Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ওপেন সিক্রেট !! অবৈধ ভিওআইপি!! সমপৃক্তদের নাম শুনলে স্তব্ধ

বিটিসিএল’র প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ ৩০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের ১৬ মামলার প্রস্তুতি

 

অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ৩০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৬টি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

অনুসন্ধান শেষে মামলার অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যেই কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তাগন।

 

কমিশনের অনুমোদন পেলেই চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন এসব মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ।

 

সূত্রমতে, প্রস্তাবিত আসামির তালিকায় বিটিসিএলের সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা) মোহাম্মদ তৌফিকসহ কয়েকটি বৈদেশিক ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধির নামও রয়েছে। এরমধ্যে ইংল্যান্ডের ৯টি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি করে এবং সিঙ্গাপুরের রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান।

 

৩০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে সুপারিশ করা হয়েছে তারমধ্যে বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদক। দুদকের মামলা ঠেকাতে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে,তদন্তে আসামি সংখ্যা এবং আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

 

এদিকে দুদক জানায় বিটিসিএলের সদস্য মোহাম্মদ তৌফিককে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ঠ মামলায় ২০০৮ সালের ৩ মার্চ তিনি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদ দখলে রাখার অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারিতে ওই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়।

 

তবে আগের মামলা-অভিযোগ সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের আমলে তার পদোন্নতি ঠেকানো যায়নি। জানাগেছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং থাকায় অনেক অভিযোগ থাকার পরেও তিনি পরিচালক থেকে জিএম এবং পরে সদস্য পদে পদোন্নতি পান।

 

দুদক ও বিটিসিএল সূত্র জানায় , দেশে প্রতিদিন বৈধ ও অবৈধ পথে ৫ কোটির বেশি বৈদেশিক কল আসে। ভিওআইপি সিন্ডিকেট নানাভাবে এসব কলের রেকর্ড গায়েব করে। ওই সিন্ডিকেট বিভিন্ন ক্যারিয়ারের বৈদেশিক ইনকামিং কলের তালিকা মুছে ফেলে অবৈধভাবে বৈদেশিক ক্যারিয়ার নিয়োগ এবং লোকাল এজেন্টদের মাধ্যমে বৈদেশিক ক্যারিয়ার থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

 

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ জানিয়ে টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গত মার্চ মাসে একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠায়।

 

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট আন্তর্জাতিক কলের অর্ধেক কল বাইপাস করা হচ্ছে। মুছে ফেলা হচ্ছে সিডিআর । এক্সচেঞ্জ অফিসগুলো প্রতিদিন কল ভলিউম প্রতিবেদন বিটিসিএলের কাছে জমা দিতে বাধ্য থাকলেও তা জমা হচ্ছে না। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

এমন বেশকিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিটিসিএলে ভিওআইপির মাধ্যমে বৈদেশিক কল টারমিনেশনসহ নানা অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। উপপরিচালক এস এম সাহিদুর রহমানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর সদস্যরা হলেন উপসহকারী পরিচালক মোঃ মুজিবুর রহমান, উপসহকারী পরিচালক মোঃ নাজিম উদ্দিন এবং উপসহকারী পরিচালক রাফী মোঃ নাজমুস্ সা’দাৎ।

 

অনুসন্ধান সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর এসটিএম এবং ই-১ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ভিওআইপির মাধ্যমে বৈদেশিক কল টারমিনেশন করে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ ছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত কয়েকটি বৈদেশিক ক্যারিয়ারের স্থানীয় এজেন্টও চিহ্নিত করেছে দুদক।

 

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বৈদেশিক টেলিযোগাযোগ অঞ্চলের আওতায় মহাখালী এবং মগবাজারের আইটিএক্সের সিডিআর ডিভাইস অকার্যকর রেখে বৈদেশিক কলের ডাটা ধারণ না করা, পূর্বের বহু সিডিআর খোয়া যাওয়া, বিটিসিএলের এসটিএম এবং ই-১ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ভিওআইপির মাধ্যমে বৈদেশিক কল টারমিনেশন করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

 

এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন  বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক শাখার কয়েক প্রথম সারির কর্মকর্তা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

 

বৈদেশিক ক্যারিয়ার নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে বিটিসিএলের স্বার্থবিরোধী চুক্তি সই, বৈদেশিক ক্যারিয়ারের ভুয়া লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে বিটিসিএলের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং বৈদেশিক ক্যারিয়ারের শত শত কোটি টাকা বকেয়া থাকার পরেও বিশেষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বিটিসিএল সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের সহায়তা করেছে, অভিযোগ তুলে মামলার সুপারিশ করা হয়।

 

এ ঘটনায় ৩০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৬টি মামলার অভিযোগ চূড়ান্ত করেছে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। চলতি মাসের নভেম্বরে এসব মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হবে। ক্রমান্বয়ে বাঁকিদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হবে।

 

এবিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘‘অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিওআইপির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে কয়েক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই মামলা হবে।’’

 

এদিকে সাবিল আইটি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গত ২২ অক্টোবর রমনা থানায় ৪ জন আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলায় আসামি করা হয়েছে বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (আন্তর্জাতিক) মাহফুজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, আইটএক্সের বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম আসাদুজ্জামান এবং সাবিল আইটি লিমিটেডের একেএম মফিদুল ইসলাম।

 

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালে আইসিএম গ্রুপের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় সাবিল আইটি লিঃ আবেদন করে। তারা নিজেদের আইসিএম গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধি বলে দাবি করে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র অনুসন্ধানকালে পায়নি দুদক কর্মকর্তা। এমনকি সাবিল আইটি লিঃ মহাখালী ডিওএইচএসের যে ঠিকানা ব্যবহার করেছে সেখানেও এ কোম্পানির হদিস মেলেনি।

 

অপরদিকে চুক্তির আগে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ থেকে দুটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করে এই কোম্পনিটি। কিন্তু এর কিছুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং যোগসাজশে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

 

ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে চুক্তি করার পর ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর একবার তা বাতিল হয়।

 

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের ৬টি ক্যারিয়ার ডিজিটেক, হ্যাক জাপান, আইপাওয়ার, এনটিএস গ্লোবাল, ওয়ান ওয়ার্ল্ড, সাইন ওয়ার্ল্ড।

 

ইংল্যান্ডের ৯টি ক্যারিয়ার অ্যাকসিফ টেল, রাইয়ান টেল, বিডিএইউ, জিডিএক্সসি, লাইকা টেল, মনি এন্টারপ্রাইজ, টেলিলিংক, ওয়েসিন নেটওয়ার্ক।

 

কানাডার ৫টি ক্যারিয়ার মাই আরবা, ইবসিস, ইকোক্যারিয়ার, প্রাইম টেল ও শ্যাম টেল।

 

মালয়েশিয়ার দেশী ডিজিটাল এবং অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ল্ড টেল প্রাঃ লিঃ, যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি ক্যারিয়ার অ্যারিস্টোকেট সার্ভিস, আই এজ ফোন, ফুসিয়ন, স্ট্রাক হাই, এনটেল এর অনিয়মের অনুসন্ধান চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে।

 

দুদকের মামলায় জড়ানো হতে পারে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরকেও।

 

দুদক জানায়, ভিওআইপি দুর্নীতি রোধে দুদকের অনুসন্ধান টিমকে আরো শক্তিশালী করা হবে। এজন্য চলতিমাসে টিমের সদস্য সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

 

তবে এসব জানাজানির পরেও একটি বিষয় এখন ওপেন সিক্রেট যে , বর্তমানে এবং অতীতে এ ব্যাবসাটির নিয়ন্তা হিসেবে ক্ষমতাসীনদের এতো উচু পর্যায়ের কর্তাব্যাক্তির(দের) সমপৃক্ততার কথা আসে যেখানে গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়।

 

এতোকিছুর পরেও এখন অপেক্ষা দুদকের সাহসী অনুসন্ধানি দল …….???

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট