Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যে কারণে শেষ মুহূর্তে বাদ হুদা

হাসান শাফিঈ: শেষ মুহূর্তে সার্চ কমিটির তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সদ্যবিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ টি এম শামসুল হুদা। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের একটি রায়ের আলোকেই নতুন করে ড. হুদাকে সিইসি করার পথ থেকে কমিটি সরে আসে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২০০৭ সালের ১২ই ডিসেম্বর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সিইসি পদে বিচারপতি এম এ আজিজের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেন। ওই রায়ে নির্বাচন কমিশনারের পদকে একই সঙ্গে ‘প্রজাতন্ত্রের কর্ম ও লাভজনক পদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সংবিধানের ১১৮(৩)(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।’ বিচারপতি এম এ আজিজ আপিল বিভাগের বিচারপতি থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৩শে মে সিইসি পদে নিয়োগলাভ করেন। একই সময় তিনি দু’টি সাংবিধানিক পদে থাকতে পারেন কিনা- এ নিয়ে একই বছর ১৬ই জুন একটি রিট মামলা দায়ের করেন তখনকার আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি)। ৬ জন এমিকাস কিউরির মতামত ও দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১২ই ডিসেম্বর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সিইসি পদে বিচারপতি এম এ আজিজের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে। ততদিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে এম এ আজিজ অবশ্য পদত্যাগ করে সরে যান। এ বিষয়ে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গতকাল মানবজমিনকে বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই ড. হুদাকে দ্বিতীয় মেয়াদে সিইসি পদে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধন ছাড়া তাকে নতুন করে নিয়োগ দিলে তা অবৈধ হবে। আর এ বি এম খায়রুল হকের রায় তো আছেই। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ‘রুহুল কুদ্দুস এডভোকেট বনাম এম এ আজিজ মামলার দীর্ঘ ৬২ পৃষ্ঠার রায় পর্যালোচনা করে একজন আইন কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, সাংবিধানিক বাধার কারণেই ড. এ টি এম শামসুল হুদাকে নতুন করে সিইসি পদে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। কোনভাবে ড. হুদাকে নতুন করে সিইসি পদে নিয়োগ দেয়া হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আর তা হলে ড. হুদা ও সরকার পক্ষ ফেঁসে যেতে পারে। ওই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, ড. হুদাকে সিইসি পদে নতুন করে নিয়োগ দেয়ার জন্য যারা ফাঁক খুঁজছেন তাদের বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের রায়টি পড়ে দেখা উচিত। রায়ে বলা হয়েছে-
সংবিধানের আর্টিকেল ১০২
সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদ অ্যাক্ট অব সেটেলমেন্ট, ১৭০১-কে অনুসরণ করিয়া প্রণয়ন করা হইয়াছিল। উক্ত অনুচ্ছেদের ৩ ও ৪ উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী প্রভৃতি পদে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি বা নির্বাচন কমিশনার কখনও নিয়োগপ্রাপ্ত হইতে পারেন না। উপ-অনুচ্ছেদ ৩ ও ৪ এরূপ নিয়োগে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছে যাহাতে তাহারা কখনওই ৪ উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণিত এবং অন্য কোন পদ গ্রহণে প্রলুব্ধ হইতে না পারেন। একজন বিচারপতি ও একজন নির্বাচন কমিশনার সম্পূর্ণ নির্মোহ ও স্বাধীনভাবে যেন তাহাদের কার্যাবলী সম্পন্ন করিতে পারেন সেই উদ্দেশেই উল্লেখিত উপ-অনুচ্ছেদদ্বয় প্রণয়ন করা হয়।
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভ- প্রতিবন্ধকতা এবং অযোগ্যতা- ১১৮ অনুচ্ছেদের ৩ উপ-অনুচ্ছেদে ‘অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না’ বা ‘শ্যাল নট বি আদারওয়াইজ ইলিজিবল ফর এপয়েনমেন্ট ইন দ্য সার্ভিস অব দ্য রিপাবলিক’ বাক্যগুলোর কারণে নির্বাচন কমিশনার পদের মেয়াদান্তে বা উক্ত পদে থাকাকালে তিনি প্রজাতন্ত্রের লাভজনক বা অলাভজনক, সর্বপ্রকার চাকুরি বা পদের অযোগ্য হইবেন। একজন সচিব চাকুরিকালেও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাইতে পারেন কিন্তু পুনরায় সচিব পদসহ প্রজাতন্ত্রের অন্য কোন প্রকার চাকুরি বা পদে প্রত্যাবর্তন করিতে পারিবেন না। ইহা সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতা এবং পরিপূর্ণ অযোগ্যতা। ইহার কোন রূপ ব্যতিক্রমে সংবিধানের মর্মার্থ বা মূলবাণী (স্পিরিট অব দ্য কনস্টিটিউশন)-কে ধ্বংস করিবে।
আর্টিকেল ১০২ ও ১০৭
সংবিধানের মূল নীতি- বিচারক পদ হইতে উক্ত পদে বহাল হওয়ায় তিন দফা সংবিধান ভঙ্গ হইয়াছে। প্রথমত, বিচারক পদ সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদের ৪ উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণিত হইয়াছে বিধায় তিনি ৩ উপ-অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ সহ প্রজাতন্ত্রের অন্য কোন পদে বহাল হইতে পারিবেন না। দ্বিতীয়, আপিল বিচারক পদ প্রজাতন্ত্রের ৩টি স্তম্ভ বা বিভাগের একটি। উক্ত বিভাগ বহির্ভূত প্রজাতন্ত্রের অন্য বিভাগে চাকুরি গ্রহণকরত রাষ্ট্রের ক্ষমতা পৃথক্‌করণ নীতি ভঙ্গ করিয়াছে। এই নীতিও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি মূল নীতি বা ব্যাসিক ইনস্ট্রাকচার। ইহা আমাদের সংবিধানের একটি মূল নীতি। রায়ে ১৪৭(৪) অনুচ্ছেদের প্রতিটি পদকেই ‘লাভজনক’ বলা হয়েছে। ‘এই কারণে কোন বিচারপতি যেমন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে যোগদান করিতে পারিবেন না তেমনি কোন নির্বাচন কমিশনারও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভ করিতে পারেন না।
উল্লেখ্য, বিচারপতি এম এ আজিজ ১৬.০৬.১৯৯৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। উক্ত পদে ৩১.৫.১৯৯৮ তারিখে তিনি স্থায়ী বিচারপতি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ০৭.০১.২০০৪ তারিখে তিনি আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অতঃপর ২৩.৫.২০০৫ তারিখে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাহাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং তিনি পুনরায় ওই পদের জন্য শপথ গ্রহণ করেন। পরে একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বিচারপতি এম এ আজিজ বলেন, তিনি আপিল বিভাগ হইতে পদত্যাগ করেন নাই এবং কোন কারণে তাহার প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদটি ভাল না লাগিলে তিনি আপিল বিভাগে পুনরায় যাইতে পারেন। এম এ আজিজের এ বক্তব্য প্রকাশের পর ১৬ই জুন ২০০৫-এ আদালতে শরণাপন্ন হন রুহুল কুদ্দুস এডভোকেট। নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ ও তাদের মেয়াদ বিষয়ে সংবিধানের ১১৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না; (খ) অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।
এসব বিধান পরিপালন করে সিইসি ড. হুদাকে নতুন করে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। তবে অপর দুই কমিশনারের কোন একজনকে সিইসি পদে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা সমর্থিত তদারক সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হলে সিইসি হিসেবে নিয়োগ পান ড. এ টি এম শামসুল হুদা। সিইসি হিসেবে তিনি কমিশনে যোগ দেন ৫ই ফেব্রুয়ারি। একই দিন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কমিশনে যোগ দেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। দু’জনই ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি পদ ছেড়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


4 Responses to যে কারণে শেষ মুহূর্তে বাদ হুদা

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 7:23 am

    Seriously needed publish admin great one i bookmarked your website page see you in up coming webpage publish.

  2. escort ilanlari

    March 14, 2012 at 5:15 am

    I used to be searching for this blog last a few days great web site manager great posts anything is terrific

  3. sikvar

    March 14, 2012 at 6:20 am

    I used to be looking for this website survive 3 days wonderful website owner good posts everything is superb

  4. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:00 pm

    I was curious about your next publish admin truly necessary this website super wonderful blog