Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর আগেই নদীর তীর রক্ষায় শত কোটি টাকা

 বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই জাজিরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জমি সংলগ্ন নদীর তীর রক্ষার নামে প্রায় শত কোটি টাকা খরচ করতে যাচ্ছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন চুক্তিমূল্য অনুমোদনের প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠিয়েছে সেতু বিভাগ। ওই প্রস্তাবে নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য দুই লটে প্রায় ৪৭ কোটি ও ৫০ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। যদিও দরপত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, প্রাক্কলিত দরের সঙ্গে মিল রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে দর উল্লেখ করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজও পেতে যাচ্ছে একই কোম্পানি। এ ক্ষেত্রে দরপত্র কারসাজির অভিযোগ করছে কোন কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে যারা নদীতীর রক্ষার কাজটি পেতে যাচ্ছেন তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মাদারীপুর এলাকার রাজনীতিতে তাদের দাপট ব্যাপক। ওদিকে নদীতীর রক্ষায় অর্থ খরচের খাত নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড খাতে থাকা ২৫০ কোটি টাকা থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। যদিও ওই খাত থেকে ইতিমধ্যে ৭৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জাজিরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট করা জমির পরিমাণ ১১০ হেক্টর। এ জমির মধ্যে ৭০ দশমিক ১২ হেক্টর জমিতে ঠিকাদার মাটি ভরাটের কাজ করছে। গত বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করার পর পরই নদী তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এজন্য পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের এক্সপার্ট প্যানেল সদস্যরা গত বছরের ১৬ই সেপ্টেম্বর জাজিরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ভাঙন এলাকা সরজমিন পরিদর্শন করেন। তারা ভাঙন প্রতিরোধের সুপারিশ করেন। এর পর ২০১১ সালের ২৮শে নভেম্বর সেতু বিভাগ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে নকশা তৈরির অনুরোধ করে। এ বছরের ২৫শে জানুয়ারি দুই দশমিক ১৬৯ কিলোমিটার নদীতীর ভাঙন প্রতিরক্ষামূলক কাজের নকশা পাঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এক্সপার্ট প্যানেলের সদস্য ড. আইনুন নিশাত ২১শে ফেব্রুয়ারি জাজিরা এলাকা পরিদর্শন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি করা নকশা পরীক্ষা করে ভাঙন রোধ করার জন্য সুপারিশ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাউবো’র নকশা এবং তাদের অনুমোদিত রেট সিডিউল অনুযায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজে ৪৭ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৪ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে ৪৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৪ টাকা প্রাক্কলন করা হয়। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্যাকেজ দু’টির দর প্রাক্কলনের পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে দরপত্র আহবান করা হয়। এ বছরের ১৯শে এপ্রিল প্যাকেজ-১ এর জন্য চারটি এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য চারটি দরপত্র জমা পড়ে। সাত সদস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এসব দরপত্র মূল্যায়ন করে। এর মধ্যে প্রতিটি প্যাকেজে একটি করে দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে রেসপনসিভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পর অভিজ্ঞতা শিথিল করে নতুন করে পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়। ২০শে জুন দরপত্র জমা দেয়ার দিনে প্যাকেজ ১-এর জন্য পাঁচটি এবং প্যাকেজ ২-এর জন্য পাঁচটি দরদাতা প্রতিষ্ঠান টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রস্তাব জমা দেয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রতিটি প্যাকেজের দু’টি করে দরপত্রকে টেকনিক্যালি রেসপনসিভ হিসেবে ঘোষণা করে। গত ৫ই সেপ্টেম্বর দুটি কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল প্রস্তাব খোলার পর দেখা যায়, প্যাকেজ-১ বারটিয়া- এমবিইএল জেভি ৪৬ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ২২৮ টাকা এবং প্যাকেজ ২-এ ৪৯ কোটি ২৫ লাখ ২১ হাজার ৬০৫ টাকা দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। ইতিমধ্যে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য এ দরে চুক্তি করতে সুপারিশ করেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। ওদিকে গত ১০ই অক্টোবর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুমোদন প্রক্রিয়ার ঠিক আগে আগেই ‘দরপত্রে অনিয়ম প্রসঙ্গে’ শিরোনামে একটি অভিযোগপত্র জমা পড়ে। অভিযোগপত্রটি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মতামতের জন্য পাঠানো হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অভিযোগপত্রটির অভিযোগের সত্যতা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করে। এর পরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সেতু বিভাগ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট