Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ফ্লাইওভার নির্মাণে ১০৭ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা

 চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ট্র্যাজেডির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উঠেছে একগাদা প্রশ্ন। বেরিয়ে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুখ খুলেছেন সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগীরা।
বারবার ওইসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তাদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেন না সিডিএ চেয়ারম্যান। কোন দক্ষতা না থাকার পরও ব্যক্তিগত পছন্দে তিনি কাজ দিয়েছেন মীর আকতার ও পারিসা এন্টারপ্রাইজকে।
অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করায় চলতি বছরের ২৯শে জুন আরও একবার ধসে পড়েছিল ফ্লাইওভারটির একটি গার্ডার। সেদিন রাস্তায় লোকজনের চলাচল কম থাকায় অনেকে প্রাণে বেঁচে যান। পরে এ ঘটনায় সিডিএ কর্তৃপক্ষ গঠন করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।
এ কমিটির আহ্বায়ক সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতাকে দায়ী করে ৫টি সুপারিশ উল্লেখ করেন।
যেখানে বলা হয়, নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই গার্ডারটি মূল জায়গায় বসানোর আগে অস্থায়ীভাবে কাঠের গুঁড়ির ওপর বসায়। সেটা ছিল নরম কাঠের তৈরী। পাশাপাশি তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঠিকাদারকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও লোকবল বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি সেফটি সিস্টেম রাখার কথা জানান।
পরে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ চালিয়ে যায়। বিষয়টি সিডিএ চেয়ারম্যানকে কর্মকর্তারা জানানোর পরও তিনি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি। তবে সেই সময় এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে দেয়ার জোর দাবি ওঠে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না  নিয়ে বরং দলীয় বিবেচনায় তাদের সেই ঘটনায় বাঁচিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শোনা যায়। আড়ালেই থেকে যায় দোষীরা। আর এর পেছনে সিডিএ’র উদাসীনতা কাজ করেছে বলে সবার ধারণা।
সর্বশেষ গত শনিবার ৩টি গার্ডার ভেঙে পড়ে লোকজনের মারা যাওয়ার ঘটনায় সিডিএ’র দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
তারা জানান, আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে স্বয়ং সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে সিডিএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল ব্যক্তিগত ও দলীয় বিবেচনায় অদক্ষ দু’টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের এ কাজটি দলীয় বিবেচনায় হাতিয়ে নিয়েছেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা নিজেরা ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ না করে বেশি টাকায় তা কৌশলে হস্তান্তর করেছে অভিযুক্ত মীর আকতার ও পারিসা এন্টারপ্রাইজকে।
কাজ পাওয়ার পর থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় লোকজনের মনে এই নিয়ে ভীতির সঞ্চার হয়। কেবল তাই নয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতিতে কাজ করা, যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া খোলামেলাভাবে নির্মাণ কাজ করায় তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। একপর্যায়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তারা সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার দাবি জানালে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
২৯শে জুন ফ্লাইওভারের একটি গার্ডার ধসে নিচে পড়ার পর চট্টগ্রাম আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় তিনি কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, কোন অভিজ্ঞতা না থাকার পরও এ ধরনের একটি কাজ কিভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হলো। এর পেছনে নিশ্চয় দুর্নীতি জড়িত রয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানান, ফ্লাইওভার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। পুরো কাজটি দলীয় বিবেচনায় দেয়া হয়েছে। সিডিএ’র কতিপয় কর্মকর্তা ও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ করে বেশির ভাগ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট এসব ব্যক্তির কারসাজির কারণে তা কিছুতেই সম্ভব নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ফ্লাইওভারটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয় বলে জানান সিডিএ’র কয়েকজন কর্মকর্তা।
বহদ্দারহাটের এই ফ্লাইওভারে পিলার রয়েছে ২৪টি। প্রতি পিলারের মাঝখানে শক্তিশালী ওজনের গার্ডারগুলো বসানো হয়েছে। প্রতিটি গার্ডার ১৩৮ ফুট দীর্ঘ। প্রস্থ ৭/৮ ফুট। ওজন ১০০ টন। ফ্লাইওভারে ৭টি গার্ডার রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সেগুলো তৈরি করায় তা বারবারই ভেঙে পড়ছে বলে অনেকের মন্তব্য।
তাদের মতে, দু’টি পিলারের সংযোগ করার জন্য গার্ডারগুলো নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে ওজন ধরে রাখার কোন ব্যবস্থা না রাখায় তা নিচে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সঙ্গে দুর্নীতির কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। সঠিকভাবেই তো কাজ দেয়া হয়েছিল তাদের।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, নির্মাণ ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে এক্ষেত্রে সেফটি মেজারস বা সুরক্ষা পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
একই রকম অভিমত ব্যক্ত করে আরেক নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতি ছিল। আর সেই কারণে এ দুর্ঘটনা। যেনতেনভাবে নির্মাণ করলে গার্ডার তো ভেঙে পড়বেই।
স্থপতি জেরীনা হোসেন বলেন, যে নিয়মে সেখানে কাজ করানোর দরকার ছিল তা সঠিকভাবে হয়েছে বলে মনে হয় না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট