Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে ও গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন শেখ সায়মা হোসেন পুতুল বলেছেন, অটিজম আজ এক আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায় হলো পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ মনোযোগ। মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের কোনরকম হেলা না করে তার বিকাশের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলো ধৈর্যের সাথে যাচাই করে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা। অটিষ্টিক শিশু ও তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি জাতিসংঘের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
‘অটিজম আক্রান্ত শিশু, তার পরিবারের জন্য আর্থ-সামাজিক সহায়তা’ শীর্ষক প্রস্তাব উত্থাপন উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গত ১৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ইকোসক চেম্বারে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন এতে সভাপতিত্ব করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভুক জেরেমিক, মহাসচিবের বিশেষ দূত ও সহকারী মহাসচিব শামসাদ আকতার, ইকোসকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস আলফন্সো ডি অ্যালবা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. জ্যাকব কুমারেসান, অটিজমকে স্বীকৃতি প্রদানের আন্দোলন ‘অটিজম স্পিকস’র প্রতিষ্ঠাতা বব রাইট ও সুজান রাইট, জাতিসংঘে ফিলিপাইনের স্থায়ী প্রতিনিধি লিবরান এন ক্যাবাকতুলান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
শেখ সায়মা হোসেন পুতুল বলেন, অটিজম মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতা শিশুর জন্মের তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পায়। তিনি বিশ্বে অটিজমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮৮ জনের একজন এবং সারবিশ্বে মোট ৭০ মিলিয়ন মানুষ অটিজমে আক্রান্ত। প্রতিবছর যে সংখ্যায় এইডস, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয়, তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় যোগ হচ্ছে অটিস্টিক শিশু। আমাদের দেশে গত দুই বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি যে অটিজম আক্রান্তদের জন্য প্রয়োজন বহুমুখী সহায়তা। বাংলাদেশের প্রস্তাবে মানসিক প্রতিবন্ধী সমস্যায় আক্রান্তদের সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ড. একে মোমেন বলেন, জাতিসংঘে এই প্রস্তাব পেশ প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি আমাদের মনোযোগ বিশেষ করে পারিবারিক জীবনে অর্থনৈতিক অবদান, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বৃহত্তর অর্থে বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ববহ। এজন্য তিনি অটিজমের ব্যাপারে ব্যক্তি পর্যায় থেকে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তাবটি পাসের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের ১২৯টি সদস্য দেশের সমর্থন দরকার। প্রস্তাবের খসড়া বিতরণের পরই যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ, ক্যারিবীয় নয়টি দেশ, দক্ষিণ-এশিয়ার আটটি দেশ প্রস্তাবের কো-স্পন্সর হয়েছে এর গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আশা করেন যে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশের সমর্থন অবশ্যই পাওয়া যাবে।
ফিলিস্তিন-ইসরাইলের সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাওয়ায় তার শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন সহকারী মহাসচিব শামসাদ আকতার। বান কি-মুন তাঁর বার্তায় বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অটিজম আক্রান্তদের সহায়তায় বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তার মতে তাত্ত্বিকভাবে আমরা যা বুঝতে সক্ষম, সব ক্ষেত্রেই তা চর্চা করা হয় না। শুরুতেই অটিজম আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদেরকে কর্মোপযোগী করে তুলতে শিক্ষাক্ষেত্রেও সহযোগিতা দিতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব অটিজমসহ সব ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সকলকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ভুক জেরেমিক বলেন, অটিজম বিষয়ে সচেতনতার অভাব দূর করতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে এ ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রস্তাবের পক্ষে তার দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া এ সংক্রান্ত তহবিল গঠনের বিষয়েও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। জেরেমিক জানান, আগামী বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের শুরুর আগে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যার বিষয়বস্ত হিসাবে থাকবে মানসিক প্রতিবন্ধিতা। পাশাপাশি শিগগিরই এর জন্য সহায়তাকারী হিসাবে কয়েকজনকে নিয়োগ করা হবে।