Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone
শেখ হাসিনা
আসুন আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি
খালেদা জিয়া
আমি বিশ্বাস করি ধর্য ছাড়া রাজনিতি সম্ভব নয়
পুলিশকে দিনে-দুপুরে গুলি করেই কেরানীগঞ্জের ত্রাস হিসেবে পরিচিতি পায় শীর্ষ সন্ত্রাসী টুণ্ডা আমির ওরফে ল্যাংড়া আমির। ৬ মাসের ব্যবধানে কেরানীগঞ্জের তিন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে সে। একাধিকবার কারাগারে গেলেও প্রতিবারই জামিনে বের হয়ে এসেছে। গতকাল পর্যন্ত তদন্তকারী পুলিশ ও গোয়েন্দারা তার বিরুদ্ধে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের ১০ মামলার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের সাজা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নানা কৌশলে সে কারাগার থেকে বেরিয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ২০০০ সালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার চর কুতুব এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় আমির। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। ওই সময় তার হেফাজত থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন এসআই মনিরুল ইসলাম। ১৯৯৩ সালের ১৬ই জুলাই একটি অস্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে ১০ বছরের সাজা হয়েছিল। কিন্তু পলাতক অবস্থায় একের পর এক অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকে সে। ১৯৯৬ সালে বেক্সিমকো অফিসের মালামাল লুটের অন্যতম আসামি আমির। কেরানীগঞ্জের তিন বাসিন্দাকে নৃশংসভাবে হত্যা ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১শে অক্টোবর, ৮ই আগস্ট ও ২০০০ সালের ২৭শে জানুয়ারি তিনটি হত্যা মামলা রুজু হয় তার বিরুদ্ধে। এর আগে গোলাম বাজারে অবস্থিত একটি বাড়ির তালা ভেঙে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুটে নিয়েছিল সে। ২০০৪ সালে রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এই আমির। কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পরপরই তার জামিন হয়ে যায়। এরপরই আমির বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একাধিক গডফাদারের ছায়াতলে থেকে কেরানীগঞ্জের হিন্দু ব্যবসায়ীদের আতঙ্কে পরিণত হয়। মাসে মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি শুরু করে। এলাকাবাসী জানায়, তাকে চাঁদা দেয়নি এমন কোন ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া যাবে না দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও তার সখ্য অনেকের নজর কেড়েছে। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেই গোপনে কোটিপতি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেছে। হত্যার হুমকি দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করেছে। এরই এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে অস্ত্রসহ রাজবাড়ী জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। প্রায় এক বছর আগে সে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশ নিয়ে ফের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। ততদিনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার প্রতিপক্ষ গড়ে ওঠে। একারণে সে সেখানে না গিয়ে দল গোছানোর জন্য রাজধানীর জুরাইন এলাকায় বাসা নেয়। সেখান থেকে প্রায় দেড় মাস আগে আস্তানা গড়ে তোলে গেণ্ডারিয়া এলাকায়।
সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডারদের নিয়ে গড়ে তোলে সন্ত্রাসী বাহিনী। পরে মাস খানেক আগে ওই আস্তানা থেকেই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোটিপতি ব্যবসায়ী বিমল কুমার মণ্ডলের একমাত্র সন্তান পরাগ মণ্ডলকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। আমিরের পিতার নাম আব্বাস আলী। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। তার পিতা মারা যাওয়ার পর তার মা চলে যায় স্পেনে। বর্তমানে স্পেনে তার খালার আশ্রয়ে রয়েছে তার মা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমির তৃতীয়। মনির নামে তার আরেক ভাই ছিল সন্ত্রাসী। এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ইকবাল নামে আরেক ভাই হেরোইন ব্যবসায়ী। সমপ্রতি হেরোইনসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে। এক ভাই বাকপ্রতিবন্ধী। আমিরের একমাত্র বোন থাকে সাভারের ভার্কুতা ইউনিয়নের সলম্যাসী গ্রামে। তার স্বামীর নাম আবুল কাশেম। পরাগ অপহরণে জড়িত আসামিদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে র্যাবের হাতে সে গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ডে আছে। আমিরের প্রথম স্ত্রীর নাম ইতি। ২০০৩-০৪ সালে তাকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘরে তার ১৩-১৪ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। ইতিকে ছেড়ে দিলেও ইতির বড় ভাই মামুনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার সঙ্গে পরামর্শ করেই পরাগ অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। মামুন বর্তমানে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ইতিকে ছেড়ে দেয়ার পর আমির ২০০৫ সালে গোপনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোকামপাড়া এলাকার সালাউদ্দিনের মেয়ে বিউটিকে বিয়ে করে। এ ঘরে তার একটি ছেলে রয়েছে। গতকাল হাসনাবাদ ও মোকামপাড়া আমিরের নানা এবং শ্বশুরবাড়ি সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই দুই বাড়ি ঘিরে মানুষের কৌতূহল। অপরিচিত কেউ গেলেই লোকজন তার পিছু নেয়। ছোট্ট পরিসরের একতলা বাড়িতে ছিল আমিরের ষাটোর্ধ্ব বয়সের শ্বশুর সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ৫ মেয়ের মধ্যে আমির আমার এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। এইসূত্রে সে আমার জামাই। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ নেই। বেশির ভাগ সময়ই বাইরে থাকে। এই শুনি কারাগারে। আবার এই শুনি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। কখনও কখনও বাড়িতে এলেও বেশি সময় থাকতো না। গত কয়েকদিন ধরেই তার খোঁজে প্রতিদিনই বিভিন্ন লোকজন বাড়িতে আসছে। কিন্তু আমির কোথায় আছে কিছুই জানি না। এসময় তার শাশুড়ি বলে ওঠেন, কই আছে, এইটা বলার লগে লগেই তো পুলিশ আমাগো ধইর্যা নিয়া যাইবো। বুড়া বয়সে কি জেলের ভাত খামু? এলাকাবাসী জানান, আমির বড় হয়েছে হাসনাবাদ এলাকায় নানা বাড়িতে। তবে বেশির ভাগ সময় কেটেছে তার গোলামবাজার এলাকার বস্তিতে। ওই এলাকায় প্রতিদিনই লাশ পাওয়া যেতো। খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশেই আমির এখন পুলিশের খাতায় ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে নাম লিখিয়েছে। মোকামপাড়ার মসজিদ সংলগ্ন এক দোকানদার বলেন, সালাউদ্দিনের মেয়ে বিউটিকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে আমির। সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়নি। আমিরের ভয়েই বিয়ে মেনে নিয়েছে বিউটির বাবা-মা। ওই বাড়ির একজন প্রতিবেশী বলেন, আমিরের নাম শুনলেই এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে পারে না। একই কথা বলেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এখন সবাই আতঙ্কে আছে। আমির সম্পর্কে তথ্য জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। সূত্র জানায়, আমিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড ফয়সাল। সে-ও দুর্ধর্ষ শ্যুটার। বর্তমানে ওই ফয়সালের নির্দেশিত রুটেই আমির জায়গা বদল করে পালিয়ে আছে। গ্রেপ্তার এড়াতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বাদ দিয়েছে। বিশ্বস্ত শ্যুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ওয়ান টু ওয়ান পদ্ধতিতে। পরাগ অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মূলত টাকার জন্যই আমির হত্যা, অপহরণ সহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কোন সম্পর্ক আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।