Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাতীয় ঐক্যে গড়ার ডাক দিলেন ড. কামাল ও বি চৌধুরী

ঢাকা, ২১ অক্টোবর: সুখী, সম্মৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিকসহ একটি অগ্রসরমান বাংলাদেশের প্রত্যাশায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়তে জোট গঠনের লক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই দুই নেতা যৌথভাবে দেশবাসীর প্রতি এ ঐক্যের আহবান জানান।

শুরুতেই আলোচনায় অংশ নেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। দেশে সন্ত্রাস-দুর্নীতি সর্বগ্রাসী আকার ধারণ করেছে। শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্পদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ঐক্যের রাজনীতি।”

তিনি আরো বলেন, “দেশের মালিক জনগণ। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু যারা নির্বাচিত হয়, তারা সর্বগ্রাসী লুটপাট শুরু করে। জনগণের কথা তারা ভাবে না। তাই দেশকে বাঁচাতে হলে দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আজ সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের ঐক্য জরুরি।

ড. কামাল হোসেনের পরে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “কিভাবে ঐক্য হবে। ঐক্য হতে পারে সমমনা দলের ভিত্তিতে অথবা তিন দফা দাবির ভিত্তিতে।”

তিনি আরো বলেন, দেশকে এগিয়ে রাখতে হলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখতে হবে। অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রেআমরা মাইনাস। সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক হামলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের সন্ত্রাসী ও নেশাখোর বানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ৮৬ শতাংশ এমপিদের মধ্যে টাকা ইনকাম করার প্রবণতা।”

তিনি বলেন, “ আমাদের জেগে উঠতে হবে। শত্রুমিত্র চিনতে হবে। আমাদের শত্রু হচ্ছে লোভী রাজনীতিবিদ। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী, কিছু লোভী আমলা। এরা দেশকে এগিয়ে নিতে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের শক্তি হচ্ছে যুবক, ছাত্র শ্রমিক, বঞ্চিত কৃষক সমাজ। এরাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার।”

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, হত্যা-গুমের বিরুদ্ধে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, গণতান্ত্রিক মুক্তি কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

এর আগে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দলীয়করণের অসুস্থ ধারা থেকে মুক্ত হতে দেশবাসীকে স্বোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে দেশের প্রবীণ দুই রাজনীতিবীদ অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেন বলেন, অশুভের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আসুন আজ আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ি। দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে নিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দিই।

তারা দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও আজকে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আজকে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটের সম্মুখীন।

গণতন্ত্র সাংবিধানিক শাসনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করে। যেখানে জাতীয় সংসদের দায়িত্ব ছিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিতা আদায় করা, সেখানে সাংসদদের নীরবতা ও নিস্ক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।

অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরম্নদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন বলেন, আজ বাংলাদেশের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সকল ছেলে- মেয়ের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা  ও ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

দুই নেতা বলেন, সরকারের দিন বদলের প্রতিশ্রুতিতে ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করা। কিন্তু যা ঘটেছে তা হলো শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং তাদের প্রার্থনাস্থল ধ্বংস করা।

এই দুই বর্ষিয়ান নেতা বলেন, সাংবাদিক সমাজ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ঘরের মধ্যে খুন হয়ে যান সাগর-রুনিসহ অসংখ্য সাংবাদিক। দেশে গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর মামলা ও পুলিশি নির্যাতন চালিয়ে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। দলীয়করণের কারণে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। এটিকে বিভিন্ন কায়দায় লংঘন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, সবশেষে বলতে চাই, দেশের ১৬ কোটি মানুষ ও সাড়ে আট কোটি ভোটারের অংশ গ্রহণে নির্বাচন হোক। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক দেশ আমরা দেখতে চাই। তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যেভাবে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, আজ সময় এসেছে এমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবার। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় আমাদের মধ্যে ঐক্য হয়ে আছে।

দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যের পর মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেন, ৪২ বছর ধরে আমরা শুধু প্রত্যাশাই করে গেলাম। কিন্তু আজো প্রত্যাশিত বাংলাদেশ দেখলাম না।

গণস্বাস্থ্যের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুই-এক কোটি টাকার জন্য অনেক ব্যবসায়ী ঋণখেলাপী হয়ে পথে বসছেন। অন্যদিকে অনেকে ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলছেন, চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা নয়। এর চাইতে দুর্ভাগ্য আর কিছু হতে পারে না।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন দুই শীর্ষ নেতা এবং দুই নেতার পক্ষে মাহমুদুর রহমান মান্না যৌথ ঘোষণা পাঠ করেন।

এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লেখক-কলামিন্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, রাজনীতিবিদ সরদার আমজাদ হোসেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নুরুল আলম, হুমায়ুন কবির হিরু, ফরোয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান আনম মোস্তফা আমিনসহ রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষাক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট