী করব।

তিনি বলেন, সরকার যুবলীগ আর ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বিরোধী দল দমন করতে বলছে। এই দানব এক সময় সরকারকে ধ্বংস করবে। তারা বিরোধী দলের কিছুই করতে পারবে না।

আবারও নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ৭২-৭৫ সাল ছিল দুর্ভিক্ষের ইতিহাস এখন চলছে দুর্নীতি, খুন আর গুমের ইতিহাস। বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে উন্নয়নে ইতিহাস। আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছি এই গণতন্ত্রকে এদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এই দেশ গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে রাজতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্র চলবে না। নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুর্ণবহাল করে এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে দারিদ্র মুক্ত করতে চাই, ক্ষুধামুক্ত করতে চাই। আমরা এখনও সহনশীল আছি এবং সহনশীল থাকতে চাই। না হয় এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আপনারা জামায়াতকে সাথে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছেন। এখন নিজেদের অধীনে নির্বাচন দিতে চান। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে এই দেশে কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেব না।

বেগম জিয়া বলেন, বিরোধী দলের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন। অপকর্ম যাদের দিয়ে করাচ্ছেন তারা একদিন সামনে আসবে। আমরা শুনতেছি অনেকে নাকি বিদেশে বাড়ী করছেন, লাভ হবে না। এই দেশের জনগণ এই অন্যায়ের বিচার করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যত কঠিন অবস্থানে থাকুক তাতে কিছু যায় আসে না। কানা কানি করে কী হবে? এই দেশের মানুষ কারফিউ দিলে তাতে ভয় করে না। তারা মিথ্যাচার, জুলুম নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে চায়।
দেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এডিবির মতে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ শতাংশের নিচে। আমরা ক্ষমতায় থাকতে তা ছিল ৬.৭ শতাংশ। তবে সরকার মিথ্যাচার করে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সকলকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন বিজয়ের মাসে ডিসেম্বর সামনে ১৮ দল ছাড়াও যারা আছেন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। উজ্জল সম্ভাবনার এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। দেশকে লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করে তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে জনসভা, ৯ ডিসেম্বর সারা দেশে রাজপথ অবরোধ, ২৩ ডিসেম্বর দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ ও ২৬ ডিসেম্বর ঢাকাসহ দেশব্যাপী গণসংযোগ চলবে। আপনারা সকলে শরিক থাকবেন। এই কর্মসূচীগুলোতে সরকার বাধা দিলে কঠিন আন্দোলন হরতাল পর্যন্ত গড়াবে।
জামায়াত শিবির কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জামায়াত নেতারা আগামী দিনে রাজপথে কঠোর থাকার ব্যাপারে সরকারকে হুশিয়ারি করেন। এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যের জবাবে রাজপথে লড়ার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন।
১৮ দলীয় জোট নেতারা সরকারের অপশাসনের সমালোচনার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা মকবুল আহমদ, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মো.ইসহাক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট