Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশাল দুই দেশের কথা না শুনলে বেয়াদবি হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রি করতে চাইনি বলে তার খেসারত দিতে হয়েছে। বিশাল দুই দেশ। এক দেশ বিক্রি করবে, আরেক দেশ কিনবে। বিশাল দেশের কথা না শুনলে বেয়াদবি হয়। এজন্য মাশুলও দিতে হয়েছে। এক সময়
শুনলাম বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে। এখন এসে দেখি গ্যাস নেই। গতকাল রাজধানীতে টেক্সটাইল পণ্যের প্রদর্শনী টেক্সবাংলা-২০১২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আশুলিয়ার মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য আরও সজাগ হতে হবে। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন এবং চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ভেঙে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানির উৎস নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার আগুন নেভাতে পানির অভাব হয়েছিল। আশুলিয়ার মতো জায়গায় পানি পাওয়া যায়নি- এর থেকে দুঃখজনক কি হতে পারে? অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিভিন্ন খাতে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুছিয়ে যে কাজগুলো করতে হবে- সেগুলো আমরা করেছি। এখন আমরা এগিয়ে যাবো। উন্নয়নের রেজাল্ট পেতে তো একটু সময় লাগবে।
এফবিসিসিআই-এর বিদায়ী সভাপতি একে আজাদ অনুষ্ঠানে বলেন, দুই বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আর দুই দিন পর এই দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাবো। আমার উত্তরসূরি আকরাম উদ্দিন অত্যন্ত যোগ্য একজন ব্যক্তি। আমাদের অসমাপ্ত কাজ তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আল আমিন।
শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়: গণভবনে আয়োজিত অন্য এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামল ছাড়া অন্য কোন সময়েই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। আওয়ামী লীগ থাকলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়। মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে। আগামীতে জনগণ যাকে চাইবে তাকেই ভোট দেবে- আমরা সে পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। গতকাল সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোই শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কেউ কোন অভিযোগ করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন নির্বাচন মানেই ছিল মারামারি কাটাকাটি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি।
’৭৫ সালের পরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান সব ধরনের আইন কানুন উপেক্ষা করে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় বসে জাতির পিতার খুনিদের রক্ষা করেছিলেন। তার স্ত্রী ক্ষমতায় এসে খুনিদের সংসদে বসিয়েছিলেন। এই খুনিদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক এনেছিলেন। যার ফল ১/১১ সময় দেশবাসীকে ভোগ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা। আর তারা ক্ষমতায় আসে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য। বিরোধী দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি কালো টাকা সাদা করেছিলেন। তার ছেলে বিদেশে টাকা পাচার করেছিল। সেই টাকা আমরা ফিরিয়ে এনেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এদেশে আর সন্ত্রাস জঙ্গিবাদেরও ঠাঁই হবে না।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী মারা গেছেন, আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায়ও অনেকে নির্যাতিত হয়েছে। এখানে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে। মেয়র কামরানের ওপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে। কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের জন্য কাজ করছি। সুনামগঞ্জ ও আশপাশের জেলা হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে নেয়া সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ফ্লাশ ফ্লাডে প্রতিবছর ফসলের ক্ষতি হয়। সরকার গবেষণা করে উন্নত জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। এতে ফসলহানি কম হচ্ছে। হাওরের উন্নয়নে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই পাসের হার বেড়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়েছে।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য মতিউর রহমান। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভা পরিচালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ। সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট