Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শাওনকে ফেসবুকে হুমকি চিকিৎসক গ্রেপ্তার

প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম ডা. এহসানুজ্জামান খান (৩৬)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর রমনা থানাধীন নিউ ইস্কাটন রোডের এক ওষুধ কোম্পানির কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাতে শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসকসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এহসানুজ্জামান ২৭তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। গতকাল দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. এহসানুজ্জামানকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় অভিযোগকারী মেহের আফরোজ শাওন, তার পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাযহারুল ইসলামের স্ত্রী তানজিনা রহমান স্বর্ণা উপস্থিত ছিলেন। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পরপরই সাইবার ক্রিমিন্যালরা ফেসবুকে একটি পেজ চালু করে। নাম দেয় ‘উই হেট মেহের আফরোজ শাওন’। এটির উদ্যোক্তা ডা. এহসানুজ্জামান খান ও তার তিন সহযোগী। এ পেজের মাধ্যমে তারা শাওনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করে। এমনকি ওই পেজে শাওনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে দুষ্কৃতকারীরা। পরে ওইসব মাধ্যমে তারা শাওনকে হত্যা ও দেশ ছাড়া করার হুমকিও দিতে থাকে। এক পর্যায়ে শাওন গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক এহসানুজ্জামানকে আটক করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক এহসানুজ্জামান খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি হুমায়ূন ভক্ত। শৈশব কাল থেকেই বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও নাটক পড়েছি। এছাড়া ওইসব বই সংগ্রহ করেছি। প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদকে ছেড়ে দিয়ে কন্যা শীলা আহমেদের মেয়ের বান্ধবী শাওনকে বিয়ে করায় খুবই ব্যথিত হয়ে পড়ি। এরপর থেকেই শাওনকে ঘৃণা করতে থাকি। সর্বশেষ হুমায়ূনের রহস্যজনক মৃত্যু আমাকে মর্মাহত করে। আমার ধারণা, শাওনের অবহেলা ও অযত্নে তার মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া মৃত্যুর পর তার লাশের কবর দেয়া নিয়ে শাওনের বিভিন্ন ঘটনার অবতারণাও বিভ্রান্ত ছড়িয়ে আমাকে পীড়া দিয়েছে। এসব কারণেই ফেসবুকে ‘উই হেট মেহের আফরোজ শাওন’ পেজ চালু করেছি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে এ গ্রুপের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিজেই ছিলাম। পরে গ্রুপে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নওরীন নায়রা, ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু তরিকুল ইসলাম, গৌতম এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী তসলিমা খাতুনকে এ পেজে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বানানো হয়। পেইজের সদস্যরা শাওনকে উদ্দেশ্য করে করুচিপূর্ণ মন্তব্য করতো বলে তিনি স্বীকার করেন।
তবে তার মোবাইল ফোন কিংবা বাড়ির ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়ে হুমকির বিষয়টি তার জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কর্মস্থলে ব্যস্ততার কারণে পেইজটি ঠিকমতো তদারক করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে কোন সদস্য হয়তো পেইজে শাওনের বাসার ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করে পোস্ট করে। ওই নাম্বারে কেউ তাকে গালাগালি করে থাকতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পর তিনি কম্পিউটার-ইন্টারনেট ব্যবহার করেননি। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে ফেসবুকের এই পেইজটি সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রথমে তিনি এটিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও সম্প্রতি ওই পেইজের মাধ্যমে বাসার ফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা প্রকাশ করা হয়। কয়েক দিন থেকে তাকে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী ব্যক্তি হত্যা ও দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এ কারণে গত ১১ই অক্টোবর তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের এন্টি ক্রাইম জোনে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, ওই গ্রুপটি সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হেয়প্রতিপন্ন করেছে। অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ ছাড়া এ ধরনের কাজ করা কখনওই সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাইবার ক্রাইম আইনে গ্রুপটি ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি। জানা গেছে, আটককৃত ডা. এহসানুজ্জামান খানের পিতার নাম মৃত হাবিবুজ্জামান খান। নেত্রকোনার সদর থানাধীন সাতপাই গ্রামে তাদের বাড়ি। উল্লেখ্য, একই জেলায় প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদেরও পৈতৃক বাড়ি। এদিকে গতকাল পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই পেইজটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় ওই পেইজটিতে ১৪২১ জন ব্যবহারকারী লাইক অপশনে ক্লিক করেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট