Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হলমার্কের সুবিধাভোগীরা আতঙ্কে

আতঙ্কে আছেন হলমার্ক কেলেঙ্কারির সুবিধাভোগীরা। হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ ও জিএম তুষার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে তারা। তানভীর ও তুষারের ২৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তাদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এদের মধ্যে আছেন সোনালী ব্যাংকের আরও কর্মকর্তা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের লোকেরা, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা এবং কতিপয় মিডিয়া কর্মী। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের দায়ের করা ১১টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় রিমান্ড হয়েছে ২৪ দিন, ১১টি মামলায় তানভীর ও তুষারকে রিমান্ড খাটতে হবে কম করে হলেও ৮৮ দিন। এছাড়া হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে আরও প্রায় ১৫টি মামলা দায়ের করতে পারে দুদক।
সূত্র জানায়, রিমান্ডের প্রথম দিনেই মুখ খুলতে শুরু করেছে তানভীর মাহমুদ ও তুষার আহমেদ। ইতিমধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে তানভীর মাহমুদ। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডে তানভীর ও তুষারের জবাব দেয়ার ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে তারা সবকিছুই বলে দিতে পারে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে গোটা কেলেঙ্কারির সুবিধাভোগীদের নাম ও ভূমিকা।
ঢাকার রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও হলমার্কের সুবিধাভোগীদের তালিকায় আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। ঢাকার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তানভীরের সখ্য গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ওইসব নেতা। তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওইসব নেতার মোইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল এমন চারজন নেতাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি, তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ। হলমার্ক কেলেঙ্কারি প্রকাশ হওয়ার পর হলমার্কের শেওড়াপাড়ার প্রধান কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি দলের লোক বলে তানভীরের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে যে নেতা তানভীরের পক্ষে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন গতকাল ওই নেতার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। ওই নেতার বাড়িতে ফোন করলে সংবাদপত্রের পরিচয় পেয়ে দ্রুত ফোন রেখে দিয়ে বলা হয়, উনি বাড়িতে নেই। হলমার্কের রূপসী বাংলা শাখা থেকে একজন রাজনৈতিক নেতার সাভারের জমি কেনার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, আরেক প্রভাবশালী নেতার রাজউকের প্লট কেনার টাকা দেয়া হয়েছে হলমার্কের একাউন্ট থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে। ওই রাজনৈতিক নেতার এপিএস একটি বড় অঙ্কের নগদ টাকা নিয়েছেন তানভীরের কাছ থেকে। তানভীর রিমান্ডে যাওয়ার পর থেকে চরম আতঙ্কে আছেন তারা। যে নেতা তানভীরের কাছ থেকে রাজউকের প্লট কেনার পে-অর্ডার নিয়েছেন মামলা হওয়ার পর ওই নেতার বাড়িতে গিয়েছিলেন তানভীরের স্ত্রী জেসমিন ইসলাম। বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বলা হয়েছে, আপনাদের কারণে অনেক ডুবেছি। দয়া করে মাফ করে দিন, তাকে  দ্রুত চলে যান। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে নাম প্রকাশ হয়েছে এমন একজন রাজনৈতিক নেতার এখন ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গতকাল থেকে ওই নেতার আতঙ্কের কারণে ঢাকার বাইরে থেকে তার অনেক আত্মীয় এসেছেন তাকে দেখতে।
তানভীরের কাছ থেকে দামি গাড়ি নিয়েছেন এমন একজন এমপি-ও বেশ চিন্তিত, সামনে নির্বাচন। এমনিতেই তার মনোনয়ন নিয়ে ঝামেলা আছে এ সময় তানভীর তার গাড়ির বিষয়টি ফাঁস করে দিলে ঝামেলা আরও বাড়বে। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সোনালী ব্যাংকের কেবল যারা আসামি হয়েছেন তাদের বাইরেও তানভীরের কাছ থেকে সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তানভীর মাহমুদের ঋণের হাতে খড়ি সোনালী ব্যাংকের আগারগাঁও তালতলা শাখা থেকে। ওই শাখার দু’জন সাবেক ম্যানেজার তানভীরকে পরিচয় করিয়ে দেন সোনালী ব্যাংকের সে সময়ের শেরাটন শাখার ম্যানেজার আজিজুর রহমানের সঙ্গে। তালতলা শাখার ওই দুই সাবেক ম্যানেজারের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখার ছাত্রনেতা ছিলেন। রূপসী বাংলা শাখার ম্যানেজার আজিজুর রহমান তার খুবই ঘনিষ্ঠ। ওই সাবেক ম্যানেজার এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তানভীরের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার সুবিধা নিয়েছেন তিনি। মামলার আসামি না হলেও তানভীর রিমান্ডে যাওয়ার পর আতঙ্কে আছেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের আরও বেশ ক’জন কর্মকর্তা তানভীরের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। আতঙ্কে আছেন এক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা। সাভার থানার ওইসব পুলিশ কর্মকর্তার অনেকেই এখন ডিএমপিতে আছেন। ২০০৮ সাল তানভীর মাহমুদ ব্যক্তিগত বাহিনী দিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে বহু মানুষের জায়গা-জমি দখল করে নেন। ভুক্তভোগীরা সাভার থানায় মামলা করলেও লাভ হয়নি, পুলিশ ছিল তানভীরের পক্ষে। তানভীরের বিরুদ্ধে সাভার থানায় জমিদখল, হামলাও ভাঙচুরের দায়ে ২০টি মামলা ও ১৯টি সাধারণ ডায়েরি আছে। এর মধ্যে সাভার থানা পুলিশ ৬টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, বাকি মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পথে। সূত্রমতে মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে। তানভীরকে রিমান্ডে নেয়ার পর আতঙ্কে আছেন রাতের আঁধারে লেনদেনকারী ওইসব পুলিশ কর্মকর্তা।  কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য রেখে তানভীর সাভারে ও মিরপুরে দিনের পর দিন লালন করেছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। তাদের ব্যবহার করা হয়েছে জমি দখলের কাজে। পুলিশের কোন কোন কর্মকর্তা তানভীরের অফিসে যাতায়াত করতেন সেগুলোও খতিয়ে দেখবে দুদক, এ খবর জানাজানি হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশের ওইসব কর্মকর্তার ভেতরও।
টাকার ভাগ দিতে হয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের: হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিবরণ দিলেন হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ। সোনালী ব্যাংকের এমডি হুমায়ন কবীর থেকে শুরু করে রূপসী বাংলা শাখার ম্যানেজার এ কে এম আজিজুর রহমান পর্যন্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা এলসি জালিয়াতিতে কে কিভাবে জড়িত দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে গতকাল তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। দুদকের দায়ের করা মোট ১১টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় মোট ২৪ দিন রিমান্ডের প্রথম দিনে রমনা থানার  ৮, ৯ ও ১৭ নম্বর মামলায় গতকাল হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর ও জিএম তুষারকে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামালার ৩ তদন্ত কর্মকর্তা। ৮ নম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। ৯ নম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আখতার হামিদ ভূঁইয়া ও ১৭ নম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তিনটি মামলাই ভুয়া ঋণপত্র খুলে অর্থ আত্মসাতের জালিয়াতির মামলা। দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল তানভীর ও তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তকারী দুদক কর্মকর্তারা এলসি জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সূত্রমতে জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর মাহমুদ জানিয়েছেন ওই প্রক্রিয়ায় এলসি খুলে টাকা আত্মসাতের কৌশল তাকে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার ম্যানেজার আজিজুর রহমানই বাতলে দিয়েছেন, তবে তার আগে সোনালী ব্যাংক আগারগাঁও শাখার দু’জন সাবেক ম্যানেজারের কাছ থেকে কৌশল কিছুটা রপ্ত করেছেন। তানভীর জানিয়েছেন, সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি একা ভোগ করেননি ব্যাংকের ওপর মহল থেকে নিচ পর্যন্ত দিতে হয়েছে তবে কোন কোন কর্মকর্তাকে টাকা দিয়েছে সে বিষয়ে গতকাল  জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গতকালে জিজ্ঞাসাবাদে এলসি জালিয়াতির বিষয়ে বেশি জানতে চাওয়া হয়েছে সূত্র মতে তানভীর মাহমুদ এলসি জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সকল দায় কবুল করে নিয়েছেন, তানভীর স্বীকার করেছেন সোনালী ব্যাংক থেকে তার নেয়া বেশির ভাগ টাকাই কোন ঋনের আওতায় পড়ে না, এটা জালিয়াতি করে নেয়া, তানভীর বলেছেন যে কারণে তিনি সোনালী ব্যাংকের নিয়মিত ঋণ গ্রহীতা হওয়ার চেষ্টা করছেন, সোনালী ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
জামিন আবেদন নামঞ্জুর: দেশের সর্ববৃহ ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ এবং তার ভায়রা  ও হলমার্কের জিএম তুষার মাহমুদের ৮টি মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল আসামিপক্ষে ৮টি মামলায় জামিনের আবেদন  শুনানি করলে মহানগর হাকিম আবদুস সালাম এ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত সোমবার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফান উল্লাহ তাদের তিন মামলায় ২৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া অপর একটি অস্ত্র মামলায় তানভীরকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী।
গতকাল আসামিপক্ষে জামিন শুনানিতে বলা হয়, দুদকের দায়ের করা এ মামলায় রিমান্ড আবেদনের কোন প্রয়োজন নেই। তাদের হয়রানি করার জন্যই এ অযৌক্তিক রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তারা নিয়ম মোতাবেক ঋণ নিয়েছেন এবং নিয়ম মোতাবেক তা পরিশোধ করবে।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে বলা হয়, তাদের এসব মামলায়ও ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন পেন্ডিং আছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা গত সোমবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করে ১১ টি মামলায় ১০ দিন করে মোট ১১০ দিন রিমান্ড চান। তবে ১১ টি মামলার রিমান্ডের আবেদন থাকলেও গত সোমবার তিনটি মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন দুদকের প্রসিকিউটিং কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ৭ই অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর থেকে সোনালী ব্যাংকের ঋণপত্র জালিয়াতির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একই সঙ্গে তার ভায়রা ও হলমার্কের জিএম তুষার মাহমুদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ দু’লাখ টাকা এবং ম্যাগাজিন ও গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব। রাতেই তানভীরকে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঋণপত্র জালিয়াতির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবিরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের দায়ে গত ৪ঠা অক্টোবর  রমনা থানায় ১১টি মামলা করে দুদক। মামলায় সোনালী ব্যাংকের ২০ জন ও হলমার্কের ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to হলমার্কের সুবিধাভোগীরা আতঙ্কে

  1. Md. Fazlul Karim

    October 10, 2012 at 12:53 pm

    Amar ei birat “Dakat” abong tader sohojogider Mrittudondo chai, pasha pashi Taka uddharer jonno tader somosto sompotti bajeapto dekhtey chai…

    [WORDPRESS HASHCASH] The poster sent us ’0 which is not a hashcash value.