Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গণতন্ত্রকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে সরকার : মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আসছে। তারা ৭২ সালে ক্ষমতায় এসে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে এবারও ক্ষমতায় এসে একই পথে চলছে। গণতন্ত্রকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে এবং গণতন্ত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে চলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে ২৮ নভেম্বর ১৮ দলীয় জোট ঢাকা মহানগর আহুত সমাবেশের প্রস্তুতির ব্যাপারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

সম্প্রতি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্ষতি পূরণ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তাদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাই, ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতি পূরনের ব্যবস্থা করা হয়। আহতদের সুচিকিতসা করা হয় এবং তাদের সকলের ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোতে বহির্গমন ব্যবস্থাসহ দুর্ঘটনা এড়ানোর সকল ব্যবস্থা রাখার ব্যপারে ব্যবস্থা করা হয়।

শোক জানিয়ে বলেন, সাভার, আশুলিয়া, উত্তরা ও চট্টগ্রাম বহদ্দার হাটের দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

সরকারের অবহেলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা সরকারের চরম অবহেলার শিকার বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি ভবনগুলো জরুরী বর্হিগমনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এবং অগ্নি নির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই তাই এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পাশাপাশি এই ধারা সংশোধন যাতে না করা যায় সেই ব্যবস্থ করেছে। আগামীতে ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

সরকারের সমালোচনা তিনি আরও বলেন, দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, বিদ্যুতের ও জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দলীয় ক্যাডার দ্বারা ব্যংক পরিচালনা করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে বর্তমান সরকার।

আগামীকাল আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী আসছে উল্লেখ ১৮ দলের মুখপাত্র বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করছি এবং আগামী কালের সমাবেশে দেশনেত্রী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করবেন।

পল্টন ময়দান, মুক্তাঙ্গন ও মানিক মিয়া এভিনিউতে সরকার সমাবেশ করতে না দেওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ করতে হচ্ছে। বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

সমাবেশের সভাপতি ঢাকা মহানগর ১৮ দলের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা আগামী কলের সমাবেশ প্রস্তুতির ব্যাপারে বলেন, আগামীকালের সমাবেশ সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহন করেছি।

সরকারের অসহযোগীর অভিযোগ করে খোকা বলেন, আমরা সমাবেশের প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে পথসভা, মাইকিং, পোষ্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করতে পারছি না। সব কিছু উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। দশদিন আগে আনুষ্ঠানিক অনুমতির জন্য ডিএমপিতে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত অনুমতি পাইনি। যা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আগামীকালের সমাবেশ কোন সাধারণ সমাবেশ নয়, এই সমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া আগামী দিনে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষনা করবেন। সরকার আমাদের দাবি মেনে না নিলে কাল ঢাকা মহানগর থেকে এমন কঠিন পরিস্থিতি তৈরী হবে সরকার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে।

সরকারকে সহযোগীতার আহ্বান জানিয়ে ঢাকার সাবেক মেয়র বলেন, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে আগামী কালের সমাবেশ সফল করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

সাদেক হোসেন খোকা আরও বলেন, আমরা বিএনপি বা ১৮ দলের স্বার্থে কাজ করছি না। আমরা দেশের স্বার্থে জাতির স্বার্থে কাজ করছি। তাই জনগনের এই আন্দোলন গুম হত্যা দিয়ে প্রতিহত করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সব সময় আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করছি। আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশ্বাস করি, দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এই আন্দোলনে আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে বিএনপির ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এলডিপির খালেদ সাইফুল্লাহ, ইসলামী ঐক্যজোটের শেখ লোকমান হোসেন, জাগপার আসাদুর রহমান সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট