Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইলিয়াসের সরব উপস্থিতি হবিগঞ্জের সর্বত্রই

দীর্ঘদিন খোঁজ নেই বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর। চলতি বছরের ১৭ই মে মধ্যরাতে ঢাকায় গুম হয়েছেন তিনি। বিরোধী দলের টানা আন্দোলনের পরও মেলেনি একটি প্রশ্নের উত্তর। ইলিয়াস আলী এখন কোথায়? কিন্তু তার সরব উপস্থিতি ছিল হবিগঞ্জের সর্বত্রই। দেয়ালে দেয়ালে, মানুষের মুখে মুখে। সব মিলিয়ে সশরীরে অনুপস্থিত ইলিয়াস আলী ব্যানার-পোস্টারে ব্যাপকভাবে উপস্থিত ছিলেন জনসভায়। বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে দেখা গেছে এমনই দৃশ্য। জনসভায় অংশ নেয়া শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও সদরের শায়েস্তানগর, রাজনগর, উমেদনগর ও অনন্তপুরের নানা মানুষের সঙ্গে আলাপে প্রকাশ পেয়েছে সরকারের প্রতি তাদের ক্ষোভ এবং ইলিয়াস আলীর জন্য অধীর আগ্রহের অপেক্ষা। তারা বিশ্বাস করেন একদিন ইলিয়াস আলী জীবিত ফিরে আসবেন তাদের মাঝে। হাত বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করবেন- ‘ভাই কিতা খবর, ভালা নি?’
নানা ঘটনা পরম্পরায় বৃহত্তর সিলেটে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন ইলিয়াস আলী। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় এ ছাত্রনেতা নিজ যোগ্যতায় তৈরি করেছিলেন এমন অবস্থান। সিলেট বিএনপির মহীরুহ এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে বিরোধে তিনি ছিলেন লড়াকু ভূমিকায়। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর তাই তিনিই হয়ে উঠেছিলেন একক, অনন্য। পদে সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও প্রভাবে ছিলেন শীর্ষপর্যায়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আনুগত্য, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিরলস ইলিয়াস আলী হয়ে উঠেছিলেন বৃহত্তর সিলেটের রাজনীতিকদের ঈর্ষার পাত্রও। বিশেষ করে টিপাইমুখ বাঁধ, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত জমির বিরোধ নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব ও সর্বশেষ স্থানীয় নির্বাচনে তার তৎপরতায় সিলেটে বিএনপি পেয়েছে ব্যাপক সাফল্য।
১৭ই মে মধ্যরাতে বনানীর বাড়িতে ফেরার পথে মহাখালী থেকে গাড়িচালকসহ গুম হন ইলিয়াস আলী। তার সন্ধান দাবিতে সারাদেশে তুঙ্গে উঠে বিএনপির আন্দোলন। সিলেটে তৈরি হয় অচলাবস্থা। প্রিয় নেতার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে দ্বিধা করেননি বিশ্বনাথের সমর্থকরা। কিন্তু মেলেনি তার সন্ধান। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর হবিগঞ্জের জনসভাটিই ছিল বৃহত্তর সিলেটে খালেদা জিয়ার প্রথম জনসভা। ফলে মাধবপুর পৌরসভা থেকে শায়েস্তাগঞ্জ চৌরাস্তা হয়ে হবিগঞ্জ শহরের দুইপাশে ছিল কেবলই ইলিয়াস আলীর মুখচ্ছবি। তার সন্ধান দাবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টারের আধিক্য। নিউফিল্ডের চারপাশে ঝুলেছে ইলিয়াসের বিশাল বিশাল ছবি। স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও যুবদল ব্যানার-ফেস্টুনে মুখ্য করেছেন প্রিয় নেতাকে। কেবল জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল ও জিকে গউছের ব্যানার পোস্টারেই উপেক্ষিত হয়েছেন তিনি। তবে সমাবেশের বক্তব্যে কিংবা স্লোগানে আলোচনায় ইলিয়াস আলীই ছিলেন মুখ্য। হবিগঞ্জের নিউফিল্ডে সমবেত লাখো মানুষের স্লোগানে ছিল দুইটি মাত্র দাবি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল ও সিলেটের সন্তান ইলিয়াস আলীর সন্ধান। এ দুইটি দাবিতে তারা সকাল থেকে অঝোর ধারার বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হয়েছিলেন নিউফিল্ডে। ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতিতে তারই সাংগঠনিক এলাকায় বক্তব্য দিতে গিয়ে খালেদা জিয়ার কণ্ঠে ফেটে পড়ে সরকারের প্রতি ক্ষোভ। তিনি বলেন, সিলেটের প্রিয় সন্তান ইলিয়াস আলী। সে বারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। সরকারের কাছে জানতে চাই- ইলিয়াস আলী কোথায়? ইলিয়াসকে সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থাই গুম করেছে। তাকে জীবিত ফেরত চাই। ইলিয়াস আলীর কিছু হলে সরকারের লোকজনকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সময় লাখো মানুষের স্লোগান ছিল- ‘ইলিয়াস আলীকে জীবিত ফেরত চাই’।
ইলিয়াস আলীর শিশুকন্যা সাইয়ারা নাওয়ালের একটি মানবিক লিফলেট অন্যরকম এক আবেগ ছড়িয়েছে জনসভায়। বাবাকে জীবিত ফিরে পেতে সরকারের উদ্যোগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দাবি জোরালো করতে দেশবাসীর প্রতি এ আবেদন করেছে সাইয়ারা নাওয়াল। নিজের কান্নাজড়িত ছবি ও ইলিয়াস আলীর ছবি সংবলিত ওই লিফলেটে সাইয়ারা লিখেছে- ‘আপনাদের ঐকান্তিক ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমার বাবা ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার প্রতীক্ষায় রইলাম।’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট