Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ট্যানারি শিল্পের দূষণ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

 বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হাজারিবাগ ট্যানারি শিল্পে মারাত্মক দূষণ ও দূষণের প্রভাবে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের দুর্দশা ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচ আর ডব্লিউ)। ১০১ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘টক্সিক ট্যানারিস: দ্য হেলথ রিপারকাশনস অব বাংলাদেশ’স হাজারিবাগ লেদার’। এতে উঠে এসেছে হাজারিবাগ এলাকার ট্যানারিগুলোর ভয়াবহ রূপ। রাজধানীর হাজারিবাগ এলাকার বহু ট্যানারির পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অস্বাস্থ্যকর, বিষাক্ত ও বিপজ্জনক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার ফলে এ চিত্র প্রতিদিনের। শুধু তাই নয়। বড়দের পাশাপাশি ট্যানারি শিল্পে কাজ করছে বহু শিশু-কিশোর ও অল্পবয়সী মেয়ে শ্রমিকরাও। ১১ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে সেখানে। দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে তারাও। সারা বিশ্বে এ ট্যানারিগুলো থেকে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর রপ্তানি হচ্ছে কোটি কোটি ডলারের বিলাসবহুল চামড়া সামগ্রী। অথচ এর আশপাশের পরিবেশে প্রতিদিন যে দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নীরব ঘাতকের মতো পরিবেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। শ্রমিকরা হরহামেশাই আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগ ও ফুসফুসের মারাত্মক কোন সমস্যায়। এখানেই শেষ নয়। ট্যানারি মেশিনে দুর্ঘটনায় হাত-পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হচ্ছে অনেক শ্রমিককে। হাজারিবাগ বস্তির বাসিন্দারা অভিযোগে জানালেন, তারা জ্বর, চর্মরোগ, ফুসফুসের সমস্যা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ওই এলাকার পানি, মাটি ও বায়ু সবই বিষাক্ত। এইচ আর ডব্লিউ’র প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ট্যানারি শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যগত অধিকারগুলো সংরক্ষণ বা তাদের সুরক্ষায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সরকারি তরফ থেকে। হাজারিবাগ এলাকায় শ্রমিক ও পরিবেশ আইনগুলো প্রয়োগে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। এমনকি এ দূষণময় ও বিষাক্ত ট্যানারিগুলো পরিস্কার করার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশকেও অমান্য করা হয়েছে। এইচ আর ডব্লিউ’র স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার বিভাগের সিনিয়র গবেষক রিচার্ড পিয়ারহাউজ বলেছেন, হাজারিবাগের ট্যানারিগুলো পরিবেশকে ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত কেমিক্যালে প্লাবিত করছে। সরকারের উদাসীনতায় স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ও শ্রমিকরাও প্রতিদিন ট্যানারি কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করার ফলে আক্রান্ত হচ্ছে। এইচ আর ডব্লিউ’র কাছে সরকারি কর্মকর্তারা নিজেরাও ট্যানারিগুলোতে আইন প্রয়োগ না করার কথা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্পের ৯০ শতাংশই হাজারিবাগে। প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিককে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে হাজারিবাগের ওই ট্যানারিগুলোতে। বাংলাদেশ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, আমরা হাজারিবাগের জন্য কিছুই করছি না। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায়, সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব দেশের সরকারের। সরকারই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০২ থেকে শুরু হওয়া গত দশকে বাংলাদেশের চামড়া খাতে প্রতি বছর গড়ে ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েছে। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত চামড়ার জুতা, বেল্ট, ব্যাগসহ প্রায় ৬৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের চামড়া সামগ্রী রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে চামড়ার এ সামগ্রীগুলো রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, জার্মানি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাক্ষাৎকারও ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। ট্যানারিগুলোতে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলোতে জমা হয় পানি। সে পানিতে থাকে অ্যাসিড ও বিষাক্ত রাসায়নিক। ওই পানিতে পা পড়লেই, চামড়া পুড়ে সেখানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ট্যানারির শ্রমিকদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয় না। বহু পুরনো মেশিন দিয়েও কাজ চালিয়ে নেয়া হয়। কোন কোন ট্যানারির ম্যানেজাররা অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ছুটি বা ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয় না। এটা বাংলাদেশের শ্রমিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। মানবেতর পরিস্থিতি, অমানবিকতা ও দুর্দশার মধ্যেই দিন কাটে ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের। শিশু শ্রমিকদের দিয়ে বিপজ্জনক কাজগুলো করিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিষাক্ত কেমিক্যালে কাঁচা চামড়া ভিজানো, রেজরব্লেড দিয়ে চামড়া কাটা, বিপজ্জনক ট্যানিং মেশিন চালানোর মতো কাজ। শুধু তাই নয়। পুরুষদের কাজও তাদের করতে হয়। অথচ নারী ও অল্প বয়সী মেয়ে শ্রমিকদের যে বেতন দেয়া হয়, তা পুরুষদের তুলনায় কম। ট্যানারি থেকে যে বর্জ্যগুলো নদীর পানিতে গিয়ে মেশে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাণীর মাংস, বিষাক্ত সালফিউরিক এসিড, ক্রোমিয়াম ও লিড। অচিরেই হাজারিবাগের এ ট্যানারিগুলোতে মারাত্মক দূষণ রোধে ও আশপাশের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট