Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘রামুর ঘটনায় ইন্ধনদাতা ৪ জন’, মিছিলে নেতৃত্বদাতা হাফেজ গ্রেপ্তার

বৌদ্ধ বসতিতে তাণ্ডবের ঘটনায় মিছিলে নেতৃত্বদাতা হাফেজ আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওদিকে গ্রেপ্তারকৃত ট্রাক হেলপার রমজান ঘটনায় জড়িত ও ইন্ধনদাতা ৪ জনের নাম বলেছে। তার বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরদিকে রামুর বৌদ্ধ বসতিতে সংঘটিত তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও বসত ঘর পরিদর্শনে আজ রামু আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১১টায় কক্সবাজার পৌঁছবেন তিনি। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রামুর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পরিবারগুলোতে ত্রাণ ও অনুদান বিতরণ করবেন। এরপর দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সভা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে। জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকালে কক্সবাজার শহরে পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ ও যুবমহিলা লীগ প্রস্তুতি সভা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বর্তমানে কক্সবাজার অবস্থান করছেন।
মিছিলে নেতৃত্বদানকারী হাফেজ গ্রেপ্তার: রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রথম মিছিলে নেতৃত্বদানকারী হাফেজ আহমদ হাসানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতে সংঘটিত ঘটনার ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখে তাদের আটক করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে ট্রাক হেলপার মো. রমজান আলী জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত ও ইন্ধনদাতা ৪ জনের নাম বলেছে। এরা হলো আমিন, হারুন, রফিক ও রমজান। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গতকালও আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল, নাগরিক প্রতিনিধি দলসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া রামু ও কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ঘটনার ৮ দিন পরও রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।
মিছিলে নেতৃত্বদানকারী হাফেজ আহমদ গ্রেপ্তার: রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার আগে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মিছিলে নেতৃত্বদাতাদের একজন হাফেজ আহমদ হাসানকে শনিবার রাতে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতে রামুতে সংঘটিত ঘটনার ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখে তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এছাড়া গত দু’দিনে কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার মোক্তার আহমদ, বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম, রামুর শ্রীকুলের ওমর ফারুক (১৮), ফাতেখারকুলের আমতলিয়া পাড়ার জসীম উদ্দিন (২৫) ও বেলাল (৩০)-কে আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় এরা সরাসরি অংশ নিয়েছিল। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে এদের শনাক্ত করা হয়। সহিংস ঘটনায় রামু পুলিশ এ পর্যন্ত ৭৭ জনকে আটক করেছে।
কে এই হাফেজ আহমদ: রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার আগে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মিছিলে নেতৃত্বদাতা হাফেজ আহমদ হাসান ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীকুল গ্রামের বাসিন্দা। সে রামু উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা  সাব্বির আহমদের ভাই। হাফেজ আহমদ ঘটনার দিন রামুর ফকিরাবাজারে অবস্থিত ফারুক কমিপউটার টেলিকম নামে একটি দোকান থেকে এ ছবি প্রিন্ট করে সরবরাহ করেন এবং হৈ চৈ করতে থাকেন। ওই দিন হাফেজ আহমদ বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোনে লোকজনকে রামু আসতেও বলেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, হাফেজ আহমদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করার অভিযোগ এনে শনিবার রাতে সর্বপ্রথম এই ব্যক্তির নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। তিনিই মিছিলে উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন।
হদিস নেই উত্তম বড়ুয়ার: যে যুবকের জন্য রামুতে এত বড় তাণ্ডব ঘটে গেল, সে যুবক উত্তম বড়ুয়ার কোন হদিস নেই। তার মা, বোন ও খালা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলা হলেও কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে তা জানা যায়নি। তাদের ব্যাপারে আত্মীয় স্বজনও কিছু জানে না। উত্তম বড়ুয়ার বাড়িটিও এখনও তালাবদ্ধ। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে উত্তম বাড়িতে আসেনি। সে কোথায় আছে তা-ও জানেন না তারা।
আলোচিত হচ্ছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা: রামুর বৌদ্ধপল্লী ও মন্দিরে হামলার ঘটনার ৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু ঘুরেফিরে বারবার আলোচিত হচ্ছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার কথা। এদিকে রামু থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটিও। পুলিশের এক সদস্য তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভূমিকা রহস্যজনক ছিল। তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আর কয়েকজন কনস্টেবলও হামলাকারীদের উসকানি দিয়েছেন। এমনকি ওসি নজিবুল ইসলাম হামলাকারীদের মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বলেছেন- আমার পোশাক না থাকলে আমিও তোমাদের সঙ্গে মিছিলে যেতাম। একই সময়ে রামুতে দায়িত্বরত ডিএসবির কর্মকর্তা তাজুল ইসলামও উসকানিমূলক ভূমিকা রেখেছেন। এসব অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। রামুতে তাণ্ডবের পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলীকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়। ইতিমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার জন্য ওসি এ কে নজিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটির কাছে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও কয়েকজন কনস্টেবল জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে (২৯শে সেপ্টেম্বর) ওসি তাকে ফোন করে দ্রুত আসতে বললে তিনি আসেন। তিনি এসে দেখেন, রামু বাজারের মোড়ে ফারুকের দোকানে অনেকে জড়ো হয়ে ফেসবুকের ছবি দেখছেন। তিনি দোকানে ঢুকে দেখতে পান, উত্তর কুমার বড়ুয়া নামের এক তরুণের ফেসবুক থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার একটি ছবি তার ২৬ জন বন্ধুর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি কমিপউটারটি জব্দ করে থানায় আনেন। এরপর উত্তমকে গ্রেপ্তার করতে তার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, উত্তমের মা ও তার বোন ছাড়া বাসায় কেউ নেই। তিনি তাদের আটক করে থানায় আনেন। রামু মোড়ে এসে দেখতে পান, সেখানে সমাবেশ হচ্ছে। এতে রামু নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নূরুল ইসলাম সেলিম ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা আনসারুল হকসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। ওসিও বক্তব্য দেন। এক ঘণ্টা পর সমাবেশটি শেষ হয়। এলাকায় তখন উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু  ওই সময় ওসি একেবারে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ওসি শ্রীকুলের লালচিং মন্দিরে পাহারার জন্য যেতে বললে তিনি ৩ সহকর্মী নিয়ে সেখানে যান। ওই মন্দিরে হামলার চেষ্টা করা হলে তিনি ওসিকে ফোন করেন এবং অতিরিক্ত লোক চান। বারবার ফোন করলেও ওসি সাড়া দেননি। ফলে ৩ জন কনস্টেবল নিয়ে মন্দিরের সামনে তিনি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সামনেই মন্দিরটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কয়েকজন বৌদ্ধ যুবক অভিযোগ করেন, রাত ১০টার দিকে একটি মিছিল কেন্দ্রীয় সীমা বৌদ্ধবিহার প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি চলে যাওয়ার পর বৌদ্ধ যুবকরা মন্দির রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তখন ওসি ওই স্থান থেকে তাদের তাড়িয়ে দেন। বৌদ্ধ যুবকদের উদ্দেশ্য করে ওসি বলেন,  তোমরা চলে যাও, কোন সমস্যা হবে না। শুধু ওসি নন, রামু থানার কনস্টেবল তাজুল ইসলাম ও আবদুর রউফ সরাসরি হামলাকারীদের সহায়তা করেছেন। তারা লোকজনকে নানাভাবে উসকানিও দিয়েছেন।
হামলাকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু -ড. কামাল হোসেন: গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ রোববার দুপুরে কক্সবাজারের রামুতে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি সীমা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ সত্যপ্রিয় মহাথেরোসহ  বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতের বৌদ্ধ বিহারে হামলা ভাঙচুরের বিবরণ তুলে ধরেন। পরিদর্শন শেষে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বৌদ্ধ বিহারে হামলা এটি শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়। এটি দেশের জাতিসত্তার ওপর আঘাত। তিনি বলেন, যারা রামুতে জঘন্যতম ও বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা মানুষ নয়, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। প্রশাসনের যাদের নিষ্ক্রিয়তা, অবহেলা ও নীরবতায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। আমরা পৃথিবী জুড়ে মাথা উঁচু করে বলে বেড়িয়েছি বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। কিন্তু রামুতে বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের ওপর নাশকতার ঘটনায় এখন আমাদের মাথা নিচু হয়ে গেছে। এটা শুধু একটি গোত্রের ওপর আক্রমণ না, এটা সমগ্র জাতির ওপর আক্রমণ। তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের আদেশের পরেও ঘটনা ঘটলো, তাহলে আপনাদের আদেশের কোন মূল্য নেই। রাষ্ট্র ও আমাদের মানুষ দুর্বল না। আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, যুগ্ম সম্পাদক অওম শফি উল্লাহ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. সুব্রত চৌধুরী, এড. শান্তিপদ ঘোষ, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এড. জগলুল হায়দার, রফিকুল ইসলাম প্রতিক, শেখ বাতেন, এড. সেলিম আকবর প্রমুখ। এ সময় গণফোরাম নেতৃবৃন্দ রামুর ভান্তে সুনন্দপ্রিয়থের ভিক্ষু, কেন্দ্রীয় সীমা বিহার কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়ুয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
নাগরিক প্রতিনিধি দল: এছাড়াও গতকাল রোববার সকালে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে নাশকতার ঘটনাবলী সরজমিন পরিদর্শন করেছে নাগরিক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন গণ-ঐক্যের আহবায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারিক আলী, প্রকৌশলী সরদার আমীন, সাংবাদিক সালিম সামাদ, জাগরণ চাকমা, অনন্ত ইউসুফ, ইয়াসমিন পিউ, নাদিয়া, আইইডি’র নির্বাহী পরিচালক নুমান আহম্মেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজীব মীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দীপায়ন খীসা, মানবাধিকার কর্মী অদিতি ফাল্গুনী, ওয়াসফিয়া নাজনিন, নাইলা বারী, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল চাকমা, আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এড. নীলুফার বানু।
সর্বদলীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি আ স ম আবদুর রবের: কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহারে সহিংস ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সব শ্রেণী-পেশা ও ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয়’ গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছেন জাসদের সভাপতি আ স ম আবদুর রব। গতকাল রোববার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে রামু, উখিয়া ও টেকনাফে যা ঘটেছে, তা জাতির চেতনাকে আঘাত ও  জাতিকে অসম্মানিত করেছে। পাশাপাশি জাতীয় অহংকারকে অমর্যাদা করেছে। তিনি আরও বলেন, এ সহিংসতা রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসন সম্পূর্ণই ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনার উৎস, পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য ও বিরোধী দলের বক্তব্য তদন্তকে অর্থহীন করে ফেলবে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রশাসনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই আর সরকারের প্রতি প্রশাসনের আস্থা নেই’ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে রাজনীতি করা হলে ‘নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না’- ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা কাটবে না এবং হারানো  সম্প্রীতি ফিরে পাওয়া যাবে না। এজন্য তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
রামুর পরিস্থিতি ভয়াবহ: পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের চেয়ে ঘটনা অনেক বেশি ভয়াবহ; বীভৎস ও নারকীয়। কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিধ্বস্ত বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সৈয়দ আবুল মকসুদ একথা বলেন। ঢাকা থেকে নাগরিক প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাগরিক প্রতিনিধি দলের প্রধান আবুল মকসুদ আরও বলেন, ২৯শে সেপ্টেম্বরে রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় বৌদ্ধদের উপাসনালয়, বসতবাড়ি ও বৌদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে জাতীয় জীবনে, সরকার ও জনগণের ওপর। এ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হচ্ছে হিংসার বহিঃপ্রকাশ। সৈয়দ আবুল মকসুদ এ ঘটনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের উদ্দেশে রাজনীতি বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ঘটনা নিয়ে উভয় দলই রাজনীতি করছে। এক দল অন্য দলকে দাষারোপ করছে। এতে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। সরকার ও বিরোধী দলের কাছে আমাদের অনুরোধ এই ঘটনা নিয়ে যেন রাজনীতি না করা হয়। যদি হয়- তাহলে আমরা বরদাশ্‌ত করবো না। এটা জাতির জন্য কলঙ্ক। রামুর ঘটনায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তাতে যেন নুনের ছিটা না দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে গণঐক্যের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। নাগরিক পরিদর্শন দলে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারিক আলী, প্রকৌশলী সরদার আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দীপায়ন খীসা, মানবাধিকারকর্মী নাইলা বারী, আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নীলুফার বানু, ইয়াসমিন পিউ প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট