Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইলিয়াসের পরিবারের শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে তাকিয়ে আছে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর পরিবার। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে দীর্ঘ ৭ মাস ধরে তারা ইলিয়াসের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। প্রহর গুনছেন কবে আসবেন প্রিয় মানুষটি। এর বাইরে ইলিয়াস আলীর পরিবারের আর কোন চাওয়া নেই। ইলিয়াস আলী সুস্থ অবস্থায় ফিরে এলেই তারা হাজারো শোকরিয়া আদায় করবেন। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই আছকির আলী গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতা বড়। তার এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীই এখন একমাত্র ভরসা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে কোন মূল্যে এম ইলিয়াস আলীকে ফেরতে চাই।’ শুধু ইলিয়াস আলীর ভাই-ই নয়, ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধ মা সূর্যবান বিবিও তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে। তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীও স্বজনহারা। তিনি জানেন স্বজনদের বেদনা।’ সুতরাং ইলিয়াসকে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীই এখন একমাত্র ভরসা বলে জানান তিনি। এদিকে, এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনার পর বিএনপি আন্দোলন চালালেও এবার এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা জানান, এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ পেতে গত সপ্তাহে বিএনপির পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তারা চেয়েছেন ইলিয়াস আলীর খোঁজ। সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহিদ আলী গতকাল জানিয়েছেন, সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ দিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। আর এতে স্বপ্রণোদিত হয়ে সাধারণ মানুষ এই স্বাক্ষর অভিযানে শরিক হয়েছে। তিনি জানান, ইলিয়াস আলী শুধু সিলেটের বিএনপির নেতা নন। তিনি সিলেটবাসীরও নেতা। সিলেটের সামাজিকতার সঙ্গে ইলিয়াস আলীর সম্পৃক্ততা ছিল বেশি। এ কারণেই সাধারণ মানুষ এসে ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়েছে। ইলিয়াস আলীর দাবি চেয়েছে বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ এলাকার সবচেয়ে বেশি মানুষ। তার নির্বাচনী এলাকা থেকেই প্রায় ২ লাখ গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেট বিএনপি নেতা ও বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীর জন্য গণস্বাক্ষরে কোন প্রচারণা চালাতে হয়নি। বালাগঞ্জের মানুষ বাড়ি থেকে এসে এসে গণস্বাক্ষর দিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ থেকে ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়ে এক লাখ মানুষ গণস্বাক্ষর দিয়েছে। হবিগঞ্জ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, হবিগঞ্জের মানুষ ইলিয়াস আলীর সন্ধান চায়। বিগত নির্বাচনগুলোতে ইলিয়াস আলী হবিগঞ্জ একাধিকবার গেছেন। মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। এ কারণে মানুষ ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গণস্বাক্ষর দিয়েছে। সিলেটের বিএনপির নেতারা জানান, যারা ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়ে স্বাক্ষর করেছেন তাদের বার্তা সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ৫ লাখ মানুষ ইলিয়াস আলীর সন্ধান চাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছে। এদিকে, ইলিয়াস আলী গুমে ঘটনার পর সিলেটসহ গোটা দেশে নানা অপপ্রচার চলছে। খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অভিযানের মাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। এর বাইরে এখন সকল অনুসন্ধান বন্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা ইলিয়াস সম্পর্কে সম্পষ্ট কিছু বলছেন না। তবে সামপ্রীতিক সময়ে হুন্ডির বিষয়টি বেশ আলোচিত হলেও ইলিয়াস আলীর পরিবার এ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। ইলিয়াস আলীর ভাই আছকির আলী গতকাল জানান, ইলিয়াস আলী কি জানতেন সেটি আমাদের বোধগম্য ছিল না। কিংবা তার স্ত্রী লুনাও সে ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। কিন্তু ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়টিকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গল্প সাজানো হয়েছে। যেসব গল্পের কোন ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কোন গল্পের ভেতরে ঘুরপাক খেতে চাই না। আমরা মানুষ চাই। ইলিয়াস আলীর জন্য মা সূর্যবান বিবি শয্যাশায়ী। নিষ্পাপ শিশু নাওয়াল কাঁদছে। পরিবার সবার ঘুম হারাম। বিপর্যস্ত অবস্থা। এই সময়ে সাজানো কাহিনীতে পরিবারের লোকজন পা মাড়াতে চায় না।’
নিহতদের পরিবারকে অনুদান: সিলেটে ইলিয়াসের সন্ধানের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে গুলিতে নিহত তিনজনের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকালে এম ইলিয়াস আলীর রামধানাস্থ বাড়িতে ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই আছকির আলী নিহত জাকির, মনোয়ার, সেলিমের পরিবারের কাছে এই টাকা হস্তান্তর করেন। এ সময় নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকবে ইলিয়াস আলীর পরিবার। আপনাদের ঋণ ইলিয়াস পরিবার কখনও শোধ করতে পারবে না। এ সময় জেলা বিএনপি নেতা মোজাহিদ আলী, আবুল কালাম কছির, লিলু মিয়া চেয়ারম্যান, মো, ময়নুল হক উপস্থিত ছিলেন।
লুনার প্রতিবাদ: ১৭ই নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ‘ইলিয়াস আলী নিখোঁজ রহস্য-১: কল আসা ৩টি মোবাইল সেট খালেদা জিয়ার কাছে’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। গতকাল এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমাকে উদ্ধৃত করে যেসব বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এ ধরনের রিপোর্ট প্রকাশ করায় আমি মর্মাহত এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কারণ বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ হলে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত রহস্য আড়ালে থেকে যাবে। আমি আশাকরি প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গণমাধ্যম আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। তিনি বলেন, যুগান্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে- ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর পর তিনি ফোনসেটগুলো দ্রুত বন্ধ করে তার কাছে দিতে বলেন। সে অনুযায়ী সবগুলো ফোনসেট বন্ধ করে তার হাতে জমা দেয়া হয়েছে এবং ঢাকা পাচারের ঘটনা জেনে যাওয়ায় গুম’। আমি এ ধরনের কোন বক্তব্য দেইনি। আমার উদ্ধৃতি দিয়ে এসব বক্তব্য ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। লুনা বলেন, যুগান্তরের ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কোন কথাই হয়নি। তিনি মূলত বাসায় এসেছিলেন গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তথ্যাদি আমাকে জানানোর জন্য। আমি বারবার বলেছি, নিউজ করার জন্য কোন ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। কিন্তু প্রতিবেদনে আমার বরাত দিয়ে মনগড়া তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করা হয়েছে। লুনা আরও বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোন তথ্য থাকলে তা সকল গণমাধ্যমকে জানাতাম। এককভাবে একটি পত্রিকাকে কেন বলবো। তাই আমাকে জড়িয়ে বা আমার বরাত দিয়ে এ ধরনের মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোন সংবাদ প্রকাশ না করতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট