Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা

জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এমপিরা। গতকাল সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তারা এ দাবি জানান। একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দেয়ায় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার কঠোর সমালোচনা করা হয়। তারা বলেন, শক্তি থাকলেই ধমক দিয়ে বা ঘাড়ে ধরে যাকে খুশি তাকে সবকিছু করানো যায় না। শক্তিধর দেশটি একাত্তরে তা দেখেছে, এখনও তা দেখা উচিত। বিতর্কের সময় শরীয়া আইন দিয়ে বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ঘণ্টাব্যাপী এ অনির্ধারিত আলোচনায় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি প্রসঙ্গে স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, আপনারা সবাই মহাজোট থেকে নির্বাচিত। তাই আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শরীয়া আইনে বিচার করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ মুহূর্তে সংসদ অধিবেশনে নেই। তিনি কি প্রেক্ষাপটে এবং কেন একথা বলেছেন, বা আদৌ এভাবে বলেছেন কিনা, তা প্রধানমন্ত্রীই জবাব দিতে পারবেন। নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রী এই আলোচনা শুনেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নিশ্চয় বক্তব্য দেবেন। মাগরিবের নামাজের পর অধিবেশন শুরু হলে স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার অনির্ধারিত এই বিতর্কে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বক্তব্য রাখেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা স্বাধীন দেশে রাজনীতি করবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করবে- এটা কোনদিন কি আমরা ভাবতে পেরেছি! এদেশে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের অবদানও ছিল অনেক বেশি। অথচ আজ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী পুলিশের ওপর গুপ্ত হামলা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এখন শেষ প্রান্তে। এ বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্যই জামায়াতে ইসলামী এভাবে দেশব্যাপী গুপ্ত হামলা করছে।
জামায়াতকে বিএনপি পুনর্বাসন করেছে মন্তব্য করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমায় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগকারীদের ক্ষমা করেননি। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা যখন ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দি ছিলাম, তখন জিয়াউর রহমান কারাগারে আটক সব যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন। পরে ১৯৯১ সালে ও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি পুনর্বাসন করে জামায়াতকে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত সফরে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ভারতবিরোধী নীতি থেকে সরে আসায় আমরা ভেবেছিলাম তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। হয়তো তারা জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইছেন। অথচ বিএনপির মহাসচিব ঘোষণা দিলেন, ‘জামায়াত জোট থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’ তার এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, জামায়াতের গুপ্ত হামলার সঙ্গে বিএনপি জড়িত। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপে বসতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াতের কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশি কথা না বলে বা বিবৃতি না দিয়ে জনসাধারণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বার বার হামলার শিকার হয়েও পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। অন্য সময়ে হলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী স্বাধীনতাবিরোধী ও ঘাতক-খুনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপে বসার ব্যাপারে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, ওই শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রদূতকে বলবো, তার দেশে যদি কোন জঙ্গি গোষ্ঠী পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাতো, মন্ত্রীদের ওপর আক্রমণ করতো, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা চালাতো- সেসব আক্রমণকারী ও গণহত্যাকারীদের সঙ্গে কি প্রেমালাপে বসতেন? আক্রমণকারীদের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা বলা মানেই অন্যায়কারী ও আক্রমণকারীদের উস্কানি দেয়া। ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝখানে থেকে যারা চুপ করে থাকে তারা অন্যায়কারীদের পক্ষেই। রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। কেউ এসব ঘাতকদের রক্ষা করতে পারবে না। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জেনারেল জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছে আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যখন শেষ পর্যায়ে তখন জামায়াত-শিবিরসহ একাত্তরের ঘাতক, জঙ্গি ও বিএনপির একটি অংশ অরাজকতা সৃষ্টি করে বিচারকে বানচাল করার চক্রান্ত করছে। চোরাগোপ্তাভাবে কমান্ড স্টাইলে পুলিশের ওপর হামলা করছে। এদের কোনভাবেই ক্ষমা করা যাবে না। খালেদা জিয়া আক্রমণকারীদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। বিএনপির লোক এসব হামলার সঙ্গে জড়িত। হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, হিযবুত তাহরীকে নিষিদ্ধ করা গেলে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা যাবে না কেন? খালেদা জিয়া যতই চেষ্টা করুক, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না।
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, জামায়াত-শিবিরের রগকাটা ও চোখ তোলার রাজনীতি নতুন কিছু নয়। জাতি তাদের চরিত্র ভাল করেই জানেন। এদের জঙ্গি তৎপরতার কারণে পঞ্চম জাতীয় সংসদেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল। বাহাত্তরের সংবিধানেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৫তম সংশোধনীতে এ বিষয়ে আপস করার কারণেই দেশের আজকের এই ভয়াবহ অবস্থা। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি নির্বাচন কমিশনের আদেশ পর্যন্ত মানছে না।
প্রধানমন্ত্রীর শরীয়া আইনে বিচারের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সবার মতো আমিও বিভ্রান্ত হয়েছি। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের অপ-রাজনীতি নিষিদ্ধ ও বিচার করার জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে সমর্থন দিচ্ছেন না, তাদের পক্ষে প্রকাশ্য কথা বলছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের গভীর এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই প্রথম প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবি জানিয়েছে। আর সেই দাবি আদায়ে সশস্ত্র আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। যা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা। যে ঘটনা তারা একাত্তরে ঘটিয়েছিল।  তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ-বানচাল ও বাধাদানের মাধ্যমে তারা আইন ভঙ্গ করেছে। এজন্য যারা হামলা করছে তাদের পাশাপাশি জামায়াত দলগতভাবে অপরাধী। তাদেরকে ক্ষমা করা যায় না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেউই বানচাল করতে পারবে না এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিজামী-মুজাহিদ-সাকা চৌধুরী ধর্মান্ধ আত্মস্বীকৃত ও স্বশিক্ষিত খুনি। পাকিস্তানের দালাল ও নারী নির্যাতনকারী। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মতো তাদেরকেও আইনের মুখোমুখি করা হয়েছে। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থন দেননি। বরং যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। জামায়াতকে রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে নিয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান না। তিনি বলেন, জামায়াতের মুখে গণতন্ত্র, বুকে জঙ্গিবাদ, মুখে বাংলাদেশ, বুকে পাকিস্তান। যে কারণে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব সরকার ও জনগণের বিচার করা উচিত। সরকার দ্রুতই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম শরীয়া আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালকারীদের বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে সম্পর্কে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচারটি হবে তা সবাই চান। এ বিচারকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী সহিংস কর্মসূচি পালন করছে। আমরা এর বিচার চাই। আর আইন ভঙ্গকারীদেরও প্রচলিত আইনে বিচার হবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শরীয়া আইনের কথা বলে জনমনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শরীয়া আইনে বিচারের কথা বলেছেন। কিন্তু শরীয়া আইনে বিচার সংবিধানের পরিপন্থি ও সাংঘর্ষিক। শরীয়া আইনে বিচার করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সত্যিকারভাবেই শরীয়া আইনে বিচার করতে সংবিধান সংশোধন করতে চান কিনা, সেটা জাতি পরিষ্কারভাবে জানতে চায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট