Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আহ্বানের আগেই টেন্ডারপত্র পাঠানো হয় কানাডা- চারবার ভাঙা হয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি

দুর্নীতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে। এমনটাই গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। পরামর্শক নিয়োগে সেতু বিভাগে ঘটেছে অনেক অঘটন। টেন্ডার আহ্বানের আগেই টেন্ডারপত্রটি পাঠানো হয়েছে এসএনসি লাভালিনের কানাডা অফিসে। কমপক্ষে চারবার ভাঙাগড়া হয়েছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। সেগুলো এখন খতিয়ে দেখছে দুদক। খুঁজছে কাদের নির্দেশে ওইসব ঘটনা ঘটেছে।
পদ্মা সেতুর পরামর্শক যাচাই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ষড়যন্ত্রকারীদের বেশির ভাগ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে পরামর্শক নিয়োগে টেন্ডার আহ্বানের আগেই টেন্ডারপত্রটি কানাডায় এসএনসি লাভালিনের কার্যালয়ে পাঠানো ব্যক্তিকে এখনও খুঁজছে সংস্থাটি। এজন্য আরও ১৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাদের মধ্যে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  আবুল হাসান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার যবনিকা টানা হবে বলে জানান দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। একই সঙ্গে পদ্মা সেতুর পরামর্শক যাচাইতে দুর্নীতির চেষ্টা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।
পদ্মা সেতুর পরামর্শক যাচাই পক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে এর আগে ৩৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। এবার ডাকা হয়েছে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ ১৯ জনকে। এর মধ্যে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির পাঁচ জনকে।  তারা হলেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী রজব আলী, বুয়েটের অধ্যাপক (পুরকৌশল বিভাগ) ড. আবু সিদ্দিক, সেতু বিভাগের উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মনিরুজ্জামান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য সানোয়ার আলী ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর উল্লাহ।
এ দফা জিজ্ঞাসাবাদে পরামর্শক নিয়োগে টেন্ডার আহ্বানের আগেই কারা টেন্ডারপত্রটি কানাডায় এসএনসি লাভালিনের কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন তা জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া বার বার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি ভাঙার ক্ষেত্রে নেপথ্যে কাদের ভূমিকা ছিল, কাদের স্বাক্ষরে মূল্যায়ন কমিটি ভাঙা হয়- তাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কি প্রয়োজেনে, কার স্বার্থে চারবার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা-ও জানতে চাইবে দুদক।
এরপর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ঢাকায় পৌঁছার পর প্রাপ্ত তথ্য আরও যাচাই করে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এর মধ্যে আগামী ৩রা ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে।
আজ বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আরও ৫ জনকে। তারা হলেন বুয়েটের অধ্যাপক (পুরকৌশল) ড. ইশতিয়াক আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তরুণ তপন দেওয়ান, বিডব্লিউডিবির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মকবুল হোসেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক মো. দলিল উদ্দিন।
এছাড়া দীর্ঘ দেড় বছরের অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে- এসএনসি লাভালিন, সেতু ভবনের টেকনিক্যাল বিভাগের কয়েক কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার ক্লু পেয়েছে। এ ঘটনায় দুদক মামলা করবে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। ওই মামলা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হেসেন, তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও জড়িয়ে যেতে পারেন। যদিও এর আগে সৈয়দ আবুল হোসেনকে নির্দোষের সনদ দিয়েছিল দুদক। তবে তাদের আসামি করে মামলা করা হবে, নাকি মামলা তদন্ত শেষে তাদের আসামি করে চার্জশিট দেয়া হবে সে বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অভিযোগের অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে  গতকাল গোলাম রহমান কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, পরামর্শক যাচাই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের ক্লু পেয়েছে অনুসন্ধান টিম। তিনি বলেন, বড় প্রকল্প হিসেবে কিছু লোক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। আগামী মাসের ৩ তারিখে এ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শেষ হবে উল্লেখ করে বলেন, এরপর অনুসন্ধান টিম কমিশনে রিপোর্ট পেশ করবে। রিপোর্ট পেশ করার পরপরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুদক মামলা করবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কতজন জড়িত ছিল- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নটির উত্তর পরে জানানোর কথা বলে এড়িয়ে যান। বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ঢাকায় আসার কথাটি আবারও জানান তিনি। এছাড়া কানাডার সঙ্গে অন্য চ্যানেলে দুদক যোগাযোগ করছে বলেও জানান গোলাম রহমান। তিনি বলেন, দুদকের একটি টিম কানাডায় যাওয়ার জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে রক্ষা করার জন্য সরকারের উপরের মহল থেকে দুদককে চাপ দেয়া হচ্ছে কিনা- এর উত্তরে তিনি বলেন, দুদক কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না। আর আবুল হোসেনকে রক্ষা করতে সরকার থেকে কোন চাপ আসেনি। আবুল হোসেনকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় আবুল হোসেন ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলেন তাই তাকে ডাকা স্বাভাবিক।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট