Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করতে ভিয়েতনামের শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ ভিয়েতনাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ভিসিসিআই)-র কার্যালয়ে ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজিত সভায় তিনি এ আহ্বান  জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আপনাদের সবার জন্য সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে। আমি আমার দেশে আপনাদের বাণিজ্য বৃদ্ধির আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন, আমরা একে অপরের ব্যবসায় অংশীদার এবং এ সম্পর্ক থেকে সুফল ও সমৃদ্ধির ভাগিদার হই। বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ঢাকা ও হ্যানয়ের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সার্বিক সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর ভিয়েতনাম থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। আসিয়ানভুক্ত অন্য সব দেশে আমরা যে পরিমাণ রপ্তানি করছি তার তুলনায় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভিয়েতনামে রপ্তানি কম। তার সরকার উদার বিনিয়োগ নীতি গ্রহণ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ, জাতীয়করণ ও প্রতিষ্ঠানের স্বত্বচ্যুতির বিরুদ্ধে আইনগত সুরক্ষা, মূলধন ও লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা, পাঁচ থেকে সাত বছরের কর অবকাশ সুবিধা, যন্ত্রপাতি আমদানিতে রেয়াতি শুল্ক সুবিধা, রপ্তানির প্রণোদনা, শতভাগ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা ও নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুবিধা রাখা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ভিয়েতনামের কৃষি ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী কাও ডাক ফাত, এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, ভিসিসিআই সভাপতি ড. ভু তিয়েন লক, বাংলাদেশে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত কুয়াং থাক ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ৪৮ জাতি ফোরামের সম্মেলন ‘এশিয়া-ইউরোপ মিটিং সামিট’-এ যোগ দিতে লাওসে যাওয়ার পথে শুক্রবার ভিয়েতনাম সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রথম দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের আনুষ্ঠানিকতায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সফরের দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ছাড়াও ভিয়েতনামের স্বাধীনতা এবং বিপ্লবী সংগ্রামের নেতা হো চি মিনের প্রতি তার সমাধিসৌধে এবং হ্যানয় ওয়ার মেমোরিয়ালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বীরদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী লাওস যাচ্ছেন আজ: লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের নবম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলন (এএসইএম ৯)-এ অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী আজ দেশটিতে চারদিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন। আগামী ৫ ও ৬ই নভেম্বর এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভিয়েতনাম সফরে রয়েছেন। কাল দেশটির নিন বিন শহরের বাই দিন  বৌদ্ধমন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার তিন দিনের সফরের কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। এরপর বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হ্যানয় নই বেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাত্যয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনার পর  শেখ হাসিনাকে ভিয়েনতিয়েনের ডন চানে অবস্থিত এএসইএম ভিলায় নিয়ে যাওয়া হবে। লাওস সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী সোমবার রাজধানীর ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠেয় নবম এএসইএম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরদিন সম্মেলনের প্লানারি অধিবেশনেও তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ৪৮ জাতি  ফোরামের এবার অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শান্তির জন্য বন্ধুত্ব, সমৃদ্ধি অর্জনে অংশীদারিত্ব’।  লক্ষ্য এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা উন্নয়ন ও অগ্রগতি বৃদ্ধি। এবারের সম্মেলনে এশিয়া ও ইউরোপের  নেতারা অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নেতৃবৃন্দ পরস্পরের মধ্যে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, আর্থিক সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ  মোকাবিলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ৭ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লাওসের প্রধানমন্ত্রী থনসুং থাম্মাভংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। একই দিন তিনি  প্রেসিডেন্ট প্যালেসে লাওসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে  বৈঠক করবেন। এছাড়া, লাওস প্লাজা হোটেলে তার সম্মানে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভোজসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। আগামী ৭ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট