Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় নীল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে জয়টা হাতের নাগালে এসেও ফস্কে গেল। প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রানের রেকর্ড গড়ার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৪৫ রানের বাধা পার হতে পারল না টাইগাররা। মিরপুর টেস্টে হেরে গেল ৭৭ রানে।

শনিবার সকালে খেলা শুরুর হওয়ার পর ২৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ৪ ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে যে হাসি সমর্থকদের মুখে ফুটিয়েছিলেন সোহাগ গাজী, দিনের শেষভাগে এসে তা মুছে গেল মুশফিক বাহিনীর দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে।

ইনিংসের ৫ম ওভারে রবি রামপলের বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে বলা যায় আত্মহত্যাই করেন তামিম (৫)। দলীয় ৪৪ রানে তামিমকে অনুসরণ করে জুনায়েদ সিদ্দিকও (২০) একইভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। জুনায়েদের ক্ষেত্রে বোলার ছিলেন টিনো বেস্ট।

জুনায়েদ আউট হওয়ার আগে অবশ্য জীবন পান শাহরিয়ার নাফীস। ৬ষ্ঠ ওভারে সুনীল নারাইনের বলে ব্যাটের খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান নাফীস। উইকেটরক্ষক রামদিন ও প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো অধিনায়ক স্যামির মাঝ দিয়ে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে।

এরপর বেশ সতর্ক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। জুনায়েদ সিদ্দিক ও শাহরিয়ার নাফীস বলের গুরুত্ব বুঝে ব্যাট করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন নি জুনায়েদ। তামিমের মতো একইভাবে জায়গায় দাঁড়িয়ে টিনো বেস্টের বাউন্সি বল খেলতে গিয়ে রামদিনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর চলতে থাকে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের আশা আর যাওয়া। একে একে আউট হন শাহরিয়ার নাফীস (২৩), সাকিব আল হাসান (২), মুশফিকুর রহিম (১৬), নাঈম ইসলাম (২৬) ও নাসির হোসেন (২১)।

দলীয় ১১৯ রানে বাংলাদেশের ৭ম উইকেটের পতন হলে, শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন সোহাগ গাজী-মাহমুদউল্লাহ জুটি। কিন্তু চা-বিরতির পর ৩৬ রানে ভেঙ্গে যায় আশা জাগানিয়া জুটিটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার টিনো বেস্ট ১২.৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ করে দেন। ৮ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট পান অভিষিক্ত পেরমল। এছাড়া ২ উইকেট দখল করেন রবি রামপল।

এর আগে আগের দিনের ৬ উইকেটে ২৪৪ রান নিয়ে শনিবার ৫ম ও শেষ দিনে ব্যাটিংয়ে নামে অতিথিরা। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির সঙ্গে উইকেটে যোগ দেন সুনীল নারাইন।

শনিবার সকালে মাত্র ৪ রান যোগ করেই দিনের প্রথম উইকেট হারায় ক্যারিবিয়রা। দিনের তৃতীয় ওভারে সোহাগের বলে এলবিডব্লিউ হন স্যামি। ২২ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় মাত্র ১৬ রান করেন ক্যারিবিয় অধিনায়ক।

অধিনায়কের পরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন বাকি ৩ ব্যাটসম্যান। দিনের ৭ম ওভারের ৪র্থ ও ৫ম বলে রবি রামপল ও টিনো বেস্টকে বোল্ড করেন সোহাগ। ক্যারিয়ারের অভিষিক্ত ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন এই ডানহাতি স্পিনার।

প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান শিবনারায়ন চন্দরপলকে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট করেন সোহাগ। আগের দিনের ২ উইকেটসহ মোট ২৩.২ ওভারে ২ মেডেনসহ ৭৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন অভিষেক টেস্ট খেলা এই তরুণ।

প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ৫২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল অতিথিরা। ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যান কিয়েরন পাওয়েল ও দিনেশ রামদিন সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন শিবনারায়ণ চন্দরপল।

বিপরীতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে নিজেদের টেস্ট সর্বোচ্চ ৫৫৬ রান। নাঈম ইসলামের শতক ছাড়াও, নাসির হোসেন, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ অর্ধশতক উপহার দিয়ে স্কোরটাকে নিজেদের রেকর্ড ছাড়িয়ে বহুদূর নিয়ে যান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট