Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতির গৌরব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতির গৌরব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় জনগণ দেশকে দখলদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেছিল। কাজেই এই দেশটি আমাদের। আসুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলি।’ সশন্ত্র বাহিনী দিবস-২০১২ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি সম্মানজনক অবস্থান লাভ করবে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত একটি জাতি গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে কোন রকম প্রশ্রয় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের উত্তরোত্তর অগ্রগতি, শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, সুশৃঙ্খল ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনী আগামী দিনগুলোতে তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আব্দুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি এম মোজাম্মেল হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, মুক্তিযোদ্ধারা এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীতে বর্তমানে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রীগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীরত্বের জন্য খেতাব প্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সম্বর্ধনায় যোগ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সামর্থ্য এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত মজবুত ভিত্তির ওপর সশস্ত্র বাহিনী অবিচল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,বঙ্গবন্ধু স্মার্ট ও দক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং স্বাধীনতার পরে গুরুতর আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি সর্বাধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শি পথ ধরে তাঁর বর্তমান ও পূর্ববর্তী সরকার শাসনকালে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষম করে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অধীনে তিন বাহিনীর উন্নয়নে সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী দেশের ভাবমূতি উজ্জ্বল করেছে। দেশের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সর্বদা দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশ নিচ্ছে, অবকাঠামো নির্মাণ করছে এবং বিভিন্ন গণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমানভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখছে। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের কথা উলে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই ওই ঘটনায় ১৮ হাজার ৫২০ বিদ্রোহীর বিচার সম্পন্ন করেছে। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলো সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি বিচার কাজ শিগগিরই শেষ হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে তাঁর সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সালে দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, গত তিন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসি। এ সময় দেশের অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাঁর সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস সরবরাহ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে ২৭ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে। দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্য, কূটনীতিক ও অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট