Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এক ডজন ইস্যু নিয়ে ভারত সফরে খালেদা

 দ্বিতীয় হাইপ্রোফাইল সফরে যাচ্ছেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। চীন থেকে ফিরে অন্তত এক ডজন ইস্যুকে সামনে রেখে ছুটছেন ভারতে। দেশ দু’টি বাংলাদেশের কেবল বৃহৎ প্রতিবেশীই নয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। বিপদে-আপদে, সমস্যা-সম্ভাবনায় প্রভাবশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দু’টির মধ্যখানে বাংলাদেশেরও রয়েছে ভিন্ন মাত্রার একটি অবস্থান। দু’টি দেশই বাংলাদেশকে চেয়েছে একটি ‘গুড হাউজ’ হিসেবে। প্রতিবেশী প্রভাবশালী দু’শক্তির সম্পর্কে ভারসাম্য স্থাপনে বাংলাদেশ যে কৃতিত্ব অর্জন করেছে তার মূলে রয়েছে সত্তরের দশকের শেষ দিককার বিএনপি সরকারের উৎসাহী ভূমিকা। বিশেষ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। পরবর্তী সকল সরকারগুলো জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী হলেও তার ওই চীন-ভারত ভারসাম্য নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে অব্যাহত ভাবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কে বিএনপির যেমন উজ্জ্বল অবদান তেমনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিএনপির সামনে রয়েছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। অতীতে সুযোগ সত্ত্বেও কাঙিক্ষত আস্থার সৃষ্টি হয়নি। এ অবস্থায় ভারতের নীতিনির্ধারকদের আমন্ত্রণে চীনের পর খালেদা জিয়ার ভারত সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল। বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে বিরোধী নেতারা এ সফর দেশের চলমান রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে চীন সফরে খালেদা জিয়া সেদেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, আঞ্চলিক সড়ক ও রেল যোগাযোগের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার আশ্বাস আদায় করেছেন। বিএনপির তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের এ সফর ‘তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সফল’। বিশেষ করে চীনা নেতারা ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের নতুন মাত্রা পাবে’ এবং খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ‘আপনার ভবিষ্যৎ চীন সফরে আলোচিত প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন’ বলে যে মন্তব্য করেছেন তা ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হলে চীনের উদার আর্থিক সম্পর্কের ইঙ্গিত করছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে- চীন থেকে ভবিষ্যতের আর্থিক সমর্থন আদায়ে এগিয়ে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারলে রাজনীতিতে এগিয়ে যাবে বিরোধী দল। দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোর অন্তত একাংশের ব্যাপারে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব আদায় করতে পারলেই পরিষ্কার হবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি। আর সেটাই পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে রাজনীতিতে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সফরে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি (তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ‘ভারত কোন দল নয়, দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়’ বলে যে মন্তব্য করেছেন সেটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে রাজনৈতিক মহল। বিএনপি মনে করে এ মন্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, এ সফরে পারস্পরিক সুসম্পর্কের ভিত্তিতে কিভাবে ভবিষ্যৎ পথচলা মসৃণ হয় সে ব্যাপারে আলোচনা হবে। বিএনপি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চান খালেদা জিয়া। এ জন্য বিএনপির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে দেশটির নেতিবাচক মনোভাব দূর করার দিকেই জোর দেবেন তিনি। এরই মধ্যে লন্ডনের স্ট্র্যাটেজিক এনালাইসিসে প্রকাশিত এক লেখায় নিজের সফরের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও অনেকটাই খোলাসা করেছেন খালেদা জিয়া। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধাবোধ, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং যৌথ ইতিহাসকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছেন। দু’দেশের বিরাজমান বর্তমান সঙ্কটের জন্য ঔপনিবেশিক নীতি ও ঘটনাপরম্পরায় ‘ভয়ের বিকার’কে দায়ী করেছেন তিনি।
ভারত সফরে খালেদার সামনে ডজন ইস্যু
আসন্ন সফরে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে অন্তত এক ডজন ইস্যুতে কথা বলবেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। এর মধ্যে জ্বলন্ত সমস্যা হিসেবে শীর্ষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তিস্তাসহ যৌথ নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও সীমান্ত ভূমি সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করবেন। তিনি ভারতের কাছে এসব ইস্যুতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনকারী সিদ্ধান্ত চাইবেন যা বাংলাদেশের জনমনস্তত্ত্বে আলোড়ন তুলবে। এ জন্য তিনি পারস্পরিক আস্থার সঙ্কট থেকে উত্তরণে পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তঃসীমান্ত সম্পর্কের উন্নতি হাসিলের চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে পিপল টু পিপল সম্পর্ক বাড়াতে অর্থনৈতিক প্রয়োজনে সীমান্ত চলাচলকে সহজকরণ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের নিশ্চয়তা আদায়ের চেষ্টা করবেন। এর জন্য তিনি সফরের আগেই ভারতের জনগণের প্রতি বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার একটি বার্তা দিয়েছেন। সফরে খালেদা জিয়া আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূূলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার এবং এব্যাপারে সার্কের সমঝোতা স্মারকসহ প্রটোকলকেই গুরুত্ব দেবেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ককে কেন্দ্রবিন্দু করে তোলার ব্যাপারে জোর দেবেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত উভয়ের বৃহত্তর স্বার্থে পূর্বমুখী নীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন। এ নীতিকে আরও সক্রিয় করে আঞ্চলিক সংযোগশীলতাকে সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে বিস্তৃত করতে ভারতের সহযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি এবং ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে একটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করতে পারেন তিনি। টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে ভারতের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আদায়ের প্রচেষ্টা চালাবেন খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় গেলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ কিভাবে পথ চলবে তা বিশেষভাবে উঠে আসবে আলোচনায়।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। সাক্ষাৎ শেষে শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভারতে খালেদা জিয়ার এ সফর খুবই গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীনসহ বেশ কিছু দেশে এর আগে সফর করেছেন কয়েক দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী খালেদা জিয়া। কিছুদিন আগে তিনি চীন সফর করে এসেছেন। এখন ভারত যাচ্ছেন। ভারত সরকার খালেদার এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, ভারতে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওইসব বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, টিপাইমুখ বাঁধ, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতিসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে আলোচনা হবে। এ সফরে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের পর সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পাবে। উল্লেখ্য, ২৮শে অক্টোবর সকালে খালেদা জিয়া নয়া দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন। সপ্তাহব্যাপী সফরে তিনি ভারতের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং আজমীর শরিফ জেয়ারত শেষে ৩রা নভেম্বর ঢাকায় ফিরবেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলে থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট