Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টিআইবি’র বিরুদ্ধে নালিশ যাচ্ছে বার্লিনে

জার্মানির বার্লিনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর সদর দপ্তরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পাঠাবে সরকার। এমপিদের নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ প্রতিবেদন তৈরির জন্য বলা হবে। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তরে শাহরিয়ার আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ তথ্য জানান। সদস্য শাহরিয়ার আলমের তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ইসরাফিল আলম ও ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, টিআইবি গত ১৪ই অক্টোবর রিপোর্টটি প্রকাশ করার পরের দিন পত্রপত্রিকায় রিপোর্টের শিরোনাম হয় ‘৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য দুর্নীতিবাজ।’ অথচ টিআইবি’র রিপোর্টে ১৪৯টি আসনের ব্যাপারে জরিপ করা হয়েছে। এই বিবেচনায় পত্রিকায় টিআইবি’র রিপোর্টের ভিত্তিতে যথাযথ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। অথচ টিআইবি এর কোন প্রতিবাদ করেনি। এটা প্রমাণ করে টিআইবি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমপিদের হেয় করার জন্যই রিপোর্টটি দিয়েছে। তিনি বলেন, যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন ঠিক সেই মুহূর্তে টিআইবি’র এই রিপোর্ট প্রকাশ দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল টিআইবি সরকারের এই উদ্যোগকে সহায়তা করতেই রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু রিপোর্টটি পুরো পড়ার পর হতাশ হতে হয়। রিপোর্টে ঢালাও অভিযোগ করা হলেও কারও বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায় এমন কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়নি। টিআইবি রিপোর্টটি তৈরির জন্য তাদের পছন্দমতো পাঁচটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা এবং তাদের চয়নকৃত ৪শ’ থেকে ৬শ’ ব্যক্তির মতামত নিয়েছে। গবেষণা পদ্ধতিতে সুবিধাজনক নমুনায়ন ব্যবহার করে পূর্বধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এটা এ ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে ভুল পদ্ধতি এবং এর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বমূলক ফল পাওয়া যায় না। তথ্যমন্ত্রী বলেন, টিআইবি কিসের মাপকাঠিতে ৩২০টি নিবন্ধনকৃত দৈনিক পত্রিকার মধ্য থেকে পাঁচটি পত্রিকা বাছাই করলো? ফোকাস গ্রুপে যারা আছেন এবং যিনি সঞ্চালক তার পছন্দমতো ধারণা থেকেই গবেষণার এলাকা এবং ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। যে ৬শ’ ব্যক্তিকে সচেতন হিসেবে উল্লেখ করে মতামত নেয়া হয়েছে তারা টিআইবি পরিচালিত সনাক বা ‘সচেতন নাগরিক গোষ্ঠী’র সদস্য। যেসব স্থানে সনাক আছে শুধুমাত্র সেসব আসনেই টিআইবি জরিপ করেছে, যেখানে সনাক নেই সেখানে জরিপ করা হয়নি। টিআইবি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে অপর্যাপ্ত তথ্যের কারণে তাদের কাছ থেকে মতামত না নিয়ে সচেতন নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত নেয়া হয়েছে। এটা গর্হিত কাজ এবং এর মধ্য দিয়ে টিআইবি সাধারণ মানুষকে অপমান করেছে। এমপিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এমপিদের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তা সংসদই ঠিক করবে। তবে তথ্য মন্ত্রণালয় টিআইবি’র রিপোর্টের দুর্বল দিক এবং ভুল পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বার্লিনে টিআইবি’র সদর দপ্তরকে অবহিত করবে।
বর্তমান সরকারের আমলে খুন ৮ সাংবাদিক: এদিকে প্রশ্নোত্তরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, বর্তমান সরকারের আমলে কোন সাংবাদিক নির্যাতিত হয়নি, তবে বিভিন্ন ঘটনায় আট জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এরা হলেন- মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার সাগর, এটিএন বাংলার মেহেরুন রুনি, যশোর থেকে প্রকাশিত গ্রামের কাগজের জামালউদ্দিন, এনটিভি’র আতিকুল ইসলাম, দৈনিক জনতার ফরহাদ খান, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম মিঠু, সিলেটের সাংবাদিক ফতেহ ওসমানী এবং দৈনিক ভোরের ডাকের ফরিদুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার টকশোতে কেউ অশালীন বক্তব্য দিলে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং টকশো’র আয়োজক ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কর্তৃপক্ষ উভয়কেই বহন করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। এছাড়া, বিএনপি’র জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্ন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের খবর সমভাবে প্রচার করা হবে কিনা’-র জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়টি অনুষ্ঠানের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট