Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নাফিসের জঙ্গি কানেকশন খুঁজে পায়নি এফবিআই

রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের সঙ্গে নিষিদ্ধ পৃষ্ঠা ঘোষিত হিযবুত তাহরির-এর কানেকশন খুঁজে পায়নি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এফবিআই। গতকাল বাংলাদেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নাফিস বাংলাদেশ দূতাবাসের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে নাফিসের পিতা-মাতা এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত এফবিআই-এর একজন এজেন্টের নির্দেশনা নিয়ে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নাফিসের জঙ্গি কানেকশন খুঁজে বেড়াচ্ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি তারা। এরই ধারাবাহিকতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, মতিঝিল আইডিয়াল হাই স্কুল ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন জায়গা চষে বেড়িয়েছেন সকলে। সংগ্রহ করেছে নাফিসের সকল একাডেমিক কাগজপত্র। তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বন্ধুদের তালিকা তৈরি পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে নাফিসের একাডেমিক কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নাফিস ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হয়েছিল। পরে কয়েক মাস ক্লাস করার পর তা বদলে বিবিএ বিষয় বেছে নিয়েছিল। প্রথম দিকে ফল ভাল করলেও ধীরে ধীরে রেজাল্ট খারাপ করতে থাকে। তবে ওই বিষয়ের সঙ্গে তার জঙ্গি কানেকশন মেলাতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান ও এডিশনাল আইজি মো. জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। ওদিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে অনীহার কথা জানিয়েছে নাফিস। দূতাবাস সূত্র জানায়, নাফিসের বাংলাদেশী পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু দূতাবাসের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে নাফিস আদালতে বিবৃতি দিয়েছে এবং তা এফবিআই কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছে। পরে মামলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তারা সেটা দূতাবাসকে জানিয়ে দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে অবস্থানরত নাফিসের বড় মামা আবুল বাশার বলেন, এ খবরের সত্যতা জানার জন্য আমরা বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে চেষ্টা করছি। নাফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ডিফেন্ডারসের সহকারী হেইত্তি ক্লেয়ার সিজারি’র ঠিকানায় ই-মেইল পাঠিয়েছি। দূতাবাস সূত্র জানায়, এফবিআই ও নিউ ইয়র্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলেও দূতাবাসের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সোমবার ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্ক যাবেন এবং আটককৃত নাফিসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য, গত ১৭ই অক্টোবর বুধবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার নাটকীয় পরিকল্পনার অভিযোগে এফবিআই ও নিউ ইয়র্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় বাংলাদেশী ওই  শিক্ষার্থী। ২১ বছর বয়সী নাফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। নাফিসকে বর্তমানে রাখা হয়েছে ব্রুকলিনের কারাগারে। তার মামলার পরবর্তী তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্র্যান্ড জুরির মতামতের ভিত্তিতে মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করা হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট