Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তারল্য সঙ্কট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য গত সপ্তাহে বিশেষ রেপোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ১৫ হাজার ৬৫ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে করে পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভূমিকা বহাল রাখতে ও বড় ধরনের দরপতন রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম-নীতিতে শিথিলতা আনাসহ নগদ অর্থের সহায়তা বাড়িয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৩ নভেম্বর প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকসহ ২৩ বাণিজ্যিক ব্যাংককে ৭ হাজার ৭ শ ৩৬ কোটি ও ১৪ নভেম্বর ৭ হাজার ৬ শ ৪৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের দেখভাল না করলেও এর বিরুদ্ধে কোন সময়ই ছিল না, এখনও নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বরং বাজার স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। যাতে পুঁজিবাজার আবার ঘুরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে তারল্য সঙ্কট তৈরি হয়। অতি সমপ্রতি ১৫টি প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকের কাছে বন্ড রেখে সরকার ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সংবিধিবদ্ধ জমার এবং অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। দেশে বন্ডের বাজার না থাকায় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে রয়েছে। বাজারে ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে বলা হলেও আসলে তা আছে কাগজে-কলমে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সঙ্কট মেটাতে এ সহায়তা প্রদান করেছে। জানা গেছে, একাধিক ব্যাংক তারল্য সঙ্কট দেখিয়ে পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ কমিয়েছে। এছাড়া মানি মার্কেটেও অস্থিতিশীল পরিস্থির সৃষ্টি করছে। কিন্তু এটি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে বাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়েছে এবং এ কারণে অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি সমাধান করাসহ স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক বাজারে তারল্য সঙ্কট দেখিয়ে অতি মুনাফা অর্জন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এটি চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তবে কোন ব্যাংকে যদি তারল্য সঙ্কট দেখা দেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি সমাধানে বিবেচনা করবে। তারল্য সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারবাজার যখন চাঙ্গা ছিল তখন কিছু কিছু ব্যাংক অতি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে আইনি সীমা অতিক্রম করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সমপ্রতি বাজারে দরপতন ঘটায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না। এছাড়া তারা ডিপোজিটের তুলনায় অধিক হারে ঋণ বিতরণ করেছে। ফলে তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমার হার) বা এসএলআর (বিধিবদ্ধ সংরক্ষণের হার) দায়ী নয়। সিআরআর বা এসএলআর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিংয়েরই একটি অংশ। কিন্তু বাজারে তারল্য সঙ্কটের পেছনে সিআরআর বা এসএলআরকে দায়ী করা ঠিক নয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট