Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘বিচার ব্যবস্থায় শরীয়া আইনের কোন স্থান নেই’

‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ও বিচার বানচালে বাড়াবাড়ি করা হলে প্রয়োজনে ইসলামী শরীয়া বা কিসাসের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে’- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে সর্বত্র চলছে ব্যাপক আলোচনা। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল, দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক আইন ছাড়া বিচার ব্যবস্থায় শরীয়া আইনের কোন স্থান নেই। এছাড়া একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দেশে শরীয়া আইন চলতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং এ সংক্রান্ত পারিবারিক আইন ছাড়া আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় শরীয়া আইনের কোন স্থান নেই। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর শরীয়া আইন নিয়ে বক্তব্যের আমি কোন ভিত্তি অনুধাবন করতে পারছি না। তাই ধরে নিচ্ছি- প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘মধ্যরাতের সিঁদেল চোর’, ‘মুই কার খালুরে’ ধরনের হালকা কোন মন্তব্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, শরীয়া আইনে বিচারের কথা প্রধানমন্ত্রী প্রতীকী অর্থে বলেছেন। কোন অপরাধের বিচার একবার শুরু হয়ে গেলে তা অন্য আইনে করা যায় না। যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য না দিলে ভাল করতেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং এ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা অনেকে নানাভাবে দেখছেন। ট্রাইব্যুনালের ওপর বহু ধরনের নজরদারি আছে। তাই আইন ও আদালতের বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্য না দেয়াই ভাল।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিষয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানিয়েছেন, ইসলামী শরীয়া আইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শরীয়া আইন চলতে পারে না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে সক্রিয় সিপিবির এ নেতা বলেন, আমরা চাই চলমান প্রক্রিয়ায় দ্রুত যেন যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হয়। আর ’৭২-এর সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।
অন্যদিকে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও আলেমরা জানিয়েছেন, কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে কিসাসের কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী শরীয়া আইন বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বক্ষেত্রে তা কার্যকর ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শুক্রবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে কিসাসের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি বলেন, বিচার নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রয়োজনে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসলামী শরীয়া আইন অনুযায়ী কিসাস হলো প্রাণের পরিবর্তে প্রাণ। অর্থাৎ কাউকে হত্যা করা হলে এই হত্যাকাণ্ডের শাস্তি হলো শিরশ্ছেদ বা মৃত্যুদণ্ড। কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে খুন করলে এবং এর সঠিক তথ্যপ্রমাণ থাকলে ইসলামী শরীয়া আইন বা কিসাসে মৃত্যুদণ্ড হবে। পবিত্র কোরান শরীফের সূরা বাকারার ১৭৮ ও ১৮৯ নম্বর আয়াতে কিসাস সংক্রান্ত নির্দেশনা রয়েছে। শরীয়া আইনে নিহত ব্যক্তির প্রকৃত হকদাররা রাজি হলে রক্তপণ বা রক্তপণ ছাড়া হত্যাকারীকে ক্ষমাও করে দিতে পারে। তবে মৃত ব্যক্তির প্রকৃত হকদার ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবে না। ইসলামী রাষ্ট্রে কিসাস সর্বোচ্চ আইন হলেও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় এর সমালোচনা করা হয়।
শরীয়া আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিসাস বাস্তবায়ন করতে হলে ইসলামী আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে শরীয়া আইনও রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন করতে হবে। তাহফিজে হারামাইন পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা সাদেক আহমদ সিদ্দিকী বলেন, শরীয়া আইন সকলের জন্য প্রযোজ্য। এ আইনে বিচার করতে হলে নিজদলের দোষীদেরও একই আইনে বিচার করতে হবে।
এ ব্যাপারে বসুন্ধরা ইসলামিক সেন্টারের মুফতি আবদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোন শরীয়া আইনের কথা বলেছেন তা তিনিই জানেন। তবে শরীয়া আইনে কোন বিচার প্রক্রিয়া হলে এ বিষয়ে দেশের আলেম সমাজ অবশ্যই মতামত দেবেন। কোন অপরাধের বিচার কিসাসে হবে কিনা সে বিষয়ে মুফতি ও আলেম সমাজের কাছ থেকেই পরামর্শ আসতে হবে। এ বিষয়ে সরকার কিছু করতে চাইলে আমরাও বক্তব্য তুলে ধরবো।
জামেয়া নূরীয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা জাফরুল্লাহ খান এ বিষয়ে বলেন, দেশে তো শরীয়া আইন সরকারিভাবে স্বীকৃত না। কিসাসের মাধ্যমে সরকার যদি কোন বিচার করতে চায় তাহলে অবশ্যই সরকার শরীয়া আইন সংসদে অনুমোদন করে তারপর এ আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেবে। সরকার যদি শরীয়া আইন পাস করে তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবো। তবে কোন বিশেষ মতলবে যদি এ ধরনের কথা বলা হয় বা কোন কাজ করা হয়, তাহলে তা তো গ্রহণযোগ্য হবে না। ইসলামী শরীয়া আইন সবার জন্য সমান- কোন বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য শরীয়া আইন নয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট