Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আতিকের শেষ কথা-হয়তো আর বাঁচতে পারলাম না

 ‘আগুনে আমার শরীর পুড়ে যাচ্ছে। হয়তো আর বাঁচতে পারলাম না। শুধু কষ্ট পাচ্ছি এই ভেবে- আমার অনাগত সন্তানকে দেখতে পারলাম না। এখন থেকে তুমিই ওর বাবা ও মা। আদর দিয়ে বড় করো।’ এরপরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আতিকুলের মোবাইল সংযোগ। এরপর আতিকুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাশেদা আর ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি তার স্বামীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মাত্র ২৫ সেকেন্ড আগে এসব কথা বলে গেছেন আমার স্বামী। মোবাইল ফোনে ওই কথাই ছিল তার শেষ কথা। গতকাল তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসেছিলেন তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করতে। একই সঙ্গে তার বড়ভাই আতিয়ার নওগাঁ থেকে ছুটে আসেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের বেওয়ারিশ লাশের স্তূপে খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু এত লাশের ভিড়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করতে না পেরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, আমার ভাইকে কিভাবে খুঁজে বের করবো। কবে ফিরে পাবো। একইভাবে মেয়েকে হারিয়ে মর্গের সামনে বিলাপ করছিলেন বিলকিস বেগম। বলেন, গত ১৩ দিন আগে আমিই আমার মেয়ে মুন্নীকে কাজে এনেছিলাম। ৫ম তলার কাটিং সেকশনে একসঙ্গে কাজ করতাম। ভাগ্যক্রমে আগুনের হাত থেকে আমি বাঁচলেও আমার মেয়ে বাঁচতে পারেনি। তার পিতা শহিদুল ইসলাম ঢাকা মর্গের অজ্ঞাত লাশের সারি থেকে মেয়ের লাশ শনাক্ত করে। রোববার রাতে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শহিদুলের কাছে মুন্নীর মৃতদেহ হস্তান্তর করে। জামালপুরের খলিল মিয়া। তার মেয়ে লিপি। গত ৬ মাস আগে এ গার্মেন্টে কাজ শুরু করে। আগুনের সংবাদ শুনে ছুটে এসছে। নিশ্চিন্তপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেছেন। কোথাও মেয়ের সন্ধান পায়নি। অবশেষে ছুটে এসেছেন ঢাকা মেডিকেল মর্গে। লাশের ভিড়ে তার পক্ষে সম্ভব হয়নি মেয়ের লাশ শনাক্ত করতে। তিনি জানান, কার কাছে গিয়ে বলবো। কেউ কথা বলতে চায় না। লাশের সন্ধান করতে মর্গে একটা তথ্যকেন্দ্র খোলা রাখলে সকলে উপকৃত হতো। অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জের মহর উদ্দীন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোটবোন পপি নিখোঁজ। সুইং অপারেটর হেলপার ছিলেন। বোনের জন্য তিনি মর্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন।  এদিকে রোববার বেলা তিনটায় কাকরাইল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দুটি পরিবহনে করে আনা হয় মোট ৫৮টি বেওয়ারিশ লাশ। লাশগুলো পৃথকভাবে বস্তাবন্দি করা ছিল। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে আঞ্জুমানে মুফিদুল কার্যালয় সামনে শতধিক বাড়তি পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বেওয়ারিশ লাশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট কাজ করবে বলে জানান আঞ্জুমানে মুফিদুলের সহকারী পরিচালক (সার্ভিস) আবদুল হালিম।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট