Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শক্ত অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

খুলনা: সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা আজ একেবারেই নিরামিশ ছিল। সকালের দিকে যাই কিছুটা জমে উঠেছিল খুলনা টেস্ট, কিন্তু এরপর দিনের পুরো সময়টা ছিল বিরক্তি কর। বাংলাদেশে দলের সময় পার করার জন্য বোলিং আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের টিকে থেকে দিন পার করার মিশনটা শেষ অবদি সফল হয়ে যায়। অতিথি দলের ব্যাটসম্যানদের সামনে অসহায় বাংলাদেশের বোলারা। তাই তো দিন শেষে দুই উইকেটে অতিথি দলের স্কোর ২৪১ রানে সুবিধা জনক অবস্থানে। কাল তৃতীয় দিনে এই তৃতীয় উইকেট জুটি যদি দিন-ভর ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিজে নামে তাহলে খুলনা টেস্টের ভাগ্যে কি আছে বলা মুশকিল।

মুশফিকদের করা ৩৮৭ রান থেকে এখনও ১৪৬ রান দূরে আছে অতিথি দল। তবে হাতে আছে ৮টি উইকেট। তাই নিরাপদই বলা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিশন। তবে প্রতিদিনের নির্ধারিত ৯০ ওভার পূর্ণ হয়নি। কারণ প্রথম দিন ৮৬ ওভার খেলা হয়। তাতে বাংলাদেশ অলআউট হয়নি। আজ সকালে আরো ৫ ওভার খেলে অলআউট হয়। বাংলাদেশের আজকের ৫ ওভার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮২ ওভার মিলিয়ে মোট ৮৭ ওভার খেলা হয়। দুই দিনে মোট ৭ ওভার খেলা বকেয়া রয়ে গেল।

দিন ভর সিঙ্গেল নিয়ে এগিয়ে চলা আর সুযোগ পেলে বাউন্ডারি মারা, এছাড়া কোন ঘটনা ছাড়াই আজ দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হল। তবে এর মধ্যে শেষ বিকেলে স্যামুয়েলসের ৫ম টেস্টে সেঞ্চুরিই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় প্রাপ্তি। দিনের ৮০ম ওভারে আসে সেঞ্চুরি। ২২৭ বলে ২৭৩ মিনিট ক্রিজে থেকে ১১টিচার ও ১টি ছয় দিয়ে স্যামুয়েল তার অপরাজিত ইনিংসটি সাঁজান।

অবশ্য তার আগে ক্রিজে আসা ব্রাভোও সেই পথের দ্বারপ্রান্তে আছেন। ৮৫ রানে অপরাজিত ব্রাভো এখন ৪র্থ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হবার পথে। অন্যদিকে স্যামুয়েলস ১০৯ রানে অপরাজিত। এই জুটি কাল কত দূর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে যায় সেটাই এখন বড় বিষয়। কারণ বাংলাদেশের কোন বোলারই এখন এ দুই জনের সামনে আতঙ্ক ছড়াতে পারেনি। যা সকাল সকাল স্পিনার সোহাগ গাজী কিছুটা পেরেছিলেন। কাল এই জুটিকে সকালের দিকে ফেরাতে না পারলে হয়তো মিরপুরের মতো আবারও ডাবল সেঞ্চুরির ধাক্কা খেতে হতে পারে।

ব্রাভো আর স্যামুয়েলসের ব্যাটে ভর দিয়ে খুলনা টেস্টে অনেক লম্বা পথ পাড়িয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের পুরোটা দিন পার করে দিয়েছে এই জুটি। বাংলাদেশের ৩৮৭ রানের জবাবে এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ধীর গতিতে এগিয়েছে। কারণ সকালের দিকে বাংলাদেশ ৩৬৫ থেকে ৩৮৭ রানে অলআউট হবার পর প্রথম ইনিংসে জবাব দিতে নেমেই ধাক্কা খায় অতিথি দল। ৩৭ রানে পাওউয়েলকে আর ৪৩ রানে গেইলকে হারিয়ে চাপে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে ব্রাভো আর স্যামুয়েলসের ব্যাটে ভর দিয়ে।

আগের দিন ৭২ রান করা মাহমুদুহুল্লাহ সেঞ্চুরিটা স্পর্শ করবেন এমনটা প্রত্যাশা ছিল সকলে। কিন্তু তা হয়নি। ৩৬৫ রান থেকে ৩৮৭ রানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ। তবে এটাই কম কিসে! যেখানে ১৯৩ রানে ৮ উইকেটের পতন হয়েছিল। সকাল ব্যাট করতে নেমে ৭২ তেকে আর মাত্র ৪ রান যোগ করে মাহমুদুল্লাহ ফেরত গেলেন। দলের স্কোর ৩৭৭। এরপর শেষ জুটিতে আর কি আশা করা যায়। আরেক পেসার রুবেল হোসেনকে  সঙ্গী করে পেসার আবুল হাসান নিজের স্কোরটা বাড়ালেন ১৩ রান। এতে দলের স্কোর ৩৮৭ হল। আগের দিন ১০৬ বলে ১০০ রান করা আবুল হাসানও মাহামুদুল্লাহ পথ ধরলেন। রুবেল হোসেন অপরাজিত রইলেন।

৩৮৭ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ৩৭ রানে পাওয়েল আর ৪৩ রানে গেইলকে হারিয়ে চাপ কেটে যায় ৩য় উইকেট জুটিতে। আগের টেস্টে পর পর সেঞ্চুরি করা পাওউয়েল-কে রুবেল হোসেন ১৩ রানে আর গেইল-কে ২৫ রানে ফেরত পাঠান স্পিনার সোহাগ গাজী। স্যামুয়েলস ৫ রানে আর ব্রাভো মাত্র ক্রিজে নেমেছেন। লাঞ্চে যাবার সময় স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৬২ রান। ব্রাভো ১১ রানে আর স্যামুয়েলস ১২ রানে। লাঞ্চের পরও দুই জনের রান তোলার গতি ধীর থাকলেও দুই জনেই টেস্ট ফিফটি পূর্ন করেন। আর পানি বিরতির পর স্যাসুয়েলস ১০৭ বলে করেন ক্যারিয়ারের ১৮ম টেস্ট ফিফটি ৬টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে। এর মধ্যেই এই জুটি ১২১ বলে ৫০ রানের পার্টনারশীপ স্পর্শ করেন। ব্রাভো তখন ফিফটির পথে। কিন্ত অল্পের জন্য বেঁচে যান ব্রাভো। কারণ দলীয় ১১৩ রানের মাথায় ব্রাভো যখন ৩২ রানে তখন সাকিবের ডেলিভারি আলতো হাতে আটকাতে গেলে বল কাছাকাছি দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে জমা হয়। মুশফিকরা আবেদন জানান আউটের। কিন্তু টিভি আম্পায়ার রিপ্লেতে দেখেন বল মাটি স্পর্শ করে হাতে জমা হয়েছে। এরপর ব্রাভো ৯ম টেস্ট ফিফটির পথে আর ঝুঁকি নেননি। ১৩৩ বল খেলে ব্রাভো ৪টি চার দিয়ে করেন এই ফিফটি।

এই জুটি ভাঙার আপ্রান চেষ্টা করেন মুশফিক। কারন মিরপুর টেস্টে ২৩১ রানে ৪ উইকেট পতনের পর ৫২৭ রানে সেই ৪ উইকেটেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস ঘোষণা করে। চন্দ্রপল করেন ডাবল সেঞ্চুরি আর রামদীন করেন সেঞ্চুরি। ২৯৬ রানের জুটির সেই ভয় এখন তৈরি করেছে ব্রাভো-স্যামুয়েলস জুটি। মুশফিক বাহিনী এই জুটিকে ধীর গতিতে রান নিতে বাধ্য করলেও সাজঘরে ফেরত পাঠাতে পারেনি। মুশফিক হাতে প্রায় সব অন্ত্রই ব্যবহার করেছেন। সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান, সাকিব আল হাসান, নাইম ইসলাম আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সকলকে দিয়েই বোলিং করিয়েছেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য। বিকেলের দিকে এই জুটি ১৩৯ রান স্কোরে জমা করেছেন।

তাতে ব্রাভো ৬০ রানে আর স্যামুয়েলস ৭৬ রান নিয়ে ৪৪তম টেস্টে ৫ম টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন। স্যামুয়েলস সফল হন কিনা সেটাই ছিল দেখার বিষয়। কিন্তু সফলও হলেন আর অপরাজিতও রইলেন। ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি আদায় করলেন স্যামুয়েলস। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ১ম, দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে ২য়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩য় আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪র্থ টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। দিনটা নিরাপদে পার করে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর বোর্ডে এখন ২ উইকেটে ২৪১ রান। স্যামুয়েলস ১০৯ আর ব্রাভোর ৮৫ রানে ব্যাট করছেন। ১৯৬ রানের এই জুটি কাল তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
তৃতীয় দিন শেষে
টস বাংলাদেশ (ব্যাটিং)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৬৫/৮, ৮৫.৪ ওভার ( মুশফিক ৩৮, নাসির ৫২, মাহমুদুল্লাহ ৭২ অপরাজিত, আবুল হাসান ১০০ অপরাজিত। বোলিং: এ্যাডওয়ার্ড ১৬-২-৮১-৫।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৪১/২, ৮২ ওভার (ক্রিহ গেইল ২৫, পাওউয়েল ১৩, ড্যারেন ব্রাভো ৮৫ অপরাজিত ও স্যামুয়েলস ১০৯ অপরাজিত। বোলিং- সোহাগ গাজী- ২০-৩-৬৭-১ ও রুবেল হোসেন-১৪-৫৩১-১।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট