Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চট্টগ্রামের জলদানব, অক্সিজেন ছাড়া একনাগাড়ে ৭২ ঘণ্টা পানির নিচে

অক্সিজেন ছাড়া একনাগাড়ে ৭২ ঘণ্টা পানির নিচে ডুবে থাকার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ‘জলমানব’ খ্যাত নওশের আলী (৫২) গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি চান।

মীরসরাইয়ের হাদিফকিরহাট সংলগ্ন পুকুরে তাঁর ডুব প্রদর্শনী শুরুর আগে এই ইচ্ছার কথা জানান।

উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউপি সদস্য মোঃ কামাল পাশা জলমানব নওশের আলীকে নিয়ে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে তার বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে দিনব্যাপী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টা ডুব প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ডুব প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম ও সমাজ সেবক শামসুল হুদা ভুঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলের নীচে শ্বাস তাঁকে নিতেই হয়। ৫২ বছর বয়সী চিরকুমার নওশের শুধু পানিতে ডুবেই থাকেননি, পানির নিচে তিনি দুধ, কলা, ডিম, চাসহ বিভিন্ন খাবার খেয়েছেন। মাইকে প্রশ্ন করলে হাত তুলে ইশারায় প্রশ্নের জবাব দেন। গানের তালে তালে অঙ্গ ভঙ্গিমার মাধ্যমে মাতিয়ে তুলেছেন হাজারো দর্শকদের। হাত-পা নেড়ে ছটফট করে খেলাও দেখিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পানির নিচে সিগারেট টেনে ধোঁয়া পানির ওপরে তুলে দেন নওশের। এ অবিশ্বাস্য দৃশ্য পুকুর পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের চমৎকৃত করে।

কিন্তু ওসব কিভাবে সম্ভব? ডুব দেয়ার আগ মুহূর্তে জলমানব নওশের জানিয়েছেন, মানব জাতি আকাশকে জয় করতে পারলে পাতালকেও জয় করা যায়। তিনি বলেন, অক্সিজেন ছাড়া কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না পৃথিবীতে। তদ্রুপ আমিও পারি না। তবে পানির নিচে আমি অক্সিজেন তৈরি করে থাকি, যা আপনারা-দর্শকবৃন্দ স্বচে দেখবেন।

ডুবে থাকা অবস্থায় পানিতে হাত দিয়ে আঘাত করলে বড় রকমের জায়গা করে নেয়া যায়। ওই জায়গা থেকে অক্সিজেন গ্রহণ শেষে আবার পানিতে ছেড়ে দিয়ে থাকি।

এক প্রশ্নের জবাবে নওশের বলেন, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বন্ধুদের সঙ্গে কথার ছলে ডুব প্রতিযোগিতার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময় কথা হয়, যে বেশিণ ডুবে থেকে চ্যাম্পিয়ন হবে, তাঁকে পুরস্কার হিসাবে ১ কেজি মিষ্টি দেয়া হবে। নওশের আগ্রহী হয়ে উঠে শিশু বয়সে। ২ মিনিট ডুব দিয়ে থেকে সেরা হিসাবে ওসময় এক কেজি মিষ্টি পান তিনি। তার ধারণা জন্মে যত বেশি ডুব দেয়া যায়, তত বেশি মিষ্টি পাওয়া যাবে। ওই সূত্রে তার এই চ্যালেঞ্জ বলে জানান নওশের।

জানা গেছে, ১৯৭২ সালে পাইকগাছা থানার অফিসার শিশু নওশের আলীর কথা শুনে তাঁকে থানায় আমন্ত্রণ জানান। থানার পুকুরে প্রথমবারের মতো সবার সামনে ১৫ মিনিট পানিতে ডুবে থাকেন তিনি। তাঁকে দেখতে সেদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অনেকেই। কেউ তাকে জলমানব আর কেউ মৎসকুমার ডাকতে শুরু করে দিল। পরের বছর ডুব দিতে গেলেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা কলেজের পুকুরে। দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট ডুবে থেকে হতবাক করে দিলেন হাজার হাজার দর্শককে। একই বছর রাজশাহীর সোনাদীঘিতে ছিলেন তিন ঘণ্টা ১০ মিনিট। ১৯৭৫ সালে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে খুলনা পাইওনিয়ার গার্লস স্কুলের পুকুরে এক ডুবে কাটিয়ে দিলেন ২৮ ঘণ্টা।

১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আসেন নওশের আলী। প্রদর্শনী দেখতে লোকারণ্য হয়ে ওঠে লালদীঘি ময়দান। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজিত প্রদর্শনীতে সেবার লালদীঘিতে ৩০ ঘণ্টা ডুবেছিলেন নওশের আলী। এরপর আরো তিনবার আসেন বন্দরনগরীতে। ১৯৭৭ সালে বন্দর পুকুরে ৪০ ঘণ্টা, ১৯৮৮ সালে লালদীঘিতে ৪০ ঘণ্টা এবং ১৯৯০ সালে ৫২ ঘণ্টা জলের তলায় কাটিয়ে দেন নওশের আলী। দেশের সর্বত্র ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থেকে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে আসছেন চিরকুমার নওশের আলী।

শুধু দেশেই নয়, ভারতে ও দণি আফ্রিকায় ১২ ও ৩০ ঘণ্টা ডুবে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। নওশের আলীর হিসাব মতে, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সব প্রদর্শনীতে জলের তলায় মোট সাড়ে ১২ হাজার ঘণ্টা কাটিয়েছেন। নওশের আলীর পৈত্রিক বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামে। মাকে হারিয়েছেন ছোটবেলায়। তরুণ বয়সে বাবাকেও। তিন ভাই, চার বোনের মধ্যে নওশের আলী তৃতীয়। বিয়ে করেননি। গিনেস বুক অব রেকর্ডসে নাম উঠলেই নাকি করবেন, তার আগে নয়! এছাড়া আরেকটি স্বপ্ন এক ডুবে পাড়ি দেবেন ইংলিশ চ্যানেল। এখন তাঁর স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে নওশের আলী বলেন, ‘আগে পানির নিচে ডুবে থাকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই। তারপর মৃত্যুর আগে গিনেস বুকে নামটা তুলে যেতে চাই।’ এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। নওশের আলী বলেন, তার একটি মাত্র আশা এই কৃতিত্বটাকে যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হয়। মৃত্যুর আগে জাতীয় স্বীকৃতিটা পেয়ে গিনেচ বুকে তার নামটা তুলে যেতে চান খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সন্তান নওশের।

আয়োজক মো কামাল পাশা জানান, এখন থেকে ৩৩ বছর পূর্বে ১৯৭৯ সালে প্রথম এই জলমানব নওশের আলী এই পুকুরে তার শারীরিক কসরত দেখান। আবারও দীর্ঘ সময় পর বিনোদন প্রেমীদের বিনোদন দিতে তাকে নিয়ে আসি। এখানে কারো থেকে টিকেট বাবদ কোনো টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট