Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশ্ব মিডিয়ায় আশুলিয়া

 আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব মিডিয়াকেও শোকে কাতর করেছে এখানকার ভয়াবহ অগ্নিগ্রাস। অনলাইনে বাংলাদেশ সার্চ দিলেই ভেসে উঠছে নিশ্চিন্তপুরের হৃদয়বিদারক দৃশ্য, বিবরণ। পাশাপাশি উঠে আসছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা। আরব নিউজে তুলে ধরা হয়েছে এক সাবিনা ইয়াসমিনের আর্তনাদ। তার পুত্রবধূ নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনে পুড়ে মারা গেছেন। তিনি বুক চাপড়ে আর্তনাদ করছিলেন- আমি এই কারখানা মালিকের ফাঁসি চাই। তার জন্যই আজ এতগুলো মানুষের প্রাণ ঝরে গেল। এমনি অনেক সাবিনার কান্নায় নিশ্চিন্তপুরের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এতে বলা হয়, স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী নিশ্চিন্তপুরের আগুন ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার গার্ডার ধসে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২৫। কোন কোন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টেই পুড়ে মারা  গেছে ১২৪ জন। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায় নি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ গার্মেন্ট কারখানা আছে। এর অনেকগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিদেশে তৈরী পোশাক রপ্তানি করে প্রায় ২০০০ কোটি ডলার আয় করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, পশ্চিমাদের কাছে বড় ধরনের চালান সরবরাহ দেয় যেসব গার্মেন্ট বাংলাদেশের সেই সব গার্মেন্টের একটিতে ভয়াবহ আগুনে কমপক্ষে ১১২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ওই কারখানায় আটকা পড়েছিলেন। কারণ, ওই কারখানা থেকে জরুরি ভিত্তিতে বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেড নামের ওই কারখানাটি তুবা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এরা ওয়াল-মার্ট সহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোর কাছে পোশাক সরবরাহ করে থাকে। অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ মাহবুব বলেছেন, তারা কমপক্ষে ১০০ মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। যারা ওই ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছিলেন হাসপাতালে নেয়ার পর তাদের ১২ জন মারা গিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করেছিল ওয়াল-মার্ট। তারপরও কি করে সেই কারখানা ওয়াল-মার্টের কাজ পায় তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াল-মার্ট তার ‘২০১২ গ্লোবাল রেসপনসিবিলিটি’ শীর্ষক রিপোর্টে বলেছে, তাদের ব্রান্ড পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে তা নেয়ার জন্য আগুন থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি আগে থাকতে হবে। ২০১১ সালে ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশের ৪৯টি কারখানার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ, আগুন থেকে নিরাপত্তা ইস্যুতে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওদিকে বৃটেনের অনলাইন ডেইলি মেইল জানায়, বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বৃটেনের তৈরী পোশাক ক্রেতাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ চাপ সৃষ্টি করেছে সোয়েটশপ বিরোধী প্রচারণা চালানো গ্রুপগুলো। টেসকো, এইচঅ্যান্ডএম সহ যে সব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক নিয়ে থাকে তাদেরকে এ থেকে শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গত ৪ঠা জুনে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা শীর্ষ স্থানীয় গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি উৎসাহ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ‘আগামীতে এশিয়ার বাঘ’ হতে যাচ্ছে। নিউ সিল্ক রোডে বাংলাদেশ হলো প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কথা বলেন নি। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে যে ঝড় আসতে পারে সে বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও তুলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক মধ্যরাতে তাকে ফোন করে তার কোম্পানির সুনাম নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন। অনলাইন গালফ নিউজ লিখেছে, আশুলিয়ায় আগুনে কমপক্ষে ১১০ শ্রমিক মারা যাওয়ায় বাংলাদেশ যখন শোকাতুর তখনই গতকাল আরেকটি গার্মেন্টে আগুন লেগেছে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের ছাদে আটকা পড়েছিলেন বেশ কিছু শ্রমিক। এ ঘটনায় ফুটে ওঠে দরিদ্র হাজার হাজার দরিদ্র গার্মেন্ট শ্রমিক- যাদের বেতন-ভাতা কম- তারা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ওদিকে গতকাল অধিকতর সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন। এতে যোগ দেন আশপাশের অনেক গার্মেন্টের শ্রমিক। ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, তারা তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রধান বদরুল আলম বলেছেন, তারা শ্রমিকদের বিষয়ে অবহেলার দায়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ বিষয়ে সরকার দু’টি ও পুলিশ একটি তদন্ত করছে। তারপরই তারা নিশ্চিত হবেন নিশ্চিন্তপুরের আগুনের জন্য মালিক দায়ী কিনা। কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ প্রায় একই রকম রিপোর্ট লিখেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, লি অ্যান্ড ফাং-এর জন্য বাংলাদেশের যে গার্মেন্ট পোশাক তৈরি করে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের পর গতকাল কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তারা সাভারে সড়ক অবরোধ করে সুবিচার দাবি করেছে। এ সময় তারা বিভিন্ন কারখানায় পাথর ছুড়ে এবং যানবাহন ভাঙচুর করে। এদিন সাভারে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২০০ কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাজরিন ফ্যাশন কারখানা থেকে পোশাক কিনতো হংকংয়ের লি অ্যান্ড ফুং নামের সংস্থা। এর এক মুখপাত্র এতগুলো মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। আমরা নিজেদের মতো অনুসন্ধান করবো। তারপর দেখবো কি কারণে ওই অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলো। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, আশুলিয়ার পর ঢাকায় আরেকটি পোশাক তৈরি কারখানায় আগুন লেগেছে। তবে সেখান থেকে কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি। ভারতের রিডিফ.কম জানিয়েছে, আশুলিয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে পড়ে নিহতের সংখ্যা ১৩৭-এর বেশি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট