Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এ বিজয় দেশের সাধারণ মানুষের। গত ত্রিশ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেকে বলছেন, দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতার আর প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, বিদেশী দাতাগোষ্ঠীকে গুড বাই বলার সময় এখনও হয়নি। গতকাল রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্র্যাক ইন সেন্টার মিলনায়তনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স স্টাডিজ (আইজিএস)-এর ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থার ওপর এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আইনুন নিশাতের সভাপতিত্বে প্যানেলের অন্যতম আলোচক ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। সামপ্রতিক টিআইবি প্রতিবেদনের ওপর সংসদে তীব্র সমালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে হোসেন জিল্লুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, যারা জনপ্রতিনিধি নন বা রাজনীতিতে সক্রিয় নন তারা কিছু বলতে পারেবেন না এমন ধারণা অগণতান্ত্রিক। কেউ তুলসীপাতা নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যা প্রাপ্য তা তাকে দিতেই হবে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিশাল অবদান রেখেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃঢ় করেছেন। তবে শুধু অতীত কখনও আগামীদিনের চলার পথনির্দেশক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাত অন্যতম ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর মারাত্মক হুমকির মুখে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমঝোতা করেছে। এছাড়া, সরকারি নানা তথ্য-বন্যায় আমরা ভাসছি। এমডিজি অর্জন নিয়ে হইচই হচ্ছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষার মান দেশে ক্রমাবনতির দিকে যাচ্ছে। দলীয়করণে প্রশাসন বিপর্যস্ত। যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। কোন কোন ক্ষেত্রে কাগুজে সফলতায় আমরা বন্দি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের সার্বিক শাসন পরিস্থিতি, নীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশের দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া গবেষণায় জোর দেয়া হয় গণতন্ত্র সুসংহত করা, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা, নির্বাহী পদগুলোর জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়া, সংসদকে কার্যকর করা, বহিঃশক্তির সঙ্গে চুক্তির স্বচ্ছতার স্বার্থে কিছু আইনি কাঠামো সংশোধন প্রভৃতি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়। তা না হলে বাংলাদেশ অনুগত, নাজুক, বিভ্রান্ত ও দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। গবেষণা প্রতিবেদনটির বিভিন্ন অধ্যায়ের মধ্যে গণতন্ত্র ও সুশাসন এজেন্ডা, জনপ্রশাসন, অর্থনৈতিক খাত, এনজিও, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক শাসন পদ্ধতি প্রভৃতি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্যানেল আলোচকদের বাইরেও আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, গোলাম মাওলা রনি এমপি, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে গবেষণাকর্ম উপস্থাপনা করেন আইজিএস-এর রিসার্চ ফেলো এম শহীদুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. রিজওয়ান খায়ের।