Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২
সংসদ রিপোর্টার: দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা ও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে তোপের মুখে পড়েন স্থাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক। এ নিয়ে এমপিদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন তিনি। হাসপাতালের বেহাল দশা বর্ণনা করে কয়েক এমপি বলেন, এসব নিয়ে প্রশ্ন করে মন্ত্রীকে লজ্জা দিতে চাই না। কারণ এখন লজ্জাতে প্রিজারভেটিভ দেয়া থাকে। এদিকে এমপিদের অসন্তোষের মুখে মন্ত্রী বারবার বলেন, আমাদের কাজ নিয়ে অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সম্পূরক প্রশ্নে তোফায়েল আহমেদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবার করুণ দশা দূর করার জন্য আরও বেশি সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ করে সমস্যার সমাধান করবেন কি না? তিনি আরও জানান, তার জেলা ভোলায় ডাক্তার সঙ্কট নিয়ে সংসদে নোটিশ দেয়ার পর যে কয়জন ডাক্তার ছিল তাদেরও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৬/৭ হাজার ডাক্তার প্রয়োজন। তবে এখন আমরা তা দিতে পারব না। পুতুলের মতো ডাক্তার বানানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে আমরা জটিলতায় আটকে গেছি। এখন বিকল্প রয়েছে এডহকের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া। মন্ত্রী বলেন, অনেক চিকিৎসক বিদেশে পড়তে গিয়ে বিভিন্ন তদ্বির করে থেকে যান। গ্রামে না গিয়ে বিদেশে শিক্ষা সফরে চলে যান। ফলে বিভিন্ন পদ শূন্য হয়ে রয়েছে। এখন ডাক্তার এত সঙ্কট যে এক জায়গায় দিলে আরেক জায়গা খালি হয়ে যাবে। এ সময় মন্ত্রী তার নিজের এলাকায়ও চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এরপরই সরকার দলীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিক একই বিষয়ে প্রশ্ন করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কারণেই আজ মন্ত্রীকে শুনতে হচ্ছে লজ্জায় প্রিজারভেটিভ। এর আগে সরকারদলীয় অপর এমপি মারুফ সাকলাইন তার নির্বাচনী এলাকার দুটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক সঙ্কটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ নিয়ে আমি অন্তত এক শ’ বার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি। প্রথম ডিও লেটারও লিখেছি। তারপরও কাজ হয়নি। তাই মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, কবে কবে কবে আমার এলাকায় ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে। এ সময় এমপিরা টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানান। এদিকে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির হাফিজউদ্দিন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রী বলছেন দেশের এখানে-ওখানে নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এ সবের প্রয়োজন নেই। বরং যেগুলো আছে সেগুলোকে কিভাবে ভালভাবে পরিচালনা করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ম নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণকারীদের পুরস্কার দেবে সরকার
জন্ম নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণকারীদের পুরস্কার দেবে সরকার। চলতি অর্থবছর থেকে এ পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত এম আবদুল লতিফ এ নিয়ে প্রশ্ন করেন। অপর এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিকেন্দ্রীকরণে অনেক সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফরিদা রহমানের প্রশ্নে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কেনাকাটায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী জানান, বর্তমার সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে ডাক্তার-নার্সসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩৯ হাজার ৯২জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মো. আবু তালহার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক মানের আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, মেশিনসহ অত্যাধুনিক রোগ নির্ণয়ের মেশিন সরবরাহ করার পরিকল্পনা আছে। তিনি জানান, কিডনি প্রতিস্থাপন আইনের বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। দ্রুত এটি জারি করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ খাতে আর্থিক সংস্থা থেকে মোট ১৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি যুগোপযোগী করে প্রণয়ন জন্য চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রী আরও জানান, ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে আরও ১ হাজার ৬২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট