Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টান টান উত্তেজনায় কাল টাঙ্গাইলে ভোট

 টাঙ্গাইল-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল রবিবার। ৯৬টি কেন্দ্রের ৫৮৭টি কক্ষে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার টাঙ্গাইলে এক জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ম-লীল সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এ ঘোষণা দেন।

উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে স্বচ্ছ ব্যালট বাঙ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার ও কালিসহ নির্বাচনী উপকরণ ৯৬টি ভোট কেন্দ্রে পৌছে দেয়া হচ্ছে।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রচার-প্রচারনা, মিছিল-মিটিং ও গণসংযোগ শেষ হয়েছে শুক্রবার রাতে। চায়ের দোকান থেকে মাঠ পর্যন্ত সব জায়গাতেই নির্বাচনী আলোচনা মুখর এখন ঘাটাইল। প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রচারণা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, উৎসাহ ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে সরকারি দলে। দলীয় প্রার্থী আর দলের মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি, বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে।

পাশাপাশি হাট-বাজার, অফিসপাড়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মুদি ও চায়ের দোকানগুলোতে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে প্রার্থীদের দোষগুণ প্রকাশ পাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় ভোটাররা নানা হিসাব কষছেন। ভোটাররা চাচ্ছেন নির্বাচিত ব্যক্তি ঘাটাইলে গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হবেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপির ভোটাররাও নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তার হিসাব কষছেন।

বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন তদারকির জন্য অতিরিক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সর্ম্পকে র‌্যাবের নিসিয়র সহ-পরিচালক অভিষেক আহমেদ জাস্ট নিউজকে জানান, টাঙ্গাইল-৩ উপনির্বাচনে পযাপ্ত র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা এ্যাড়াতে র‌্যাব সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কিছুক্ষণ পর পর র‌্যাব ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল অব্যাহত রাখছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শরিফা বেগম জাস্ট নিউজকে জানান, এ আসনের ৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়  সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ নির্বাচনে মহাজোটের ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরা হলো আওয়ামী লীগ মনোনীত শহিদুল ইসলাম লেবু (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাগরিক কমিটির ব্যানারে আমানুর রহমান খান রানা (আনারস) এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন (লাঙ্গল)।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবু অভিযোগ করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানার পক্ষে বিভিন্ন জায়গার সন্ত্রাসীরা এসে ঘাটাইলে বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। তারা বিভিন্নভাবে নৌকার পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমি নির্বাচিত হলে ঘাটাইলকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করবো। তিনি ঘাটাইলে গ্যাসসংযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পক্ষে কোনো সন্ত্রাসী নেই।

ঘাটাইলবাসীই আমার শক্তি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, র‌্যাব ও পুলিশ দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং আমার নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে নিরীহ লোকদের ধরে নিয়ে অস্ত্র মামলায় চালান দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এমন আচরণ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, আমার আনারসের জোয়ার দেখে সরকারি দলের প্রার্থীর মাথা নষ্ট হয়েছে। তাই তারা এমন আচরণ করছেন।

নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা মনে করেন, এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচনী উত্তাপ কোনো অংশেই কম নয়। তবে নির্বাচনে ভোটের হিসেব-নিকেশে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবু ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানার মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে জাতীয় পার্টির আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন লাঙ্গল প্রতীকে আশানুরূপ ভোট পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‌্যাব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। পথে পথে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ নির্বাচনী এলাকায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৩২৯ ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৮৬ পুরুষ ও ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩ মহিলা ভোটার রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও ১টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডাক্তার মতিউর রহমানের মৃত্যুতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আসনটি শূণ্য হয়।

শনিবার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীমুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে দ্বিতীয় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার জানান, এই উপনির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় থাকছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২ লাখ ৭১ হাজার ৩২৯ জন ভোটারের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রায় ৪শ’ সদস্য।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ঘাটাইলবাসী চলতি সংসদের মেয়াদে দ্বিতীয়বার তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন, যিনি এই জনপদের উন্নয়নে কাজ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ (শামসুর রহমান খান), ১৯৭৯ সালে বিএনপি (মো. শওকত আলী ভূঁইয়া), ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ (শামসুর রহমান খান), ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি (সাইদুর রহমান খান মোহন), ১৯৯১-১৯৯৬-২০০১ সালে একাধারে বিএনপি (লুৎফর রহমান খান আজাদ) এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ (ডা. মতিউর রহমান) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট