Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
বিরোধীদলীয় নেত্রী, তার পরিবার ও বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে সংসদে। ‘দেশের চেহারা পাল্টে দেয়া, তারেক-কোকো সত এবং জিয়া পরিবারের কোন সম্পদ নেই’- খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যের ও সমালোচনা করেছেন এমপিরা। তারা বলেছেন, মুচলেকা দিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা মহাদুর্নীতিবাজ-লুটেরা তারেক রহমানকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। হাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবনের নায়ক যদি রাষ্ট্রনায়ক হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানচিত্র সত্যিই পাল্টে যাবে। খালেদা জিয়ার মতে তারেক-কোকো সত হলে, তবে অসত বা দুর্নীতিবাজ কে? সংখ্যালঘুসহ দেশের প্রগতিশীল শক্তিরা আজ আতঙ্কিত- খালেদা জিয়া আবারও ক্ষমতায় আসলে আর কত মাকে বিধবা হতে হবে, ইজ্জত হারাতে হবে, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হবে। তাই এসব জঙ্গিবাদ-লুটেরা ও স্বাধীনতাবিরোধী খালেদা জিয়া ও হাওয়া-খোয়াব ভবনের মালিকরা আর যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারেন- সেজন্য তারা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আজ সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উত্তপ্ত বিতর্কে সরকারি দলের এমপিরা দেশের চেহারা পাল্টানোর আগে নিজের চেহারা ও পরিবারের চেহারা দেখার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে শেখ ফজলুল করিম সেলিম পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর সিঙ্গাপুরে পাচারকৃত প্রায় ১৩ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার তথ্য উত্থাপন করলে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদ, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইস্রাফিল আলম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি ও তানভীর শাকিল জয়। বিতর্কের শেষ দিকে অধিবেশনে আসেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তোফায়েল আহমেদ খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে সবকিছু তছনছ করেছিল। আবার যদি তারা ক্ষমতায় আসে তাহলে সবকিছু তছনছ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেন, তারেক রহমান সত ছেলে, ভাল ছেলে। আসলেই খুব-ই ভাল ছেলে! এজন্য যখন ভোলা যাই তখন খালেদা জিয়া পরিবারের মালিকানাধীন কোকো-১, কোকো-২… কোকো-১০ পর্যন্ত লঞ্চ দেখতে পাই। ডান্ডি ডাইং নামের প্রতিষ্ঠানও আছে। ছেঁড়া গেঞ্জি, ভাঙা স্যুটকেস থেকে এগুলো কিভাবে বের হলো? খালেদা জিয়া তা দেশবাসীকে জানাবেন কি? তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান একদিন এ দেশের রাষ্ট্রনায়ক হবে! এ রকমের চরিত্রের ছেলে যদি রাষ্ট্রনায়ক হয়, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কি হবে তা বুঝতেই পারছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের পাচার করা ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরী ডলার বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। এটা জাতির জন্য লজ্জার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বরিশালে গিয়ে হৃদয়ের গভীর থেকে জাতির কাছে বলেছেন, আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন, বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দেব! উনি হৃদয়ের গভীর থেকে সত্যি কথাটিই বলেছেন। আসলে ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় এসে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পদ-ইজ্জত লুট, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ৬৪ জেলা একসঙ্গে বোমা হামলা, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইত্যাদি করে আসলেই উনি (খালেদা জিয়া) দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। আবারও তার চেয়ে খারাপ অবস্থা করে দেশের চেহারা পাল্টাতে চান। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া তিনটি কথা বলেছেন। তা হলো আরেকবার ক্ষমতায় আসলে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন, তারেক-কোকো সত এবং তাদের কোন সম্পদ নেই। খালেদা জিয়া দেশের চেহারা পাল্টে দিতে না পারলেও নিজের চেহারা কসমেটিকস সার্জারি করে বদলাতে পারবেন। আমি আতঙ্কিত। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে তিনবার আমাকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ শেখ হাসিনাসহ আমাদের হত্যা করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অনেক জনকে হত্যা করেছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপিকে হত্যা করেছেন। এটাই যদি খালেদা জিয়ার দেশের চেহারা পাল্টে দেয়ার নমুনা হয়, তবে দেশবাসী আতঙ্কিত না হয়ে পারেন না। তিনি বলেন, যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তখন জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ছেড়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে রক্তপাত ঘটাচ্ছেন। খালেদা জিয়া তাদের মদদ দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজয় করে আরেকটি বাংলাদেশ যোগ করে মানচিত্র পাল্টে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে এ অংশ বাদ দিয়ে মানচিত্র বাদ দেবেন, সেটা পরিষ্কার করে বলতে হবে। তিনি বলেন, শপথ নিয়ে খালেদা জিয়া নির্জলা মিথ্যাচার করে জাতিকে কলঙ্কিত করছেন। আবার যদি জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে আবার জঙ্গিবাদের উত্থান করে বাংলাদেশকে আবারও কলঙ্কিত করবেন। চেহারা পাল্টাবেন বলে খালেদা জিয়া দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ আমরা সবাই আতঙ্কিত। দেশের চেহারা পাল্টানোর আগে নিজের চেহারা ও পরিবারের চেহারা দেখার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিতর্কের সূত্রপাত করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া চরম মিথ্যাচার করছেন। বরিশালের জনসভায় উনি বলেছেন, আরেকবার সুযোগ দেন দেশের চেহারা পাল্টে দেবো। যার ছেলে টাকা পাচার করে, তারা কিভাবে দেশের চেহারা পাল্টাবে? দুর্নীতি দমন কমিশন আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ১৩ কোটি টাকা ফিরিয়ে এনেছে। একটি কোম্পানিকে ঘুষ দেয়া বাবদ এই টাকা পাঠানো হয়েছিল। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসে খালেদা জিয়ার দুই পুত্রের অর্থ পাচারের ঘটনায় সাক্ষী দিয়ে গেছে। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যর সমালোচনা করুন। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বরিশালে খালেদা জিয়া জনসভা করেছেন, সরকার বরং সাহায্য করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে তিনি দেশের চেহারা পাল্টে দিতে চান। জামায়াত-শিবিরকে লাঠিয়াল হিসেবে নামিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যে শুনে দেশবাসী বিস্মিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা ক্ষমতায় আসলে আর কত মা বিধবা হবে, কত ছেলে এতিম হবে। এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পতাকা বহন করেন। তিনি এমন কথা বলতে পারেন না, যা কোনদিনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।