Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঢাকায় পুলিশের ওপর শিবিরের হামলা, চট্টগ্রামে ২৫ গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, গুলি ছিনতাই

 ঢাকা ও চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক শিবির কর্মী আহত হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মী। তবে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে। এখানে অন্তত ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে কমান্ডো স্টাইলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সকালে হঠাৎ করে দলটির কয়েক শ’ নেতা-কর্মী গ্রুপে ভাগ হয়ে রাস্তায় নামে। এরপর তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালালে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় শিবির কর্মীদের মুখে কালো কাপড় দেখা যায়।
একপর্যায়ে ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দিয়ে দলে দলে তারা অন্তত ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারীর বাহিনীর একটি বড় পিকআপ ভ্যানও ছিল। সংঘর্ষ চলাকালে তারা নগরীর প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
তাদের হামলায় সর্বশেষ ৫ পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল হামলার সময় ২০ রাউন্ড গুলি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছে। এসব ঘটনায় ছাত্রশিবিরের ৪১ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চলেছে দিনভর তল্লাশি। তবে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবিরের হামলার প্রথম ঘটনাটি শুরু হয় ষোলশহর এলাকায়। সকাল সাড়ে ৯টায় ওই এলাকার মোড়ে একে একে জড়ো হতে থাকে শিবিরের কয়েক শ’ নেতা-কর্মী। তারা জড়ো হয়ে কারাগারে বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল শুরু করার প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর তারা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে শুরু হয় হামলা।
প্রথমে একটি বিআরটিসি বাসে হামলা চালিয়ে তছনছ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে শিবির কর্মীরা আরও ২০টি গাড়িতে হামলা চালায়। একটি যাত্রীবাহী বাসেও আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান। শিবির কর্মীরা ভ্যানটি দেখে বড় বড় ইট মারতে শুরু করে।
শিবিরের নেতা-কর্মীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে কাছে পেয়ে তাদের গায়ের ওপর হামলে পড়ে। বেধড়ক পিটুনি দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। গুরুতর আহত অবস্থায় এমন অন্তত ৫ জন সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
এদের মধ্যে ৩ জন এসআই ও একজন কনস্টেবল রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বশির আহমেদ নামের এক জনের অবস্থা খুবই গুরুতর। শিবির কর্মীদের হামলায় তার মাথা ফেটে গেছে। হামলার সময় তিনি গাড়িতে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে বাঁচাতে এসে হামলার শিকার হন আরেক কনস্টেবল নুরুল ইসলাম, ইলিয়াস, ফিরোজ নামের পুলিশের আরও ৩ সদস্য।
শিবির কর্মীরা ষোলশহর এলাকা থেকে বেরিয়ে দ্রুত চলে যায় প্রবর্তক মোড়ে। সেখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে শিবির সমর্থিত একটি গ্রুপ বেরিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সবাই মিলে মিছিল বের করলে প্রবর্তক এলাকায় আবার ধাওয়া দেয় পুলিশ। এইবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে শিবির কর্মীরা। এক পর্যায়ে তারা নগরীর প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালায়। সেখানে বড় বড় ইটপাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এতে ইউনিভার্সিটির অনেক জানালার কাচ ভেঙে যায়। এই সময় সেখানে বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস পরীক্ষা চলছিল। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ চলাচলের গেইটটি বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচতলায় তিনটি দোকানও হামলার কবলে পড়ে।
পরে এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রাস্তায় নেমে অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এক ঘণ্টা অবরোধ করার পর পুলিশ এসে জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
পুলিশের সঙ্গে শিবিরের সংর্ঘষের ঘটনা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তে আরও কয়েক শ’ নেতা-কর্মী শহরের চকবাজার এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করে। এবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে দলটির সব কর্মী। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে শুরু করে আরেক দফা ভাঙচুর।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে চকবাজার, প্রবর্তক, ষোলশহর থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। রাস্তার পাশের সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসা বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দৌড়াতে গিয়ে ৫ পথচারী ড্রেনে পড়ে গিয়ে হাতে-পায়ে আঘাত পান। দুপুর একটায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, একটি পরিকল্পনার নকশার ছক এঁকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এ তাণ্ডবের ঘটনা চালিয়েছে। তারা হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারাত্মক আহত করেছে। এখন জানতে পেরেছি অনেক গুলি তাদের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শিবিরের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড দেখে মনেই হয়নি তারা আজকে এমন কাজ করেছে। কয়েক দিন ধরে এই হামলার প্ল্যান করেছিল। সামনেও করবে এমন খবর আমরা পেয়েছি। জড়িতদের ধরতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পরে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪১ জনকে আটক করার কথা জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশ থেকে ধরা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মেডিকেল কলেজের ছাত্র। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের অনেকের কক্ষ থেকে হকিস্টিকসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ দাস বলেন, শিবির কর্মীরা কৌশলে এ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে তারা ষোলশহর থেকে মিছিল শুরু করে। এরপর প্রবর্তক, মেডিকেল কলেজ, চকবাজার এলাকায় তাণ্ডব চালায়। পরে নিমেষে উধাও হয়ে যায়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের অনেকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। এখন আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সবকিছু জানা যাবে।
তবে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। গতকাল দুপুরে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা জানান, জিইসি মোড় থেকে ২নং গেইট ষোলশহর মোড়ে জামায়াত-শিবিরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিল শেষ হয়। এতে কোন ধরনের হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি।
পরে প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনায়ও তাদের কেউ জড়িত নয়। নেতা-কর্মীরা এ ঘটনাকে সরকারদলীয় সংগঠনের কারসাজি বলে মন্তব্য করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি মো. নজরুল ইসলাম, নগর উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাইল, সেক্রেটারি আ ম ম মাসরুর হোসাইন, নগর দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সেক্রেটারী এম এইচ সোহেল প্রমুখ।
বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে সত্যতা নিশ্চিত করে নগর উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাইল মানবজমিনকে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেছি। এতে কোন ধরনের অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ এমনিতেই আমাদের ওপর ক্ষেপে আছে। জামায়াত-শিবিরকে সহ্য করতে পারছে না। তাদের বলবো আপনাদের রাগ থাকলেও আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তবে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছু করলে শিবির তার পাল্টা জবাব দেবে।
রাজধানীতে জামায়াত-পুলিশ ফের সংঘর্ষ: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত এবং অর্ধশতাধিক শিবিরকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। গতকাল বিকালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। তবে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ ঘটে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায়। এখানে ৩ পুলিশ এবং ২৫ শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৩৫ জন। দলের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের কয়েক শ’ নেতা-কর্মী। এ সময় যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মিছিলটি সামনে অগ্রসর হতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও টিয়াগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ পর্যায়ে পুলিশ রাবার ব্যুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের ছোড়া রাবার ব্যুলেটে ৬ শিবির কর্মী আহত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আরও প্রায় ২০ শিবির কর্মী আহত হয়েছে। মিছিলকারীদের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলের আঘাতে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুলিশের নায়েক সাইফুর রহমানের জখম গুরুতর বলে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানায়। প্রায় একই সময় মিরপুরে মিছিল বের করে শিবির। এখানেও পুলিশ তাদের বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ৪-৫ শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। কাফরুল থানার পুলিশ জানায়, বিকালে জামায়াত-শিবির এখানে একটি মিছিল বের করে। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট