Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রামুতে বিদেশীদের না যেতে পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজারের রামু বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধ বসতিতে হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকাস্থ বিদেশী কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের ব্রিফ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ঘটনার কারণ ও পরবর্তী সময়ে সরকারের অ্যাকশনগুলো তুলে ধরলেন তিনি। সেই সঙ্গে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে ‘স্পর্শকাতর’ উল্লেখ করে সেখানে বিদেশী কূটনীতিকদের না যাওয়ার পরামর্শ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনক্লজ সভাকক্ষে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, চীনসহ আমন্ত্রিত ৪৬ রাষ্ট্র ও ১০ আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন। দীপু মনি বিদেশী কূটনীতিকদের বলেন, রামুর বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধ বসতিতে হামলার কারণ খুঁজে বের করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে সরকার ন্যূনতম ছাড় দেবে না। এছাড়া, বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যগত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অন্য সমপ্রদায়ের লোকজনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। রামুর ঘটনার পর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন জানিয়ে দীপু মনি এ পরিস্থিতিতে কোন ধরনের উসকানিমূলক হামলা থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সমপ্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানান। মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সিনিয়র কূটনীতিকরা সহিংসতা পরবর্তী সরকারের নেয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধের তাগিদ দেন তারা। বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাংলাদেশে বসবাস এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী ব্রিফিংয়ের শুরুতে পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস অভ্যাগত কূটনীতিকদের স্বাগত জানান। এরপর  দীপু মনি তার বক্তৃতায় রামু পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি ঘটনার পরবর্তী সরকারের অ্যাকশনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে মন্ত্রী এ সহিংসতার সঙ্গে দেশী-বিদেশী জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আশঙ্কা করেন। তবে ঘটনা যা-ই হোক সরকার অসামপ্রদায়িক চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করবে বলে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, তার সরকার যে কোন অপরাধ, জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাসী ও কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। কক্সবাজারের ঘটনায় পুরো জাতি বিস্মিত। ঘটনাটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুজাতিক বাংলাদেশের মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কিংবা পেছনে মদতদাতাদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান চলছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সবচেয়ে শোচনীয় দিক হলো- এতে বুদ্ধর পবিত্র মূর্তি ও কয়েক শতকের অনন্য নিদর্শনগুলো উপাসনালয়ে রক্ষা পায়নি। তবে একমাত্র সান্ত্বনা এতে কোন প্রাণহানি ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের মানুষ এই বর্বর ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। দীপু মনি বলেন, যে বা যারাই বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতাকে খর্ব করার চেষ্টা করবে তারা সফল হবে না। মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা এবং বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতার সূত্রে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ঘটনার ‘তদন্ত’ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। মন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার গত ৩রা অক্টোবর কলম্বোর বাংলাদেশ হাইকমিশনে ক্ষুব্ধ লঙ্কান বৌদ্ধদের বিক্ষোভ ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। উদভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোসহ তার সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার বর্ণনা দেন। বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত নিরাপদে বসবাস করছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, রামুর ঘটনা তাদের হতবাক করেছে। এ নিয়ে তার দেশের জনগণের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় তা দ্রুত প্রশমিত হয়েছে। ঐতিহ্য মতে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসবাস নির্বিঘ্ন হওয়ার প্রত্যাশা করেন হাইকমিশনার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাষ্ট্রদূতদের পক্ষ থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। তিনি রামুর সহিংসতা পরবর্তী সরকারের শক্তিশালী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সাংবাদিকদের কাছেও একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন তার প্রতিক্রিয়ায় রামু সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে এদেশে বসবাস এবং তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারে এজন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট