Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পরাগ মন্ডল অপহরণের মূল হোতা আমির টঙ্গীতে গ্রেফতার : অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

 টঙ্গীর পৌর এলাকার তিলারগাতী গ্রামের চাঁন মিয়া নামে এক প্রবাসীর বাড়ীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি’র) সাথে ঢাকার কেরানীগঞ্জের চাঞ্চ্যল্যকর শিশু পরাগ মন্ডল অপহরণের প্রধান আসামী, দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আমীর হোসেন ওরফে মুক্তারের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আমীর মারা গেছে ভেবে ( ডিবি পুলিশ) তাকে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ততক্ষনাত পুলিশ টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিতসক গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত আমীর হোসেন ওরফে মুক্তারকে জীবিত বলে সনাক্ত করেন। ওই বাড়ী থেকে আমীরের ২য় স্ত্রী বিউটি বেগম, তার ৪ বতসর বয়সের শিশু পুত্র আবীর ও কাজের মেয়ে রুবী(১০) কে আটক করে টঙ্গী থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশী পিস্তল ও ৮৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে । সেই সাথে পুলিশ আমীর হোসেনের স্ত্রী বিউটি, পুত্র আবীর ও কাজের মেয়ে রুবীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে।
থানা হাজতে আমীরের স্ত্রী বিউটি  জানায়, টঙ্গীর তিলারগাতী এলাকার মোরশেদ ও সাহেব আলী ওরফে শাহেদের মাধ্যমে মুক্তিপনের টাকার অংশ থেকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। গত বৃহস্পতিবার টঙ্গী রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমি রেজিস্ট্রি করেন তার স্বামী আমীর। বিউটি আরো জানায় ৯/১০ দিন পূর্বে টঙ্গী এই বাড়ীতে উঠেছে। বাসা ভাড়া নিয়ে নতুন ফ্রিজ, টিভি, খাট, ওয়ার্ড ড্রপ কিনে আমীর তাকে এই বাড়ীতে নিয়ে এসেছে। বিউটি আরো জানায়, আল-আমিন শিশু পরাগ মন্ডলকে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করতে তিনি দেখেছেন। ঘটনার কয়েক দিন পূর্বে কাজের মেয়ে রুবীকে তার মা ময়মনসিংহ থেকে এনে আমীরের বাসায় দিয়ে যায়। রুবী ভয়ে কিছুই জানাতে পারেনি। এসময় পুলিশের ভয়ে থানায় বসে রুবী শুধু কাদঁছিল।
শনিবার সকাল পৌনে ৭টায় সরেজমিনে গেলে হাসপাতালের বেডে শুয়েঁ গুলিবিদ্ধ আমীর ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলেন, তার নাম মুক্তার হোসেন। সে আমীর নয়। মৃত্যুর মুখে এসেও সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মুক্তার নাম ব্যবহার করে বাঁচতেঁ চেয়েছিল। সে বলে তার গ্রামের বাড়ী মুন্সিগঞ্জ সদর থানার রামগোপালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্বাস আলী। তবে তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখালে তা পড়ে দেখা যায় লেখা রয়েছে আমীর হোসেন মুক্তার। শনিবার টঙ্গীর তিলারগাতী গ্রামের চাঁন মিয়া প্রবাসীর বাড়ীতে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার শতশত নারী পুরুষের ভিড়। কেউ কেউ ঘটনাটি শুনে ওখানে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন কফু সহ ওই এলাকার একাধিক নারী পুরুষ জানান, রাতে গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। পুলিশ সন্ত্রাসী আমিরকে গুলি করেছে এবং তার নিকট থেকে ২টি অস্ত্র ও গুলি পেয়েছে। পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে। সন্ত্রাসী আমির ও তার স্ত্রী বিউটি উভয়েই খোড়া। তাদের পায়ে পূর্বে আঘাতের দাগ রয়েছে।
ডিবির ইন্সপেক্টর সাইদুল ইসলাম জানান, ডিবি ৫ জন ইন্সপেক্টরের একটি টীম ও কেরানীগঞ্জ (দক্ষিন) থানার একটি টীম গতরাত সাড়ে ৩টায় যৌথ অভিযানকালে প্রথমে আমীর ৪/৫ রাউন্ড গুলি করে। ডিবি সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে আমীরের বুকে ও মাথায় ২ রাউন্ড গুলি বিদ্ধ হয়। তখন সে অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে টঙ্গী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। ঘটনাস্থল থেকে স্পেনের তৈরী স্মীতেন উইনসেন ২২ বোরের একটি ও আমেরিকান তৈরী ৭.৬৫ মডেলের একটি পিস্তল এবং ৮৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ডিবির পক্ষ থেকে টঙ্গী থানায় অস্ত্র আইনে ১টি ও পুলিশের উপর হামলার ১টি মামলা দায়ের করা হবে। টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছিল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট